সরাইলে ১২ মাসে ২৩ খুন : অস্বাভাবিক মৃত্যু ৪

আরিফুল ইসলাম সুমন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকেঃ
সরাইলে এক বছরে খুন হয়েছেন ২৩ জন। অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় আরো চার জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। এছাড়া সহিংস ঘটনায় আহত হয়েছেন সহস্রারাধিক মানুষ। ঘর-বাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় আগুনে পুড়ে মারা গেছে বেশকিছু গৃহপালিত পশুও।
জানা গেছে- তুচ্ছ ঘটনা, আধিপত্য বিস্তার, জায়গা নিয়ে বিরোধ, পূর্ব বিরোধ, পারিবারিক কলহ, যৌতুক দাবি, গোষ্ঠিগত দ্বন্দ্ব, গ্রাম্য মাতব্বরদের দৌরাত্ম ও দলীয় কোন্দলে জের ধরে এসব ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ ডিসেম্বর উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের ধামাউড়া গ্রামে পূর্ব বিরোধের জের ধরে দু’দলের সংঘর্ষ চলাকালে মো. সোয়াব মিয়া (৩০) নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ১৬ ডিসেম্বর কালীকচ্ছ ইউনিয়নের দত্তপাড়া এলাকায় বখাটে ছেলের উৎপাত সইতে না পেরে মা জেসমিন বেগম (৩৭) বিষপানে আত্মহত্যা করেন। ৫ ডিসেম্বর পাকশিমুল ইউনিয়নের তেলিকান্দি এলাকায় পূর্ব বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষে বল্লমবিদ্ধ হয়ে নিহত হন স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা মো. নুর মিয়া (৪৫)। ৪ ডিসেম্বর চুন্টা ইউনিয়নের লোপাড়া এলাকায় খুন হন দিনমজুর মুসা মিয়া (৫০)। ৩ ডিসেম্বর অরুয়াইলের রাজাপুর এলাকায় মেঘনা নদীর পাড়ে আসাদ মিয়া (২৭) এবং চুন্নু মিয়া (৩৫) নামে দুইজনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। একইদিনে চুন্টার নরসিংহপুর এলাকায় সবিতা আক্তার (১৩) নামে এক কিশোরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ৩০ অক্টোবর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে সরাইলের বাড়িউড়া এলাকায় একটি ধানী জমি থেকে অজ্ঞাতনামা (৩৫) মহিলার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ২৮ অক্টোবর নোয়াগাঁও ইউনিয়নের কাটানিশার এলাকায় জায়গা সংক্রান্ত বিরোধে খুন হন হাবিবুর রহমান (৪০)। ২১ অক্টোবর দলীয় কোন্দলে নিজদলের সন্ত্রাসীদের হাতে প্রকাশ্যে খুন হন উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এ.কে.এম ইকবাল আজাদ (৪৫)। ১০ অক্টোবর কালীকচ্ছ ইউনিয়নের গলানিয়া এলাকায় খুন হন সাত্তার মিয়া (৩০)। ১৫ জুলাই শাহজাদাপুর এলাকায় মেয়ে সংক্রান্ত বিরোধে খুন হন বাউল শিল্পী হীরা মিয়া (৫৫)। ৪ জুলাই পানিশ্বর শামসুল আলম উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী মাহমুদা আক্তারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ২৭ জুন পাকশিমুল ফতেহপুর এলাকা থেকে হাজী শিশু মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী লাভলী আক্তারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ১৫ জুন শাহবাজপুর দীঘিরপাড় এলাকায় জায়গা নিয়ে বিরোধে খুন হন শাহজাহান মিয়া (৫৫)। ২০ মে পানিশ্বর টিঘর গ্রামে তুচ্ছ ঘটনায় খুন হন নবী হোসেন (৩৫)। ১০ মে অরুয়াইলের ধামাউড়া এলাকায় খুন হন দিনমজুর নবী হোসেন (৩০)। ৯ মে পাকশিমুলের জয়ধরকান্দি এলাকায় ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় স্কুলছাত্রী অজুফা আক্তারকে। ২৬ এপ্রিল অরুয়াইল এলাকায় তুচ্ছ ঘটনায় খুন হন শিশু শ্রাবন্তী সূত্রধর (০৭)। ২২ এপ্রিল যৌতুকের দাবিতে কালীকচ্ছ মনিরবাগ এলাকায় শ্বশুরবাড়ির লোকেরা পিটিয়ে হত্যা করে লাইলী বেগম (২৮) নামে এক গৃহবধূকে। ৭ এপ্রিল পানিশ্বর এলাকায় মেঘনা নদীতে ডাকাতদের হাতে খুন হন গৃহবধূ শরিফা বেগম (৩৫)। অপরদিকে ধামাউড়া গ্রামে সংঘর্ষে টেটাবিদ্ধ হয়ে নিহত হন মো. জজ মিয়া (৪৫)। ৩০ জানুয়ারী শাহবাজপুর এলাকায় ইটভাটার শ্রমিক সাদ্দাম মিয়া (২২) কে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। অপরদিকে টিঘর গ্রামে জায়গা নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষ চলাকালে ৮ মাস বয়সী শিশু পিরোজা টেটাবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। ১২ জানুয়ারী ধামাউড়া গ্রামে সংঘর্ষে বোরহান উদ্দিন (৫৫) নিহত হন। ৪ জানুয়ারী সদর ইউনিয়নের কুট্টাপাড়া এলাকায় সংঘর্ষে নিহত হন পরিবহন শ্রমিক রিপন মিয়া (২৮)। ১ জানুয়ারী শাহজাদাপুর দেওড়া গ্রামে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে খুন হন সোহরাফ উল্লাহ ঠাকুর (৪৫)। এদিকে এসব ঘটনায় এলাকার জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার চক্রবর্তী জানান, এসব ঘটনায় পুলিশ তৎপর রয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply