অভিভাবক মহলে ক্ষোভঃ নাসিরনগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক নেই, বিদ্যালয় এখন পরীক্ষা কেন্দ্র ॥ শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

untitledআকতার হোসেন ভুইয়া,নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) থেকেঃ—
একমাত্র নারী শিক্ষার বিদ্যাপীঠ নাসিরনগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি পরপর চারটি পরীক্ষা কেন্দ্র হওয়ায় ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বিদ্যালয়টি ধীরে ধীরে অতীত ঐতিহ্য হারাচ্ছে। ১৯৭০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর সরকারিকরণের পর বিদ্যালয়ের বাহ্যিক দিক পরিপাটি হলেও কোন শিক্ষকের নতুন পদ সৃষ্ঠি ও শূন্য পদগুলো পূরণ করা হয়নি। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছে মাত্র ৪ জন। এরমধ্যে একজন শিক্ষক বিভিন্ন অনিয়মের কারণে বরখাস্ত থাকায় এ পদে কাউকে নিয়োগ দেয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকসহ ইংরেজী, গণিত, বাংলা, ইসলাম ও হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষক ও ৪র্থ শ্রেনীর কোন কর্মচারী নেই। দীর্ঘ দিন যাবৎ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রায় ভেঙ্গে পড়ার পাশাপাশি দিন দিন শিক্ষার মান হ্রাস পাচ্ছে। এক ধরণের ফ্রি-স্টাইলে স্কুল চলছে। শিক্ষক সংকটের কারণে বছরের পর বছর ধরে এসএসসি ও অষ্টম শ্রেনীর সমাপনী পরীক্ষার ফল বিপর্যয় ঘটেছে। ফলে অভিভাবক মহলে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ। বিদ্যালয়টিকে ঘিরে রয়েছে উপজেলা পর্যায়ের সকল সরকারি অফিস ও কোয়ার্টার। লেখাপড়ার মানের দিক থেকে এ বিদ্যালয় খুবই নিম্নমানের বিধায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সচেতন অভিভাবকরা তাদের মেধাবী ছাত্রীকে অন্যত্র ভর্তি করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে দিন দিন মেধা শূন্য হয়ে পড়ছে। শিক্ষার্থীরা জানায়, সব ক্লাসে শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকলেও শিক্ষকের অভাবে ঠিকমত ক্লাস নেয়া হয়। বাউন্ডারির ভেতরে খেলাধূলা আর গল্প-গুজব করে সময় কাটাতে হচ্ছে। এ বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের আবাসিক ভবন ও ছাত্রী হোস্টেল নেই। বানিজ্য শাখায় ছাত্রীদের পড়ার আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয়টিতে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত ব্যবসা শিক্ষা শাখা খোলা হয়নি। তাছাড়া কৃষি বিষয়ের শিক্ষক থাকলেও বিষয় নেই শুরু থেকে। ফলে ছাত্রীরা কৃষি বিষয়সহ অন্য শাখায় পড়তে বাধ্য হচ্ছে। এদিকে বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে পরীক্ষা কেন্দ্রে হওয়ায় এ বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের পড়ালেখায়ও দারুনভাবে বিঘিœত হচ্ছে। উপজেলা সদরে অবস্থিত সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেনীর সমাপনী পরীক্ষা, জেএসসি,এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করায় ওই সময় বিদ্যালয়টি বন্ধ থাকায় এ বিদ্যালয়ের প্রায় তিনশতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবনে বির্পযয় নেমে আসে। অভিভাবকরা এবিদ্যালয় থেকে কেন্দ্র স্থানান্তর করে অন্যত্র স্থাপনের দাবী জানিয়েছে। শিক্ষা র্বোডের নিয়ম অনুয়ায়ী এচইএসসি পরীক্ষার্থীরা নিজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে পারবে না। এ কারণে কর্তৃপক্ষ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে,জেএসসি,এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র হিসাবে নির্বাচন করে। উপজেলার ২টি বেসরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা এ কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়। জেএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পরই শুরু হয় পঞ্চম শ্রেনীর সমাপনী পরীক্ষা । বর্তমানে শুরু হয়েছে এই বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পরই আবার শুরু হবে এইচএসসি পরীক্ষা। ফলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া মারাতœকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এব্যাপারে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ আলমগীর মিয়া জানান,এ বিদ্যালযে একদিকে শিক্ষক সংকট অন্যদিকে পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় চরম ক্ষতি হচ্ছে। তবে শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণে উর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। এতে কোন কাজ হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিহা ফেরদৌসী জানান.আমি এ উপজেলায় যোগদানের পর এবিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের বিষয়টি শুনেছি তবে এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মহোদয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে ।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply