ইকবাল আজাদ হত্যা মামলাঃ সরাইল আ’লীগের সভাপতি-সম্পাদকসহ ২১ নেতা-কর্মী জেল হাজতে

আরিফুল ইসলাম সুমন, স্টাফ রিপোর্টার ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ
সরাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এ.কে.এম ইকবাল আজাদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি উপজেলা আওয়ামী লীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি আব্দুল হালিম এবং সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুরসহ ২১ আসামিকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে আদালত।

সোমবার সকাল ১১টায় হত্যা মামলার চার্জশীটভুক্ত ২১ আসামী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট (৩) সাইফুর রহমান সিদ্দিকীর আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত জামিন নামঞ্জুুর করে তাদের জেল হাজতে পাঠান। এদিকে আসামীরা আদালতে হাজির হবার খবরে সকাল থেকেই আদালত এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয। এসময় আসামীদের দেখার জন্যে শত শত মানুষ আদালত প্রাঙ্গনে ভীর করে। আদালতে আত্মসমর্পনকারী অন্য আসামীরা হলেন, সদ্য বিলুপ্ত উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মো. সাদেক মিয়া, যুগ্ম সম্পাদক ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজ আলী, সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ইসমত আলী, আওয়ামীলীগ নেতা ইদ্রিস আলী, যুবলীগ নেতা কামরুল ইসলাম, মো. বাবু, বকুল, লিমন, আব্দুল্ল¬াহ, শরীফ, মিজান, রাসেল, ইনু মিয়া, মুসা মিয়া, জনি মিয়া, নয়ন মিয়া, মিষ্টার আলী ও মো. মফিজ মিয়া। এসময় বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন খাঁন, অ্যাডভোকেট আশরাফ উদ্দিন মন্তু, অ্যাডভোকেট জয়নাল উদ্দিন, অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান তপুসহ অর্ধশতাধিক আইনজীবী। আসামী পক্ষের মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট গোলাম সারোয়ার ভূইঁয়া খোকন, অ্যাডভোকেট হামিদুর রহমানসহ অর্ধশতাধিক আইনজীবী। এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সরাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জাকির হোসেন ভূইঁয়া মামলার এজাহারভুক্ত ২২ আসামীসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গত ২৩ ডিসেম্বর অভিযোগপত্রের শুনানি শেষে আদালতে ২৯ আসামীর বিরুদ্ধে চার্জশীট গৃহীত হয়। এদের মধ্যে মোকারম হোসেন সোহেল আগে থেকেই জেলহাজতে আছে। চার্জশীটভুক্ত আসামীদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা প্রকৌশলী মশিউর রহমান, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনব আলী, যুবলীগের আল এমরান, হারিছ, ইমদাদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক হাফিজুল আসাদ সিজার, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব পলাতক রয়েছেন।
এদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সরাইল আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর উপজেলা সদরের কুট্টাপাড়া গ্রামের জামাতা লিলু হত্যা মামলার প্রধান আসামি। এ মামলাটি বর্তমানে সিআইডি পুলিশ তদন্ত করছেন। এছাড়াও রফিক উদ্দিন ঠাকুরের বিরুদ্ধে সরাইল থানায় একটি অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে। এ মামলায় তাকে রিমান্ডে আনা হতে পারে বলে পুলিশের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত ২১ অক্টোবর সন্ধ্যায় দলীয় কোন্দলের জের ধরে খুন হন ইকবাল আজাদ। ঘটনার পরদিন নিহতের ছোট ভাই প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আজাদ বাদী হয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হালিম ও সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুরকে প্রধান আসামি করে ২২ জনের বিরুদ্ধে সরাইল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ প্রায় দুই মাস তদন্ত শেষে এজহারভুক্ত ২২ আসামীসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে গত ১৭ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply