শিক্ষার প্রতি অদম্য উজ্জ্বল স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যাচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রতিবন্ধী উজ্জ্বল

sarail pic 10-2-13= (2)স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ—
লেখাপড়ার প্রতি অদম্য আগ্রহ শারিরীক প্রতিবন্ধী উজ্জ্বল মিয়ার। দুপায়ে তার চলার শক্তি নেই মায়ের কাঁধে এবং লাঠি ভর করে সে স্কুলে নিয়মিত আসা যাওয়া করেছে । এবছর এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে হুইল চেয়ারে বসে। তার স্বপ্ন সে লেখাপড়া করে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেবে। পুলিশের কম্পিউটার বিভাগে সে কাজ পাবে এমন আশা তার। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের হাই স্কুল পাড়ার দিনমজুর আব্দুল হান্নান মিয়ার ছেলে প্রতিবন্ধী উজ্জ্বল মিয়া। মাতা রোকেয়া বেগম। জন্ম থেকেই তার পায়ে চলার শক্তি ছিল না। প্রতিবন্ধী বড় হয়েছে হামাগুড়ির দিয়ে দিয়ে। মমতাময়ী মায়ের সহযোগিতা আর সাহসে জীবন নিয়ে তার সংগ্রাম এগিয়ে যায়। স্কুলেও ভর্তি হয় এবং নিয়মিত পড়াশোনা করে এ পর্যন্ত এসএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত এগিয়ে গেছে। গত শুক্রবার উজ্বল মিয়া এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে সরাইল কেন্দ্রর সরাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভেন্যুতে। পরীক্ষা শেষে সে কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে এসে জানায়, পরীক্ষা ভাল হয়েছে। উজ্বল মিয়া সাংবাদিকদের জানায়, সে প্রতিবন্ধী এ ব্যাপারে কোন দুশ্চিন্তা তার নেই । সে শিক্ষিত হতে চায়। ভবিষতে পুলিশের কম্পিউটার বিভাগে চাকুরী নেয়ার ইচ্ছা রয়েছে। এই ইচ্ছার ব্যাপারে উজ্জ্বল আবেগ আর ক্ষোভে জানায়, তার ছোট দু’বোন ইকরা ও মাহমুদা আক্তার মুক্তা দু’জনেই সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী। বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে বখাটেরা প্রায়ই তাদের উত্যক্ত করে। কিন্তু তাদের বড় ভাই হিসেবে প্রতিবন্ধী হওয়ায় সে প্রতিবাদ করতে করতে পারে না। তাই সে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দিতে চায়। কম্পিউটার বিভাগে সে কাজ করতে পারবে বলে আশাবাদী।
উজ্বল আরো জানায়, ষষ্ট শ্রেণী পর্যন্ত লাঠি ভর করে ও মায়ের হাত ধরে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করেছে। এ অবস্থা দেখে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাকে টিফিনের টাকায় একটি হুইল চেয়ার কিনে দেয়। দীর্ঘ দিন ব্যবহারে এটি পুরনো ও বিকল হয়ে গেলে গত ক’মাস আগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী স্যার আরও একটি হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা করে দেন সরাইল সমাজ উন্নয়ন কেন্দ্র নামক বেসরকারী একটি সংস্থা থেকে। তিনি লেখাপড়ায় অনুপ্রেরণা দেয়ার পাশাপাশি সমাজসেবা বিভাগ থেকে আমাকে শিক্ষা উপবৃত্তির ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন। উজ্জ্বল এর মা রোকেয়া বেগম জানান, তার প্রতিবন্ধী ছেলে উচ্চ শিক্ষার একটি অধ্যায়ে এসে পরীক্ষা দিচ্ছে এতে তিনি খুব খুশী। দুই মেয়ে এক ছেলের মধ্যে উজ্বল তার বড় সন্তান। দিনমজুর স্বামীর রোজগারে সংসারে নূন আনলে ডাল কেনার টাকা থাকে না। বাড়ির বসবাসের জায়গা মাত্র আধা শতাংশ। এর মধ্যেই অতিকষ্টে পরিবার নিয়ে দিনযাপন করছে সে। প্রতিবন্ধী ছেলের শিক্ষা উপবৃত্তির টাকায় তিন সন্তানের লেখাপড়ার খরচ কোনভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন। ইকরা ও মুক্তার লেখাপড়া এক খরচায় চালিয়ে নিতে বড় মেয়ে ইকরাকে দু’বছর এক ক্লাশে রাখা হয়। তারা এখন সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে। একটি বই কিনলে তা দিয়ে দু’বোনের পড়ার কাজ চলে। অভাবের সংসার সন্তানদের ভালো কোন খাবার দিতে পারেন না।
এদিকে সরাইলের সহকারী কেন্দ্র সচিব মোঃ আইয়ূব খান জানান, প্রতিবন্ধী উজ্বল মিয়াকে পরীক্ষা কেন্দ্রের নিয়মানুযায়ী সকল সুবিধা দেয়া হচ্ছে।
শাহবাজপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী জানান, উজ্বল প্রতিবন্ধী হলেও লেখাপড়ায় তার বেশ আগ্রহ ও মনোযোগ রয়েছে। সে দরিদ্র পরিবারের সন্তান। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমরা তার লেখাপড়ার সুবিধার্থে নানা সহযোগিতা করে যাচ্ছি। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল ইসলাম জানান, সপ্তম শ্রেণী থেকেই উজ্বল মিয়া প্রতিবন্ধী ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচি’র শিক্ষা উপবৃত্তির টাকা পেয়ে আসছে। এ উপজেলায় ১৭ জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী শিক্ষা উপবৃত্তির সুবিধা ভোগ করছে। তাছাড়া এখানকার প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে সমাজসেবা বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।

Check Also

আজ শোকাবহ ১৫ আগস্ট : বাঙালির অশ্রু ঝরার দিন

  কুমিল্লাওয়েব ডেস্ক:– আজ শোকাবহ ১৫ আগস্ট। জাতীয় শোক দিবস। বাঙালির অশ্রু ঝরার দিন। ১৯৭৫ ...

Leave a Reply