মুরাদনগরে আ’লীগ নেতাদের ৪ কোটি টাকা মূল্যের জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মান:: সরকারী সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের কোন ব্যবস্থা নেই

মোশাররফ হোসেন মনির, মুরাদনগর(কুমিল্লা)প্রতিনিধিঃ—–

জেলার মুরাদনগর উপজেলার প্রধান বানিজ্যিক এলাকা কোম্পানীগঞ্জস্থ নবীনগর সড়কের পাশের প্রায় ৪ কোটি টাকা মুল্যের সরকারী খাস জায়গাটি উচ্চ আদালতের (হাইকোর্টের) স্থায়ী নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে জোরপুর্বক রাতারাতি মার্কেট নির্মানের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী সোচ্চার হলেও রহস্যজনক কারনে এখনো কোন প্রকার আইনী ব্যবস্থা গ্রহনসহ উচ্ছেদের মত কোন কার্যক্রম গ্রহন করেনি উপজেলা প্রশাসন। সরকার দলীয় দখলদাররা দিনরাত অবিরাম কাজ চালিয়ে মার্কেট নির্মানের কাজ প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় প্রশাসনের ভুমিকা নিয়ে জনমনে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এদিকে শনিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা বেগম লোক দেখানো বাঁধা প্রদান করতে আসলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফিরে যাবার পর পরই দখলদাররা দ্বিগুন উৎসাহিত হয়ে কাজের গতি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয়রা আরো জানায় , নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা বেগমের যোগশাজস ছাড়া কিছুতেই এ কাজ করতে পারবেনা । তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার আগে দখলদাররা বিভিন্ন দফতর থেকে কিছুটা চাপের মুখে থাকলেও তিনি আসার পরই কাজের গতি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়। গোপন সুত্রে জানা যায় , নাজমা বেগম দখলদারদেরকে উৎসাহিত করে রাতারাতি দ্রুত নির্মান কাজ সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। জানা যায় , বিতর্কিত সরকারী এ খাস জায়গাটি নিয়ে একুশে পদকপ্রাপ্ত(২০১১)বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, সাবেক গণপরিষদ সদস্য প্রবীন আ’লীগ নেতা হাজী আবুল হাশেম ২০০৪ সালে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত ওইস্থানে কোন প্রকার দখল কিংবা স্থাপনা নির্মানে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারী করলেও বর্তমান সরকারের বেপরোয়া দখলদাররা মোটেও কর্নপাত করেনি। তারা ওই জায়গাটিতে স্থায়ীভাবে পাকা ইমারত নির্মান করে পুর্নাঙ্গ মার্কেটে রূপান্তরিত করার কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছে। আর নির্মান কাজ দেখতে প্রতিদিনই উপজেলা প্রশাসনের কেউ না কেউ এসে পরিদর্শনের করে জেলা প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে রিপোর্ট প্রকাশ করলেও শীর্ষ কর্মকর্তারা কোন প্রকার ব্যবস্থাই গ্রহন করছেন না।
জানা গেছে বর্তমান আ’লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দলের কিছু প্রভাবশালী নেতা নবীনগর সড়কের পাশের জায়গাটি লিজ নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসক সহ সংশ্লিষ্ট সরকারী সকল দফতরে ঘুরাঘুরি ও তদবীর করলে উচ্চ আদালতের স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার কারনে তা সম্ভব হয়নি। লিজ আনতে ব্যার্থ হয়ে আ’লীগ নেতারা শেষ পর্যন্ত রাতের অন্ধকারে মুল্যবান এ জায়গাটি দখল করে রাতারাতি পাকা ইমারত নির্মান করায় এলাকায় তুমুল বিতর্ক সহ জেলা প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা পুলিশের ভুমিকা নিয়ে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জায়গাটি দখল করে মার্কেট নির্মানের পুর্বাভাস দিয়ে কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে খবর প্রকাশিত হলেও কোন প্রকার ব্যবস্থাই নেয়নি জেলা প্রশাসন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply