সরাইলের আলোচিত জায়গা থেকে সেই ঘর গায়েব : লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য

আরিফুল ইসলাম সুমন, স্টাফ রিপোর্টার ॥
সরাইলের জেলা পরিষদ মালিকানাধীন আলোচিত জায়গা থেকে সেই ঘরটি গায়েব হয়ে গেছে। গত ৩ জানুয়ারী গভীররাতে দুস্কৃতিকারীরা ঘরটি ভেঙে মালামাল নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সরাইল থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। এদিকে থানা ভবনের অতি কাছাকাছি স্থান থেকে ঘর গায়েবের ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় চলছে। অপরদিকে ঘটনার পাঁচ দিনেও পুলিশ জড়িতদের সনাক্ত করতে পারেনি।
অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সরাইল উপজেলা সদরে স্থানীয় অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মোড়ে সিএনজি ষ্ট্যান্ড সংলগ্ন জেলা পরিষদ মালিকানাধীন মূল্যবান জায়গা রয়েছে। বিগত ২০০৫ সালে সরাইল মৌজার ৬৩০২ নং দাগের সেই জায়গার কিছু অংশ জেলা পরিষদ থেকে লীজ আনেন উপজেলার সৈয়দটুলা গ্রামের মৃত আবু তাহের খন্দকারের ছেলে ঠিকাদার মো. সফিক আলম খন্দকার। সেই জায়গায় তিনি একটি টিনশেড ঘর নির্মাণের পর তার ঠিকাদারী ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। গত বছর (২০১২) সেই জায়গার পাশেই ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি বহুতল ভবন (মার্কেট) গড়ে উঠে। এই ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ড (নীচতলা) পজিশনে কিনে নেন সৈয়দটুলা গ্রামের হাজী তাইজ উদ্দিনের ছেলে ব্যবসায়ী দেওয়ান উদ্দিন। তিনি জেলা পরিষদ জায়গা থেকে সেই ঘরটি সরিয়ে ফেলতে নানা কূটকৌশল শুরু করেন। এতে বাধা দেন ঘরের মালিক ও জায়গার লীজ গ্রহীতা সফিক আলম খন্দকার। সফিক আলম দাবি করেন, জেলা পরিষদ থেকে এই জায়গা লীজ এনেই এখানে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। নিয়মিত খাজনাও পরিশোধ করা হচ্ছে। অপরদিকে দেওয়ান উদ্দিনের দাবি এ জায়গার লীজ বহু আগেই জেলা পরিষদ বাতিল করে দিয়েছে। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। দু’জনই জেলা পরিষদ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শরণাপন্ন হন। শুরু হয় পত্র চালাচালি। জেলা পরিষদের কতিপয় লোকেরা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে দু’জনের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে তারা (কর্মকর্তা-কর্মচারী) বাণিজ্য করতে থাকেন। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা বেড়ে যায় এবং দু’জনে (সফিক-দেওয়ান) স্থানীয়ভাবে তীব্র বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। দুইপক্ষের লোকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে নড়েচড়ে উঠেন স্থানীয় প্রশাসন। থানায় পক্ষে-বিপক্ষে একাধিক মামলা হয়। সরাইল থানার তৎকালীন ওসি দুইপক্ষের কাছ থেকে নানা কৌশলে হাতিয়ে নেয় টাকা-পয়সা। সুযোগে স্থানীয় ক্ষমতাসীনরা দুইপক্ষকেই নানাভাবে হয়রানি করে লুফে নেন হাজার হাজার টাকা। একপর্যায়ে বিষয়টি সরাইলে ব্যাপক আলোচিত হয়ে উঠে। বিভিন্ন মিডিয়ায় এ নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। সর্বশেষ গত ৩ জানুয়ারী গভীররাতে জেলা পরিষদের আলোচিত সেই জায়গা থেকে অজ্ঞাতনামা দুস্কৃতিকারীরা ঘরটি ভেঙে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শফিক আলম খন্দকার বাদী হয়ে সরাইল থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
সরাইল বিকালবাজার এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী জানান, জেলা পরিষদ জায়গায় এই ঘরটি নিয়ে জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ক্ষমতাসীনদলের কতিপয় নেতারা, পুলিশ, গ্রাম্য মাতব্বর ও প্রভাবশালী লোকেরা দুই পক্ষের কাছ থেকে লাখ লাখ বাণিজ্য করেছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সরাইল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইশতিয়াক আহমেদ জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply