সরাইলে আ’লীগ নেতার অবৈধ ভাটায় সরকারি ভূমির মাটি কেটে ইট তৈরি

আরিফুল ইসলাম সুমন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকেঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর এলাকায় এক আওয়ামীলীগ নেতার ভাটায় ইট তৈরি হচ্ছে সরকারি জমির মাটি দিয়ে। প্রতিদিন ট্রাক্টরে করে মাটি নিয়ে ফেলা হচ্ছে ইটভাটায়। ভাটা মালিকের দাবি তিনি প্রশাসনের সঙ্গে আঁতাত করেই মাটি কাটছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, ’কালা মিয়া ব্রিক ফিল্ড’ নামে ওই ইটভাটার মালিক শাহজাদাপুর গ্রামের মো. কালা মিয়ার ছেলে আওয়ামীলীগ নেতা মো. রফিক মিয়া। ওই ইটভাটার অনুমোদন নেই বলেও বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সরেজমিন জানা যায়, শাহজাদাপুর কান্দি নামক গোচরণ ভূমি থেকে তিনটি টাক্টর দিয়ে নির্বিচারে মাটি কেটে আনা হচ্ছে অবৈধ ‘কালা মিয়া’ ইটভাটায়। টাক্টর চালক জেলা শহরের মেড্ডা এলাকার ইয়াছিন মিয়ার ছেলে মো. মালু মিয়া এবং একই এলাকার সওদাগর আলীর ছেলে মো. ইরণ মিয়া জানান, আওয়ামীলীগ নেতা রফিক মিয়ার নির্দেশে তারা গত কয়েকদিন যাবত এখান (হাওরে খাস গোচরণ ভূমি) থেকে মাটি কাটছে। এর আগে অন্য টাক্টর দিয়ে মাটি কাটা হয়েছে। মাটি কাটা কাজে নিয়োজিত সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের দেওবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হকের ছেলে আওয়াল মিয়া, গোলাম আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন, হীরা মিয়ার ছেলে জয়নাল, বাচ্চু মিয়ার ছেলে রুবেল, সুরুজ মিয়ার ছেলে মিস্টার আলী, জজ মিয়ার ছেলে মানিক মিয়া সহ অন্য শ্রমিকেরা জানান, এটি সরকারি জায়গা না মালিকানা তা আমাদের জানা নেই। কালা মিয়া ইটভাটার মালিক রফিক মিয়ার নির্দেশে আমরা এই জায়গা থেকে মাটি কেটে নিচ্ছি। এখন প্রতিদিন ৩টি টাক্টর দিয়ে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে।
শাহজাদাপুর গ্রামের বাসিন্দা, সমাজকর্মী মো. মামুন মিয়া অভিযোগ করেন, রফিক মিয়া আওয়ামীলীগ নেতা হওয়ায় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বৈধ কোনো কাগজপত্র ছাড়াই ‘কালা মিয়া’ নামক অবৈধ ইটভাটায় ইট তৈরী করিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ক্ষমতার দাপটে এলাকার গোচরণ ভূমি থেকে মাটি কেটে যাচ্ছেন।
গ্রামের ইউপি সদস্য মো. মফিল মিয়া খাদেম জানান, সরকারি খাস জায়গার মাটি কেটে কালা মিয়া নামক ইটভাটায় ইট তৈরী করা হচ্ছে দীর্ঘ দিন যাবত। স্থানীয় ভূমি অফিসের লোকেরা বিষয়টি জেনেও অজানা কারণে নীরব রয়েছেন। গোচরণ ভূমির মাটি কেটে আনায় এলাকার লোকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে কালা মিয়া ইটভাটার সত্বাধিকারী স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা মো. রফিক মিয়া বলেন, কালা মিয়া নামে ইটভাটার কাগজপত্রের জন্য আবেদন করা হয়েছে। ইনকাম টেক্সসহ প্রতিবছরই যথাযথ কর্তৃপক্ষকে টাকা-পয়সা দিয়েই এই ইটভাটায় ইট তৈরী করা হচ্ছে। তাছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের সাথে রফাদফা করা আছে। খাস জায়গা থেকে মাটি কেটে আনার বিষয়টি স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তা অবগত আছেন। তিনি বাধা দিলে প্রয়োজনে ওই স্থান থেকে আর মাটি কেটে আনবো না।
শাহজাদাপুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, কালা মিয়া নামক ওই ইটভাটার কোন বৈধ কাগজপত্র নেই। সরকারি জায়গা থেকে মাটি কেটে নেওয়ার বিষয়টি জেনেছি। এ ঘটনায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনে মামলা করবো।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিছুজ্জামান খাঁন বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। অবশ্যই ব্যবস্থা নিব।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply