কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে গণপিটুনিতে ৫ ডাকাত নিহত: ডাকাতের গুলিতে নিহত ১: আহত ১২

আবদুর রহিম, লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ—–
বুধবার ভোরে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার সরসপুর ইউনিয়নের ভাউপুরে ডাকাতিকালে জনতার গণপিটুনিতে ৫ ডাকাত নিহত হয়েছে। ডাকাতের গুলিতে ঘটনাস্থলে এক মাদরাসা ছাত্র নিহত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে কলাপসিবল গেইট ভেঙ্গে ১৭/১৮ জনের সশস্ত্র ডাকাতদল ভাউপুর পশ্চিমপাড়ার প্রবাসী আবদুল মালেক মানিকের বাড়িতে হানা দিয়ে পরিবারের লোকদের মারধর করে ১০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে। ডাকাতিকালে বাড়ির লোকজনের শোরচিৎকারে এলাকাবাসী জড়ো হলে ডাকাতরা এলোপাতাড়ি গুলি ছোঁড়ে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মাদরাসার ছাত্র আরিফ হোসেন (১৩) নিহত হয়। ডাকাতের গুলিতে গৃহকর্তাসহ আরো ১০/১২ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে প্রবাসী আবদুল মালেক মানিককে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা প্রেরণ করা হয়েছে। অপরদিকে, প্রবাসীর মা হোসনেয়ারা বেগম (৭০), দেলোয়ার হোসেন (৪০), হাফেজ মাইন উদ্দিন (৩৩) ও রাশেদের (৩৪) অবস্থাও আশংকাজনক। পরে পালানোকালে জনতার গণপিটুনিতে পার্শ্ববর্তী বাতাবাড়িয়ায় ১ জন ও গোপিরয়ালায় ২ জন এবং কেয়ারী পঞ্চগ্রাম হাইস্কুল সংলগ্নে ২ জন অজ্ঞাতনামা ডাকাত নিহত হয়। লুটকৃত মালামাল কিংবা অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি।
এদিকে, জনতা একই ইউনিয়নের বাতাবাড়িয়ার হোসেনের ছেলে ডাকাত সর্দার মামুনকে (২৭) আটক করে পুলিশে দিয়েছে। উত্তেজিত জনতা তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করে। অপর একটি সূত্র জানায়, বাইশগাঁও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল আয়েছ ভূঁইয়ার ভাতিজা ও বজলুর রহমানের ছেলে নাসির উদ্দিন (২৩) উক্ত ডাকাতিতে সক্রিয় সহায়তা করে। জনতার ধাওয়া খেয়ে সে পালিয়ে গেছে।
কুমিল্লার এএসপি (সার্কেল) কামরুল ইসলাম, এসএসপি (শিক্ষানবীস) তাকিয়া ইসলাম, মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহেদুর রহমান, থানার ওসি জহিরুল আনোয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহে ওই উপজেলায় ১৫/২০টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতির ঘটনায় থানা পুলিশ কাউকে আটক কিংবা অস্ত্র উদ্ধার করতে না পারায় এলাকায় আতংক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply