কুমিল্লার দেবিদ্বারে একটি ছাগলের মালিকানা দাবী নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের মারধরে একজন নিহত

দেবিদ্বার প্রতিনিধিঃ—
কুমিল্লার দেবিদ্বারে একটি ছাগলের মালিকানা নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় শান্তি চন্দ্র সরকার(৫৫) নামে এক সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের গৃহকর্তা নিহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটে রোববার দিবাগত রাত ৩টায় উপজেলার ধামতী গ্রামে।
সোমবার দুপুরে ধামতী ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান সাদেকুর রহমান সরকারের নেতৃত্বে ডাকা সালিসে ওই ঘটনা মিমাংসা চলাকালে পুলিশ আসার সংবাদে সালিস পন্ড হয়ে যায় এবং বিকেলে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ওই ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই অমূল্য চন্দ্র সরকার বাদী হয়ে মোঃ সালাউদ্দিন সরকার(৪০), মোঃ গিয়াস উদ্দিন ওরফে বাদল সরকার(৫৫), মোঃ ইয়াসিন সরকার(৩৫)সহ অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১২জনকে অভিযুক্ত করে দেবিদ্বার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত ১৭জানুয়ারী সন্ধ্যায় একটি বেওয়ারিশ ছাগল শান্তি চন্দ্র সরকারের বাড়িতে এলে শান্তি চন্দ্র সরকার তার ছাগলের সাথে বেওারিশ ছাগলটিও বেঁধে রাখেন। গত তিন দিন ধরে ছাগলের মালিকানা দাবী করে অনেকেই ছাগলটি নিতে আসেন, কিন্তু তাদের বর্ননায় বেওয়ারিশ ছাগলের মিল না পাওয়ায় ফিরে যান।
শনিবার রাতে ছাগলের মালিকানা দাবী করে ধামতী গ্রামের মোঃ জসীম উদ্দিন সরকার, মোঃ সালাউদ্দিন সরকার, মোঃ গিয়াস উদ্দিন ওরফে বাদল সরকার, মোঃ ইয়াসিন সরকার, ময়নাল হোসেন, পারভেজ মিয়া, ভুট্টু মিয়া, রুক্কু মিয়াসহ ১০/১২জন লোক আসেন। তাদের দাবীকৃত ছাগলের বর্ননানুযায়ী আটক ছাগলের মিল না হওয়ায় পরদিন সকালে আসার কথা বলে তাদের বিদায় করার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ মারমূখী হয়ে উঠে এবং অকথ্য ভাষায় গালমন্দসহ হত্যার হুমকী দিয়ে চলে যায়। কিছুক্ষন পর ২০/২৫জন যুবক বিভিন্ন মরনাস্ত্র নিয়ে শান্তির বাড়িতে হামলা চালায় এবং ছাগলসহ শান্তি চন্দ্র সরকার ও তার স্ত্রী অঞ্জুলি রানী সরকারকে ইউপি কার্যালয়ে ধরে নিয়ে ছাগল চোর আখ্যা দিয়ে বেধরক মার ধর করে। পরে শান্তির পরিবারের লোকজন এঘটনার জন্য ক্ষমা এবং জীবন ভিক্ষা চেয়ে তাদের বাড়িতে নিয়ে আসে। অসুস্থ্য অবস্থায় একদিন পর রোববার দিবাগত ভোর রাতে তিনি মারা যান।
শান্তি চন্দ্র সরকারের ছেলে দুলাল চন্দ্র সরকার ও উজ্জ্বল চন্দ্র সরকার বলেন, ছাগলটি আত্মসাৎ করার কোন ইচ্ছেই আমাদের ছিলনা। ছাগলের প্রকৃত মালিক খুঁজে পেলে দিয়ে দিতাম। হামলাকারীরা এলাকার চিহ্নীত বখাটে সন্ত্রাসী। ওরা বেওয়ারিশ ছাগলটি ছদগাহ্কৃত মনে করে নিজেদের দাবী করে নিয়ে যেতে চেয়েছিল, তাদের দেয়া তথ্য- বিবরণে ছাগলের মিল না থাকায় বাবা ছাগলটি পরদিন সকালে নিয়ে যেতে বলেন। ওরা ক্ষুব্ধ হয়ে জোর করে ছাগলটির সাথে বাবা এবং মা’কেও ধরে ইউপি কার্যালয়ে নিয়ে ছাগল চোর আখ্যা দিয়ে অমানষিক নির্যাতন চালায়। আমরা প্রাণ ভিক্ষা এবং এ ঘটনায় অপরাধ স্বীকার করে বাবা-মাকে মুক্ত করে নিয়ে আসি। একদিন পর বাবা মারা যান। ধামতী ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান সাদেকুর রহমান সরকারের নেতৃত্বে অপরাধীদের বাঁচাতে থানা-পুলিশ না ডেকে সালিসের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামা চাঁপা দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
ধামতী ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান সাদেকুর রহমান সরকার বলেন, সালিসে গণি সরকারের ছাগল বলে প্রমানীত হয়েছে। শান্তি চন্দ্র সরকারকে মারধর করার কোন স্বাক্ষী প্রমান পাওয়া যায়নি। শান্তি চন্দ্র সরকার গাদিসাইর গ্রামে তার বোনের বাড়িতে বেড়াতে যেয়ে মারা গেছেন। পুলিশ হস্তক্ষেপ করায় সালিস পন্ড হয়ে যায়।
দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) এসএম বদিউজ্জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পুলিশকে না জানিয়ে গ্রাম্য সালিসে ঘটনা ধামাচাঁপা দেয়ার চেষ্টা করেছিল। ওই ঘটনায় মামলা হয়েছে। তদন্ত চলছে, তদন্ত এবং লাশ ময়না তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা বলা যাবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply