কর্মক্ষেত্রে নারীবান্ধব পরিবেশে বজায় রাখার প্রত্যাশায়———–রাশিদা হাই

জীবন ও জীবিকার তাড়নায় হোক কখনোবা পরিবারের হাল ধরতে কিংবা পরিবার ও সমাজ তথা দেশ ও জাতীর উন্নয়নে যোগ্যতার কাজে লাগাবার প্রয়োজনে হোক আমাদের নারীরা আজ শিক্ষা সংস্কৃতি ও কর্মক্ষেত্রে অনেকদূর এগিয়ে। সে তুলনায় আমাদের কর্মস্থল ও কর্মপরিবেশ কতটুকু নারীবান্ধব? এটা ভাববার বিষয়! আমরা শুধু অসহায় বা নিম্নবিত্ত শ্রেণীর মেয়েদের নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে কথা বলি কিংবা বলতে ভালোবাসি। এর কারণ কি তাঁদের অসহায়ত্ব?
বাংলাদেশের নারী পিছিয়ে নেই। সর্বত্রই আজ তাঁদের দৃপ্ত পদচারণা। আশারই কথা! কিন্তু দৃপ্ত এসব নারীর মাঝে কতটা অসহায়ত্ব ও হাহাকার বিরাজ করছে তা আমরা ক’জনবা অবহিত? কখনো জানতে কিংবা বুঝতে চেষ্টা করেছি কি? করলেও ক’জনাইবা করছি! কতজনই বা সচেতন আছি। নিরাপত্তা এবং নারীবান্ধব কর্মপরিবেশের অভাবে কতযে নারীরা প্রতিনিয়ত ঝরে পড়ছেন, তার ইয়ত্যা নেই। অথচ ঝরে পড়া রোধেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো ঝরে পড়া রোধে কর্মস্থলেও চাই সচেতনতা বৃদ্ধি, সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও এর যথাযথ বাস্তবায়ন।
শিক্ষিত স্বাবলম্বী নারীগন যথাযোগ্য স্থানে যেতে পারছেন না হাতে গোনা কয়েজন ছাড়া। গেলেও বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন। পিছিয়ে পড়ছেন। অন্ধকার হয়ে এলে পুরুষ সহকর্মীর জন্য বাড়ি ফেরাটা যতটা নিরাপদ, একজন নারী সহকর্মীর জন্য ততটা নয়। তাহলে কেন জোর গলায় নিরাপত্তার দাবি তুলছি না?
শিক্ষিত ও যোগ্য মেয়েরা চাকরি কিংবা কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী-আত্মনির্ভরশীল হবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু স্বামী, সন্তান, পরিবারকে বাদ দিয়ে তো নয়! কর্মক্ষেত্র, কর্মপরিবেশ এ ক্ষেত্রে কতটুকু সহায়ক? যোগ্যতা, চেষ্টা, মেধা সবকিছু থাকা সত্ত্বেও কর্মস্থলে কিছু কিছু পুরুষের হীনম্মন্য লালসা কিংবা প্রতিহিংসার বলি হবার আতংকে পিছিয়ে কিংবা ঝরে পড়ছেন অজস্র নারী।
সম্প্রতি কর্তব্যরত অবস্থায় খুন হন একজন নারী চিকিৎসক। এর আগে একজন পুরুষ সহকর্মীর বোমার আঘাতে আহত হন একজন নারী। এ তো গেল সহিংসতার এক ভয়াবহ চিত্র। এর চেয়ে কি নিচে নামা যায়? এ রকমই কত নিঃশব্দ সহিংসতা মেনে নিয়ে কর্মস্থলে কর্মরত নারী প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা মনন ও মানসিকতায় আরো উর্ভর কি হতে পারিনা! শুধু গার্মেন্টস নয়, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কেমন আছেন নারী শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তারা! নিজেদের সমালোচনা করতে হবে বলে কথা বলব না কিংবা প্রতিবাদ করব না, তা’তো আদৌ ঠিক নয়। সম্মান দিতে শিখি নিতে শিখি আচরণ ও ব্যবহারের মাধ্যমে। তবে হা’ নারীদেরও এসব ক্ষেত্রে পোষাকে-কাশাকে আচারে-ব্যবহারে সম্মান পাবার উপযোগী মার্জিত ও শালীন হওয়া অত্যাবশ্যক।
যে নারীরা নির্যাতিত, নিপীড়িত, বৈরী পরিবেশের কারণে ঝরে পড়ছেন তারা কারো না কারো মা, বোন, মেয়ে, কিংবা স্ত্রী। এদের পথ অতো অসহায়ত্বের কন্টকাকীর্ণ হবে কেন? মানুষ হিসেবে আমরা সবাই কি ভাবতে পারিনা! আমার মা, শাশুড়ী, বোন, মেয়ে, স্ত্রী যে কেহ হলে তার সম্মান-মর্যাদা রক্ষায় আমি কতটা সচেতন থাকতাম! তা কি অন্য কারো মা, শাশুড়ী, বোন, মেয়ে, স্ত্রী’র সম্মান সম্ভ্রমের প্রতি বাঞ্চনীয় নয়! আমার ক্ষেত্রে যেমনি কল্যাণকর ও সুন্দর ভাবতে পারি তেমনি সবার জন্য ভাবতে পারলেই তো জগতটা শুধু কর্মক্ষেতে নারীবান্ধবই নয় মানববান্ধ হওয়া অতি সহজ! পাষণ্ড পশুত্মতার কাতার থেকে মানবতার কাতারে দাঁড়াই সবাই।

রাশিদা হাই
সেনবাগ, নোয়াখালী থেকে
rashidahai@gmail.com

Check Also

মিনি ওয়াক-ইন-সেন্টারের মাধ্যমে রবি’র গ্রাহক সেবা সম্প্রসারণ

ঢাকা :– গ্রাহক সেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড সম্প্রতি মিনি ওয়াক ...

Leave a Reply