সরেজমিনঃ সরাইলে কর্মসংস্থান কর্মসূচীর শ্রমিক দিয়ে কাবিখা প্রকল্পে কাজ করাচ্ছেন ইউপি চেয়ারম্যান

আরিফুল ইসলাম সুমন, স্টাফ রিপোর্টারঃ
সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর ইউনিয়নে চলমান অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচীর একাধিক প্রকল্পের কাজ বন্ধ রেখে শ্রমিকদের দিয়ে কাবিখা প্রকল্পের কাজ করিয়ে যাচ্ছেন ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাব্বির মিয়া।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের দেওড়া এলাকায় “মোড়াহাটি হইতে দোপের খাল পর্যন্ত রাস্তা মেরামত” ৮ মেট্টিক টন খাদ্যশস্য (চাল) কাবিখা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান সাব্বির মিয়া। এ প্রকল্পকাজে নিজে আর্থিক ফায়দা লুটতে চেয়ারম্যান ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার কর্মসূচীর কাজ বন্ধ রেখে শ্রমিক এনে তার কাবিখা প্রকল্পে কাজ করাচ্ছেন। অপরদিকে কাগুজে-কলমে এসব কর্মসূচীর প্রকল্পে শতভাগ শ্রমিক উপস্থিতিতে কাজ হয়েছে মর্মে দেখানো হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, পিআইও অফিসের লোকদের সাথে যোগসাজশ করেই ইউপি চেয়ারম্যান এ অনিয়ম কাজটি করে যাচ্ছেন।
গতকাল রোববার সরেজমিন, ইউপি চেয়ারম্যানের কাবিখা প্রকল্পে গিয়ে দেখা গেছে ৩৯ জন শ্রমিক মাটি কাটার কাজ করছেন। কর্মরত শ্রমিক দুধ মিয়া, ছানা, জরিনা, জোহেরা, হোসনা বেগম, জাহান আলী, রশিদ মিয়া, লালু, শাহিন, ইউনুছ, শাহআলম, শরীফ, অনুফা বেগমসহ সকলে জানান, তারা দেওড়া গ্রামের ইউপি সদস্যা ফিরোজা বেগমের অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচীর প্রকল্পকাজের শ্রমিক। তাদের সকলের নামে ব্যাংক হিসাব রয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান সাব্বির মিয়ার নির্দেশে তারা গত শনিবার থেকে এখানে মাটি কাটছেন। এছাড়া এই কাবিখা প্রকল্পে ইউনিয়নের মলাইশ এলাকার কর্মসূচীর প্রকল্পের ২৮ শ্রমিক শনিবার মাটি কেটে গেছেন।
ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. নীল মিয়া বলেন, এটি চেয়ারম্যানের কাবিখা প্রকল্প। শনিবার এলাকার কর্মসূচীর তিনটি প্রকল্পের কাজ বন্ধ রেখে ৬৭ জন শ্রমিক দিয়ে এই কাবিখা প্রকল্পে কাজ করিয়েছেন। রোববার কর্মসূচীর ৩৯ শ্রমিক এ প্রকল্পে কাজ করছে। ইউপি চেয়ারম্যান তার ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এসব করছেন।
৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বিধান সরকার বলেন, শনিবার ইউপি চেয়ারম্যান আমার কর্মসূচীর প্রকল্পের ১৩ জন শ্রমিক নিয়ে তার কাবিখা প্রকল্পে কাজ করিয়েছেন। চেয়ারম্যানের কথা রাখতে গিয়ে আমি শ্রমিকদের ওখানে পাঠিয়েছিলাম। সংরক্ষিত ওয়ার্ড (৪.৫.৬) ইউপি সদস্যা মায়ারাণী চক্রবর্তী বলেন, শনিবার আমার কর্মসূচী প্রকল্পের ১০ জন শ্রমিক নিয়ে চেয়ারম্যান তার কাবিখা প্রকল্পে কাজ করিয়েছেন। আমি বাধা দিয়েছিলাম চেয়ারম্যান বলেছেন কোন ঝামেলা হলে তিনি বুঝবেন। ইউনিয়নের অপর সংরক্ষিত ওয়ার্ড (৭.৮.৯) ইউপি সদস্যা ফিরোজা বেগম বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের কথামতো তার কাবিখা প্রকল্পে শনিবার আমার কর্মসূচী প্রকল্পের ৩৯ জন শ্রমিক কাজ করেছে। রোববার আবার ৩৯ শ্রমিককে নিয়ে চেয়ারম্যান তার কাবিখা প্রকল্পে কাজে লাগিয়ে দেন। বিষয়টি আমি পরে জেনেছি। চেয়ারম্যান বলেছেন অফিস থেকে কোনো চাপ আসলে তিনি সব ম্যানেজ করবেন। তাছাড়া পিআইওকে জানিয়েই কাবিখা প্রকল্পে কর্মসূচীর শ্রমিক দিয়ে কাজ করাচ্ছেন বলে ইউপি চেয়ারম্যান আমাদের জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে শাহজাদাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সাব্বির মিয়া কর্মসংস্থান কর্মসূচীর বিভিন্ন প্রকল্পের শ্রমিক দিয়ে তার কাবিখা প্রকল্পে কাজ করানোর কথা স্বীকার করে বলেন, এ রাস্তার উন্নয়নের স্বার্থে পিআইও সাহেবের সাথে কথা বলেই শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। তাছাড়াও এলাকার লোকদেরও দাবি রাস্তার কাজটি যেন ভালভাবে হয়। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. রইছ উদ্দিন মুকুল বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। যেহেতু জেনেছি অবশ্যই খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিব। পরে তিনি (পিআইও) ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে সাক্ষাত করে আসার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিছুজ্জামান খাঁন বলেন, বিষয়টির খোঁজখবর নিয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নিব।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply