আ’লীগ নেতা পিচ্চি কামালের নেতৃত্বে কুমিল্লার মুরাদনগরে ৪ কোটি টাকা মুল্যের খাস জায়গাটি দখল করে রাতারাতি মার্কেট নির্মান

মোঃ মোশাররফ হোসেন মনির, মুরাদনগর প্রতিনিধিঃ—–
মুরাদনগর উপজেলার প্রধান বানিজ্যিক এলাকা কোম্পানীগঞ্জস্থ নবীনগর সড়কের পাশের প্রায় ৪ কোটি টাকা মুল্যের সরকারী খাস জায়গাটি উচ্চ আদালতের (হাইকোর্টের) স্থায়ী নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে জোরপুর্বক রাতারাতি মার্কেট নির্মান করে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি করলো ক্ষমতাসীন দল আ’লীগের গুটিকয়েক প্রভাবশালী নেতা। জানা যায় , বিতর্কিত সরকারী এ খাস জায়গাটি নিয়ে একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষানুরাগী আ’লীগ নেতা হাজী আবুল হাশেম ২০০৪ সালে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করলে উচ্চ আদালত জায়গাটিতে কোন প্রকার স্থাপনা নির্মানে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারী করলে সে সময় জায়গাটি সম্পুন্ন দখল মুক্ত থাকে। পরে বর্তমান আ’লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দলের কিছু প্রভাবশালী নেতা নবীনগর সড়কের পাশের জায়গাটি লিজ নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসক সহ সংশ্লিষ্ট সরকারী সকল দফতরে ঘুরাঘুরি ও তদবীর করলে উচ্চ আদালতের স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার কারনে তা সম্ভব হয়নি। লিজ আনতে ব্যার্থ হয়ে আ’লীগ নেতারা শেষ পর্যন্ত রাতের অন্ধকারে মুল্যবান এ জায়গাটি দখল করে রাতারাতি উক্তস্থানে পাকা ইমারত নির্মান করে এলাকায় তুমুল বিতর্ক সহ জেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তথা থানা পুলিশের ভুমিকা নিয়ে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বুধবার কুমিল্লাওয়েব সহ বেশ কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে জায়গাটি দখল করে মার্কেট নির্মানের পুর্বাভাস দিয়ে খবর প্রকাশিত হলেও কোন প্রকার ব্যাবস্থাই নেয়নি জেলা প্রশাসনের কর্তাব্যাক্তিরা। উচ্চ আদালতের আদেশকে অবমুল্যায়ন করে দেদার্সে দখলদাররা বৃহসপতিবার সন্ধ্যায় ওই জায়গাটিতে পাকা ইমারত নির্মান শুরু করলে স্থানীয় ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা গিয়ে মৌখিক বাঁধা দিলে দখলদাররা তাকে মারধর করে তাড়িয়ে দিলে ভয়ে আর কোন কর্মকর্তা সেখানে বাঁধা প্রদান করতে আসেনি। স্থানীয়রা আরো জানায় , মুরাদনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা বেগম মুরাদনগরে যোগদানের পর থেকেই এলাকায় এ ধরনের সরকারী সম্পদ দখলের মহোৎসব চলে আসছে। এলাকাবাসী জানায় , যারা এ সমস্ত দখলের কাজ গুলো করছেন তাদের সাথে নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা বেগমের রয়েছে ব্যাপক সখ্যতা। স্থানীয় সুত্রে জানা যায় , কোম্পানীগঞ্জের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি কামাল জেল থেকে বের হওয়ার পর থেকেই এলাকায় তার বাহিনীর মাধ্যমে এ ধরনের সরকারী সম্পদ দখলের মহোৎসব চালাচ্ছে। ইতিপুর্বে ওই শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি কামালের নেতৃত্বে কোম্পানীগঞ্জে সড়ক ও জনপদের জায়গা সহ বেশ কিছু সরকারী জায়গা দখল হয়েছে । আর এ সমস্ত দখল হওয়া সরকারী জায়গা সে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এ দিকে পিচ্চি কামাল কোম্পানীগঞ্জে ৪ কোটি টাকা মুল্যের শত বছরের একটি সরকারী পুকুরে মাটি ভরাট করে মার্কেট নির্মানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং আরো বেশ কিছু সরকারী খাসের জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মানের জন্য পায়তারা করছে। এলাকাবাসী জানায় কোম্পানীগঞ্জ এলাকাটি এখন বসবাসের অযোগ্য হয়ে সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের রাজত্ব চলছে।
এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভুমি) কায়ছারুল ইসলাম জানান , কোম্পানীগঞ্জস্থ নবীনগর সড়কের মুল্যবান জায়গাটি একটি মহল জেলা পরিষদ থেকে লিজ আনার যে গুজব ছড়িয়েছে তা সম্পুন্ন মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি ডি, সি, মহোদয়ের সাথে পরামর্শ করেছি আমরা দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলা করে ওই সমস্থ অবৈধ স্থাপনা গুলো উচ্ছেদ করবো।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply