সরকারের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে:–ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন

ঢাকাঃ—–
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, আওয়ামী সরকারের হত্যা, খুন, ধর্ষণ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, গুমের কারণে তাদের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে হৃদয়ে বাংলাদেশ সংগঠন আয়োজিত ‘হত্যা, গুম, হামলা ও মামলার রজনীতির শেষ কোথায়?’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।
ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন বলেন, “কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমের জরিপে ৭০ ভাগ জনগণ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়কের পক্ষে রায় দিয়েছে। জনগণই এখন সরকারকে বাধ্য করবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বহাল করতে। ”

সম্প্রতি ধর্ষণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারী নির্যাতন ধর্ষণ মহামারি আকার ধারণ করেছে। হত্যা, গুম, মামলা হামলার সঙ্গে নারী নির্যাতন আর ধর্ষণ দেশে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে সরকারের পতন ঘনিয়ে এসেছে। সরকারের নির্যাতনের মাত্রা ৭২-৭৫ সালকে ছাড়িয়ে গেছে।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের ৫.২ ধারাতে বলা হয়েছে বিচার বর্হিভুত হত্যা বন্ধ করা হবে। কিন্তু তাদের চার বছরের বিচার বর্হিভুত হত্যা উদ্বেগ জনকভাবে বেড়ে গেছে বলে তথ্য দিয়েছে হিউম্যান রাইটস।

হত্যার চেয়ে ভয়াবহ আতঙ্ক সষ্টি করেছে গুম। এই সরকারের সময়ে গুমের সংখ্যা বিভিন্ন তথ্য মতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৫৮ জন হলেও তা দুইশতাধিক।

সরকার ফাঁসির আসামিকে মুক্তি দেওয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এই পর্যন্ত ২৫ জন ফাঁসির আসামিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এই সরকারের চার বছরে ২১ জনকে মুক্তি দিয়ে তাদের স্বৈরাচারী চরিত্র প্রমাণ করেছে।

টাকার বিনিময় সন্ত্রাসীদের মুক্তি দেওয়ার অভিযোগ করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর ৭৭০১টি মামলা বাতিলে মধ্য দিয়ে চি‎হ্নিত সন্ত্রাসীদের মুক্ত করে দিয়েছে। বিকাশের মতো সন্ত্রাসীদের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতাদের গ্রেফতার করছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে গাড়ি পোড়ানো মামলায় আটক রেখেছে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে।

ছাত্রলীগের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ অবরোধে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা দিন দুপুরে চাপাতি দিয়ে মানুষ হত্যা করেছে। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের মাধ্যমে তাদের অপকর্ম শুরু করেছে।

সরকারের জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সরকারের জনপ্রিয়তার ওপর জরিপ প্রকাশিত হয়েছে। এতে সরকারের নির্যাতনের তথ্য সহ বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় পাঠক জরিপে দেখা গেছে আওয়ামীগের জনপ্রিয়তা কমেছে আর জাতীয়তাবাদী শক্তির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে।

আন্দোলনের সফলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকে বলছেন যে, আমরা রাজপথে লাগাতার কর্মসূচি দিচ্ছে না? আমরা জনদুর্ভোগ চায় না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করে দাবি আদায় করতে চাই। আইয়ুব খান থেকে স্বৈরাচার এরশাদ পর্যন্ত পতন হয়েছে জনগণের আন্দোলনের মাধ্যমে। জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে আমরাও দাবি আদায় করে এই সরকারের পতন ঘটাতে সক্ষম হবো।

সংগঠনের চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মুহাম্মদ হানিফের সভাপতিত্বে ও মো.মঞ্জুর হোসেন ঈসার পরিচালনায় আলোচনায় অংশ নেন লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক কর্নেল (অব.) শাজাহান খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য হেলেন জেরিন খান , সরওয়ার আজম খান, হৃদয়ে বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিস হাসনাত ও তাঁতী দলের সহ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply