প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি : সরাইলে বসতবাড়ির উঠানে ব্রীজ

আরিফুল ইসলাম সুমন, সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) থেকেঃ—
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বসতবাড়ির উঠানে সেতু (ব্রীজ)। সেতুর তিন পাশে গড়ে উঠেছে বসতঘর। সেতুটিতে রাখা হয়েছে ইট ও বালু। যেকোন সময়ে সেতুটি ভেঙে ফেলা হতে পারে বলেও জানিয়েছে বাড়ির লোকেরা। এদিকে স্থানীয়রা জানান, শতবছরের পুরনো কালীকচ্ছ-বিশুতারা নামক খালের উপর নির্মিত হয় এ সেতুটি। একমাস আগেও এ সেতুর নীচ দিয়ে পানি নিস্কাশন ছিল। বিশুতারা গ্রামের প্রভাবশালী আব্দুন নূর ও তার ছেলে সবুত আলী সেতুর পশ্চিমপাশে খালে মাটি ফেলে ভরাটের পর এখানে ঘর নির্মাণ করে। অপরদিকে সেতুর পূর্বদিকে খাল দখল করে মাটি ভরাট করেছে গ্রামের মৃত সহিদ মিয়ার দুই ছেলে ইসকান্দর ও আরিজ মিয়া। তাদের সাথে পাল্লা দিয়ে খাল দখল করেছে মৃত চান্দু মিয়ার ছেলে মনছুর আলী। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ক’বছর আগে ত্রাণ ও পুনবার্সন অধিদফতরের বরাদ্দে নয় লাখ টাকা ব্যয়ে কালীকচ্ছ-বিশুতারা খালের উপর এ সেতুটি নির্মাণ করা হয়। বিশুতারা গ্রামের ইউপি সদস্য মো. ফজল ইসলাম জানিয়েছে, এ খাল দখল হয়ে যাওয়ায় এলাকার শত শত একর কৃষি জমিতে সেচ সংকট দেখা দিয়েছে। খালের উপর নির্মিত ব্রীজের দু’পাশ ভরাট করে প্রভাবশালীরা একাধিক ঘর নির্মাণ করেছে। এতে এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। দখলদারদের বাধা দেয়া হয়েছিল। স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তাও খাল দখলের দৃশ্য এসে দেখে গেছেন। প্রভাবশালীরা তা আমলেই নেয়নি। শুনেছি পরে ভূমি কর্মকর্তাদের সাথে দখলদারদের আলোচনা হয়েছে। সরকারি এ জায়গা তারা বন্দোবস্ত দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। গ্রামের বাসিন্দা মো. হরমুজ আলী মাস্টার জানিয়েছে, এ খাল ভরাটের কারণে এলাকায় পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। খালের উপর নির্মিত ব্রীজের দু’পাশ দখল হয়ে গেছে। এতে পানি নিস্কাশন বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে সোমবার খোঁজ করলে দখলদার আব্দুন নূরকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী রমচাঁন বেগম জানিয়েছে, একদিনে এ খাল ভরাট করা হয়নি। গত ২০/২৫ দিন ধরে এখানে (খালে) মাটি ফেলা হয়েছে। কেউ বাধা দেয়নি। সরকারের লোকেরা এসেছিল। পরে অফিসে গিয়ে আমার স্বামী দেখা করে এসেছেন। অপর দখলদার সবুত আলীর স্ত্রী মিনারা বেগম জানিয়েছে, এখানে (খালে) প্রায় চার লাখ টাকার মাটি ফেলা হয়েছে। এটি সরকারি জায়গা আমরা তা জানি। কিন্তু খালের অন্যদিকের জায়গাও লোকজন দখল করেছে। সরকারি লোকেরা বলেছেন টাকা-পয়সা জোগাড় করতে। তারা এ জায়গা আমাদের নামে বন্দোবস্ত দিয়ে দিবেন। ইসকান্দর আলী জানিয়েছে, ভূমি কর্মকর্তা এসে প্রথমে বাধা দিলেও পরে অফিসে গিয়ে আমরা তার সাথে দেখা করেছি। তিনি বলেছেন এই জায়গা আমাদের নামে বন্দোবস্ত দেয়ার ব্যবস্থা করে দিবেন। কালীকচ্ছ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. তকদীর হোসেন জানিয়েছে, খাল দখলে আমরা (ইউনিয়ন পরিষদ) বাধা দিয়েছিলাম। তারা মানেনি। পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়। এই খাল দখলের কারণে এলাকার জনসাধারণের দূর্ভোগ বেড়েছে। কালীকচ্ছ ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. সোহরাব হোসেন জানিয়েছে, খাল দখলের সময়ে সরেজমিন আমি গিয়ে বাধা দেয়। পরে তারা অফিসে এসেছিল। জায়গাটি বন্দোবস্ত নেয়ার প্রস্তাব দেন তারা। খাল দখলের বিষয়টি লিখিতভাবে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি এর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়। এটি পরে কি হয়েছে তা আমার জানা নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিছুজ্জামান খান জানিয়েছেন, এ খাল জেলা পরিষদের। আমরা দখলের পুরো বিষয়টি লিখিতভাবে জেলা পরিষদকে জানিয়েছি। তারা এর ব্যবস্থা নিবেন।
মঙ্গলবার সরাইলের খাল দখলের বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী আব্দুল মান্নান প্রথমে জানিয়েছেন, আমি এখন ব্যস্ত আছি। পরে ফোন করেন। পরে আবার ফোন করলে তিনি জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। কাগুজপত্র দেখে বলতে হবে।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply