দুই বছরেও শপথ না হওয়ায় কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা আন্দোলনে

কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ——
দুই বছর ধরে শপথ বঞ্চিত কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা শপথের দাবীতে আন্দোলন কর্মসূচী ঘোষণা করেছেন। বুধবার সকাল ১১টায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আগামী ২০ জানুয়ারীর মধ্যে শপথের আল্টিমেটাম দিয়ে ২৭ জানুয়ারী সকাল-সন্ধ্যা হরতালসহ আন্দোলনের বিস্তারিত কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়।
শহরের এক অভিজাত রেস্তোরায় আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ৫ নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর ছালামতউল্লাহ বাবুল। আন্দোলন কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে শপথ না হলে আগামী ২১ জানুয়ারী থেকে ২৩ জানুয়ারী পর্যন্ত হরতালের সমর্থনে পৌরসভার সকল ওয়ার্ড-মহল্লায় গণ সংযোগ ও প্রচারপত্র বিলি, আগামী ২৪ জানুয়ারী সকাল ১০টা থেকে বিকাল ২টা পর্যন্ত পৌরসভা কার্যালয় ঘেরাও এবং ঘেরাও শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান এবং ২৬ জানুয়ারী বিকাল ৫টায় হরতালের সমর্থনে গণমিছিল।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, পৌরবাসীর অনেক আন্দোলন-সংগ্রামের পর ২০১১ সালের ১৮ জানুয়ারী কক্সবাজার সদর পৌরসভাসহ জেলার ৪টি পৌরসভার নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয়। ওই বছরের ২৭ জানুয়ারী চার পৌরসভার নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। এর ৬ দিন পর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের গেজেটও প্রকাশিত হয়। কিন্তু নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ নিয়ে শুরু হয় নানা তালবাহানা। বারবার পিছিয়ে দেওয়া হয় শপথের নির্ধারিত দিনক্ষণ। তবে ওই বছরের ৯ মে জেলার বাকী ৩ পৌরসভার নির্বাচিত মেয়র-কাউন্সিলরদের শপথ সম্পন্ন করা হলেও নানা অজুহাত সৃষ্টি করে কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শপথ ঠেকিয়ে রাখা হয়। এভাবে প্রায় ২ বছর সময় অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা এখনও শপথের কোন উদ্যোগ নেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা আন্দোলন-সংগ্রামের ডাক দিয়েছেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বর্ধিত এলাকা নিয়ে বিগত ২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারী কক্সবাজার পৌরসভার বহুল প্রত্যাশিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নির্বাচনে একজন মেয়র, ১২ জন সাধারণ কাউন্সিলর এবং ৪ জন সংরক্ষিত আসনে নারী কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। কিন্তু নির্বাচনের প্রায় ২ বছর অতিবাহিত হলেও এখনও শপথ নিতে পারেননি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। একটি দূর্নীতিবাজ চক্র বারবার শপথের নির্ধারিত সময় পিছিয়ে দিচ্ছে। এরফলে কক্সবাজার পৌরবাসী বিশেষ করে বর্ধিত এলাকার লোকজন নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
জনপ্রতিনিধিরা জানান, আগের পৌরসভার প্রায় ৩ গুণ এলাকা নিয়ে বর্ধিত পৌরসভা গঠিত হয়েছে। কিন্তু আগের পৌর পরিষদ দিয়েই চলছে পৌরসভা। বর্তমান পৌর পরিষদ ৫ বছরের স্থলে এখন ১১ বছর সময় অতিবাহিত করছে।
বক্তারা, নির্বাচনের ২ বছর পরও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শপথ না হওয়া গণতন্ত্রের জন্য এক কলংকিত ও লজ্জ্বাজনক অধ্যায় এবং এটা পৌরবাসীর মানবাধিকার লংঘনেরও সামিল বলেও মন্তব্য করেন।
উক্ত সাংবাদিক সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এসআইএম আকতার কামাল আযাদ, ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিজানুর রহমান, ৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ওমর ছিদ্দিক লালু, ৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আশরাফুল হুদা ছিদ্দিকী জামসেদ, ৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হেলালউদ্দিন কবির, ১০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন খালেদ, ১২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জিসানউদ্দিন, ১, ২ ও ৩ নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হুমাইরা বেগম এবং ৭, ৮ ও ৯ নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মনজুমন নাহার মনজু প্রমূখ।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply