প্রশাসনের তীব্র বাঁধাকে উপেক্ষা করে মুরাদনগরে ৪ কোটি টাকার সরকারী খাস জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মানের পায়তারা করছে ক্ষমতাসীনরা

মোঃ মোশাররফ হোসেন মনির, মুরাদনগর(কুমিল্লা)প্রতিনিধিঃ —–
কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার প্রধান বানিজ্যিক এলাকা কোম্পানীগঞ্জস্থ নবীনগর সড়কের পাশের প্রায় ৪ কোটি টাকা মুল্যের সরকারী খাস জায়গা স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের তীব্র বাঁধাকে উপেক্ষা করে জোরপুর্বক রাতের অন্ধকারে দখল করে মার্কেট নির্মানের পায়তারা করছে ক্ষমতাসীন দলের কিছু প্রভাবশালী নেতারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় , বর্তমান আ’লীগ সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পর থেকেই ক্ষমতাসীন দলের কিছু প্রভাবশালী নেতা নবীনগর সড়কের পাশের জায়গাটি লিজ নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসক সহ সংশ্লিষ্ট সরকারী সকল দফতরে ঘুরাঘুরি ও তদবীর করে ব্যার্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত রাতের অন্ধকারে মুল্যবান এ সরকারী খাস জায়গাটি দখল করে রাতারাতি উক্তস্থানে পাকা ইমারত নির্মানের পায়তারা করছে।
প্রশাসনের একাধিক সুত্র জানায় , ক্ষমতাসীন দলের ওই প্রভাবশালী নেতারা সরকারী খাসের জায়গাটি লিজ আনতে ব্যার্থ হয়ে এখন নতুন কৌশল হিসেবে জেলা পরিষদ থেকে একটি লিজের কাগজ বানিয়ে সেখানে মার্কেট নির্মান করে বিক্রি করে দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে কিন্তু সরকারী খাসের জায়গা জেলা পরিষদ কোন ভাবেই লিজ অথবা কোন প্রকার হস্তান্তর করতে পারেনা। আর তাই যদি হয়ে থাকে তা কখনো বৈধ হবেনা। কোম্পানীগঞ্জের এ জায়গাটি সম্পুন্ন সরকারী খাস ভুমি, জেলা পরিষদের নয় পুর্বে এখানে একটি খাল ছিল। সরকারী খাসের জায়গা যদি জেলা পরিষদ অস্থায়ী লিজ প্রদান করে থাকে তা হবে বেআইনী আর এ জন্য আমরা দখলদারদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করতে প্রস্তুত আছি। সুত্র জানযায়, জেলা পরিষদ থেকে জায়গাটির লিজের কাগজ পত্র তৈরী করতে সেখানে মোটা অংকের লেন দেন হয়েছে। এদিকে প্রভাবশালীরা জায়গাটি দখল করে মার্কেট নির্মানের লক্ষ্যে গত সপ্তাহের শেষ দিকে রাস্তার পাশে থাকা সরকারী ৩ লক্ষ টাকার গাছ কেটে নিয়ে জায়গাটি সম্পুন্ন পরিস্কার করে রেখেছে যেকোন সময় সেখানে যেন স্থাপনা নির্মান করা যায়। সরকারী গাছ কাটা নিয়ে গাছের রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্বে থাকা এক ব্যাক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা বেগমের কাছে ও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও তা ফাইল বন্দি অবস্থায় পড়ে আছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় , জায়গাটিতে যেন দখলদাররা কোন স্থাপনা তৈরী করতে না পারে সে জন্য জেলা প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে সেখানে প্রশাসনের লোক দ্বারা নিয়মিত পাহারা দেয়া হচ্ছে। বিশ্বস্থ একটি সুত্র জানায়, ১০ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার সরকারী অফিস আদালত বন্ধ হয়ে গেলে সন্ধ্যার পর থেকে সারারাত্র ও শুক্রবার শনিবার এই দুই দিনে জায়গাটিতে স্থাপনা নির্মান করবে ক্ষমতাসীন দলের দখলদাররা। প্রশাসনের কিছু কর্তাব্যাক্তি নিজেদের দায় সারাতেই তারা ছুটিতে থাকাকালীন সময়ে জায়গাটিতে স্থাপনা তৈরী করার জন্য প্রভাবশালীদেরকে এ কৌশলটি শিখিয়ে দিয়েছে। সুত্র জানায় , পরে প্রশাসনের কর্তাব্যাক্তিরা রোববারে অফিসে এসে ওই জায়গাটি দখল হয়ে গেছে শুনলে লোক দেখানো ও দায় সারানো একটি মামলা করবে আর এ মামলা ফাইল বন্দি অবস্থায় পড়ে থাকবে যুগের পর যুগ। জানা গেছে এ পর্যন্ত মুরাদনগর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ রকম অনেক দখলের মামলা ফাইল বন্দি অবস্থায় পড়ে থাকলেও সরকারী বেদখল হওয়া জায়গা কোন সময়ই উদ্ধার হয়নি। তবে এলাকাবাসী জানায় , বর্তমান উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভুমি) কায়ছারুল ইসলাম মুরাদনগরে যোগদানের পর থেকে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সোচ্চার হলেও তিনি রিতিমত তোপের মুখে পরে হিমশিম খাচ্ছেন। এলাকাবাসী জানায় ,অপর দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমা বেগমের দখলদারদের ব্যাপারে কোন প্রকার ব্যাবস্থা গ্রহন করতে নিয়মিতই অনীহা লক্ষ্য করা গেছে।
এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভুমি) কায়ছারুল ইসলাম জানান , কোম্পানীগঞ্জ নবীনগর সড়কের জায়গাটি সম্পুন্ন জেলা প্রশাসনের আওতাধীন খাস ভুমি , জায়গাটির মালিক জেলা পরিষদ নয় আর এটি জেলা পরিষদ কখনো লিজ দিতে পারেনা আর দিয়ে থাকলে তা বৈধ হবেনা। জায়গাটি কেউ দখল করতে চাইলে আমরা আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করবো।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply