সরাইলে সন্ত্রাসী হামলার ভয়ে বাড়িতেই অফিস করছেন এক ইউপি চেয়ারম্যান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ—
সন্ত্রাসী হামলার ভয়ে সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও পরিসংখ্যান বিষয়ক সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম খোকন তার নিজ বাড়িতে থেকেই পরিষদের যাবতীয় কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
রোববার দুপুরে সরেজমিন শাহজাদাপুর ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। পরিষদ সচিব মোঃ সুমন মিয়া জানান, ২৮ জানুয়ারী পরিষদের মাসিক সভা ও গত ৫ ফেব্রুয়ারী বিশেষ সভা চেয়ারম্যানের বাড়িতেই হয়েছে। তাছাড়া পরিষদের নানা কাজের কাগজপত্রে চেয়ারম্যান তার বাড়িতে বসেই স্বাক্ষর দিয়ে যাচ্ছেন। ইউপি সদস্য মোঃ নীল মিয়া জানান, সন্ত্রাসী হামলার ভয়ে চেয়ারম্যান পরিষদে আসছেন না। পরিষদের কাছাকাছি চেয়ারম্যান তার বাড়িতে বসেই অফিস করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাহাজাদাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ সায়েফ উল্লাহ ঠাকুরের ছোট ভাই সোহরাফ উল্লাহ ঠাকুর গত বছরের ১ জানুয়ারী প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন। এ ঘটনায় সায়েফ উল্লাহ ঠাকুর বাদী হয়ে ১৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে ৩নং আসামি করা হয়। পরবর্তীতে আসামি পক্ষের বাড়িঘরে দফায় দফায় হামলা, লুটপাট ও ভাংচুর করা হয়। এতে ১৮ থেকে ২০টি পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। এলাকার মানুষের মাঝে বিরাজ করছে অজানা আতঙ্ক। এসব ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। তবে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রামটিতে শান্তি ফিরিয়ে আনতে নানা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে এলাকার অনেকে জানিয়েছেন। ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম খোকন জানান, নিহত সোহরাফ উল্লাহ ঠাকুরের সাথে যাদের বিরোধ ছিল তাদের সাথে আমার কোন ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই। তবুও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমাকে এ মামলায় আসামি করে। পুলিশের তদন্ত শেষে আদালতে দেয়া অভিযোগপত্রে (চার্জশীট) আমার নাম বাদ দেয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে একটি বিশেষ মহলের জোগসাজশে এ মামলায় আমাকে আসামি করে। বর্তমানে আমি জামিনে আছি। কিন্তু সায়েফ উল্লাহ’র ভাই আরমান ও তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীর বিভিন্ন ধরণের হুমকি এবং হামলার ভয়ে আমাকে বাড়িতেই অফিস করতে হচ্ছে। তারা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছে চেয়ারম্যান পরিষদে বসে কিভাবে অফিস করে তা দেখে নেয়া হবে। এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করলে শাহজাদাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সায়েফ উল্লাহ ঠাকুর জানান, ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম আমার ভাই হত্যার তিন নম্বর আসামি। আমার জানা মতে হত্যা মামলার আসামি হিসেবে এ চেয়ারম্যান পরিষদ পরিচালনা করতে পারেন না। এ পরিষদের একজন ইউপি সদস্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। চেয়ারম্যানকে হুমকি দেয়ার বিষয়টি সত্য নয় বলেও জানান তিনি। সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান খান জানান, মূলত শাহজাদাপুর ইউপি চেয়ারম্যানকে সরকারিভাবে তার দায়িত্ব থেকে কেউই সরাননি। মামলায় আসামি হওয়ায় তিনি নিজে থেকেই পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ কে দায়িত্ব দেন। পরে এলাকায় ফিরে পরিষদ পরিচালনার দায়িত্ব তিনি আবার বুঝে নেন। এ দু’টি বিষয় ইউপি চেয়ারম্যান চিঠির মাধ্যমে প্রশাসনকে অবগত করান। রফিকুল ইসলাম খোকন বর্তমানে তার পরিষদে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনে আইনি কোন বাধা রয়েছে কি না ? এমন প্রশ্নের জবাবে ইউএনও জানান, এতে কোন আইনগত বাধা নেই। প্রতিপক্ষের হামলার আশঙ্কায় চেয়ারম্যান তার বাড়িতে বসেই অফিস করছেন এই বিষয়টি জেনেছেন বলেও তিনি জানান।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply