লাকসাম-ঢাকা কর্ড লাইন নির্মাণ প্রকল্প ফাইলবন্দি:: রেলকর্ড লাইন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দূরত্ব কমবে ১’শ কিঃ মিঃ

আবদুর রহিম, লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:——-
লাকসাম-ঢাকা রেল কর্ড লাইন প্রকল্পটি দীর্ঘ ৪০ বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের দূরত্ব একশ কিলোমিটার কমানোর লক্ষ্যে গৃহীত লাকসাম-ঢাকা কর্ড লাইন নির্মাণ প্রকল্প ফাইলবন্দি হয়ে আছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম দূরত্ব কমার পাশাপাশি লাকসাম বাসীরও ঢাকার সাথে রেল যোগাযোগ অনেক সহজ হবে। প্রকল্পটিতে অর্থায়ন এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয়ার জন্য ফ্রান্স রেলওয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। কয়েক দফা বৈঠকও হয়। ফ্রান্স থেকে প্রতিনিধি দল এসে এখানে সমীক্ষাও চালায়। এরপরও প্রকল্পের কাজে অগ্রগতি নেই। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে লাকসাম থেকে ঢাকা যাওয়া যাবে মাত্র দেড় ঘণ্টায়।
সূত্র বলেছে, বিশ্বের অনেক দেশেই মানুষ এবং পণ্য পরিবহনের প্রধান মাধ্যম রেল। খরচ সাশ্রয় এবং নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে জলপথের সাথে সাথে রেলপথকে গুরুত্ব দেয়া হয়। উন্নত বিশ্বে রেলওয়েকে বিমানের কাছাকাছিতে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ঘণ্টায় সাড়ে তিনশ কিলোমিটারের ট্রেন আবিষ্কৃত হয়েছে বহু আগে। ইউরোপ, চীন, জাপান, রাশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওই গতিতে ট্রেন চলে। এই গতিকে ঘণ্টায় পাঁচশ কিলোমিটারে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।
প্রতিবেশি দেশ ভারতেও রেলওয়েকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে শক্ত ভিত দেয়া হয়েছে। ভারতে প্রতিদিন এক কোটিরও বেশি লোক ট্রেনে ভ্রমণ করে। অথচ বাংলাদেশের ট্রেনের অবস্থা ঠিক উল্টো। আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে হিসেবে বাংলাদেশে এক সময় রেলওয়ের অবস্থান বেশ পোক্ত হলেও ক্রমে তা নানা সংকটে পড়েছে। প্রয়োজনীয় ট্রেনের অভাব, রাস্তার অভাব, ইঞ্জিনের অভাব এই সংস্থাকে শোচনীয় পর্যায়ে নিয়ে গেছে। বছরের পর বছর ধরে রেলওয়ের উন্নয়নের নানা দাবি করা হলেও কার্যত সবই ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে থাকে। ফলে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে থাকা বাংলাদেশ রেলওয়ের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। এই অবস্থায় বর্তমান সরকার যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে রেলকে পৃথক করে রেল মন্ত্রণালয় গঠন করে। রেলের কালো বিড়াল খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিয়ে শেষতক সত্তর লাখ টাকার এক কেলেংকারিতে জড়িয়ে পদত্যাগ করতে হয় রেল মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে। পরবর্তীতে আবারো যোগাযোগ মন্ত্রীকে বাড়তি দায়িত্ব হিসেবে রেল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিতে হয়। বেশ কয়েক মাস পর আবার নতুন করে রেল মন্ত্রণালয়ের জন্য আলাদা মন্ত্রী দেয়া হয়। আশার ব্যাপার হল তিনি হলেন বাংলার মুজিব বলে খ্যাত চৌদ্দগ্রাম থেকে নির্বাচিত মো: মুজিবুল হক। তার কাছে লাকসাম ও চট্টগ্রাম বাসীর প্রত্যাশা লাকসাম-ঢাকা কর্ড লাইন নির্মাণ প্রকল্পটি ফাইলবন্দি না রেখে এটিকে তিনি আবার পুনঃ জীবিত করবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, রেলের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন করার পর এই খাতে প্রত্যাশিত বিকাশ ঘটবে বলে আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন অনেকেই। কিন্তু সেই আশা পূরণ হয়নি। রেলের বিকাশ ঘাটে ঘাটে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। চট্টগ্রাম-ঢাকা ও লাকসাম-ঢাকা রেললাইন উন্নয়নে গৃহীত প্রকল্পগুলো ফাইলবন্দি হয়ে রয়েছে। দ্রুতগতির বিভিন্ন ট্রেন পরিচালনার জন্য ফ্রান্স রেলওয়ের বেশ সুনাম রয়েছে। বিশ্বখ্যাত এই কো¤পানি কেবল নিজেদের দেশেই নয় বিশ্বের বহু দেশে তাদের প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণ করেছে। বাংলাদেশেও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ করে চট্টগ্রাম-ঢাকা রেলপথের দূরত্ব কমানো এবং সময় বাঁচিয়ে দেয়ার প্রযুক্তি হস্তান্তর করার আগ্রহ দেখায় তারা। লাকসাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত কর্ড লাইন নির্মিত হলে লাকসাম থেকে ঢাকার দূরত্ব কমার পাশাপাশি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দূরত্বও একশ কিলোমিটার কমিয়ে আনা সম্ভব বলেও জানিয়েছিল ফ্রান্স রেলওয়ে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, এ অঞ্চলে রেলওয়ের সূচনাকালে বৃটিশ আমলে আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের নিকট আখাউড়া ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট। আখাউড়াকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলের রেল নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। আসামের সাথে বাংলার যোগাযোগের মধ্য পয়েন্ট হিসেবে আখাউড়াকে চিহ্নিত করে এখানে জংশন গড়ে তোলা হয়। এর ফলে চট্টগ্রাম থেকে লাকসাম-কুমিল্লা-আখাউড়া-ভৈরব- বি-বাড়িয়া হয়ে ঢাকায় ট্রেন যায়। এর ফলে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার দূরত্ব প্রায় একশ কিলোমিটার বেড়ে যায়। ট্রেনের বিদ্যমান লাইনের পরিবর্তে লাকসাম থেকে দাউদকান্দি হয়ে নারায়ণগঞ্জের উপর দিয়ে ঢাকায় নিয়ে গেলে দূরত্ব একশ কিলোমিটার কমে যাবে। এতে চট্টগ্রাম-ঢাকা ও লাকসাম-ঢাকা রুটে কমপক্ষে দুই ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হবে। ফ্রান্স রেলওয়ের এই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে সরকারও বেশ আগ্রহ দেখায়। কয়েক দফা বৈঠকও হয়। কিন্তু পরবর্তীতে সব উদ্যোগই ফাইল চাপা পড়েছে।
এই ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মোঃ তোফাজ্জল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কর্ড লাইন নির্মাণ প্রকল্পটিতে উল্লেখ করার মতো কোন অগ্রগতি নেই। লাইনটি নির্মিত হলে ঢাকা চট্টগ্রামের দূরত্ব কমবে। তবে আমরা আরো অনেক বিষয় নিয়ে কাজ করছি। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে সুফল আসবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply