মতলবে মাথাগোজার ঠাঁই পেতে যাচ্ছে ভূমিহীন ২২০ পরিবারঃ ছোট চরকালিয়া আশ্রয়ন প্রকল্পের নির্মান কাজ ৬৫ ভাগ সম্পন্ন

শামসুজ্জামান ডলার, মতলব উত্তর(চাঁদপুর) থেকেঃ—-

মেঘনা নদীর দীর্ঘ্যদিনের ভাঁঙ্গনে বিলীন হয়ে যাওয়া আমিরাবাদ অঞ্চলের চরাঞ্চলে আবাসন প্রকল্প নির্মানের মাধ্যমে ভূমিহীন ২২০ পরিবার পেতে যাচ্ছে মাথাগোজার ঠাঁই। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফরাজীকান্দি ইউনিয়নে নির্মানাধীন এই ছোট চরকালিয়া আশ্রয়ন প্রকল্পের ইতিমধ্যে ৬৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েগেছে। এই আশ্রয়ন প্রকল্পটির ৯ একর জমির উপর নির্মিত হচ্ছে বড় বড় ৪৪ টি ঘড় এবং এই প্রত্যেক ঘড়ে থাকবে ৫ করে পরিবার। ভূমিহীন এই পরিবারগুলোর জন্য রান্না ঘর, স্যানিটারী লেট্রিন, বিশুদ্ধ খাবার পানির চাপকল, গোসলকরা ও মাছ চাষের জন্য বড় একটি পুকুর, থাকবে ২ কমিউনিটি সেন্টার। আর এসব নির্মানে এই আবাসনের দায়িত্বে রয়েছে প্রকল্প টুআইসি কুমিল্লা সেনানিবাসের মেজর মোঃ মাকদুমুল ইসলাম এবং সরেজমিনে সার্বক্ষনিক থেকে কাজ তদারকি করছেন সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ রফিক। ২০১২ সালের জুন মাসে ২২০ পরিবারের জন্য এই ছোট চরকালিয়া আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘড় নির্মানের কাজ শুরু হয়। ঘর নির্মান কাজে অর্থ বরাদ্ধ ২ কোটি ১৭ লক্ষ ৬৬ হাজার ৮০০ টাকা।
আশ্রয়ন প্রকল্পে ৪৪ টি ঘর ছাড়াও রয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্য ২২ টি চাপকল, ৪ কক্ষে পৃথক পৃথক এরকম ২২ টি টয়লেট, ৪ কক্ষে ৪ চুলা বিশিষ্ট ২২ টি রান্না ঘর। আশ্রয়ন প্রকল্পের নির্মান কাজ ইতিমধ্যে ৬০/৬৫ ভাগ শেষ হয়েছে। অবশ্য, এর আগে ৭৪১.৪৮ মেট্রিক টন চালের বিপরীতে এই আশ্রয়ন প্রকল্পের মাটি ভরাটের কাজ শেষ হয়। মাটি ভরাট ও ঘর নির্মান খরচের বাইরে ২ টি কমিউনিটি সেন্টার ও পাঁকা ঘাটলার জন্য অর্থ বরাদ্ধ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা যায়।
বৈরী আবহাওয়ার কারনে কাজ কিছুটা ধীরলয়ে এগুলেও বর্তানে কাজ পূর্ন গতিতে এগিয়ে চলছে। আর এভাবে কাজ এগিয়ে চলতে থাকলে আগামী ২০১৩ সালের মার্চ মাসের মধ্যে এই আশ্রয়ন প্রকল্পে বসতি উঠানো সম্ভব হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ভূমিহীন ও স্থানীয় মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধে ঝুঁপড়ি তুলে মানবেতর জীবন যাপন করা কয়েকজনের সাথে কথাহলে তারা জানায়, সাবেক চেয়ারম্যান সাব (সাবেক চেয়ারম্যান গাজী তোফায়েল হোসেন) আমগো গরীবগো থাহনের লইগা এই আশ্রয়নডা আইন্না মাটি ভরাট কইরা দিছে। হেই জায়গাত অহন সেনাবাহিনী আমগো লইগা ঘড় তোলতাছে, এইতো আর কয়ডা দিন এরপরে ঐ ঘড়ে আমরাই থাহুম।
পরিদর্শন করতে আসলে নির্মানাধীন এই আশ্রয়ন প্রকল্প সম্পর্কে কথাহলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু আলী মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বর্তমানে আশ্রয়ন প্রকল্পের নির্মান কাজ দ্রুতই এগিয়ে চলছে। আশা করছি যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভূমিহীন পরিবারদের মাঝে ঘরগুলো হস্তান্তর করতে পারবো।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply