কুমিল্লায় বিএনপির রাজনীতিতে মফিজ এক নিবেদিত কর্মীর নাম——–ওমর ফারুকী তাপস


রংপুরের মানুষকে অনেকে মফিজ বলে ঠাট্টা করলেও কুমিল্লায় বিএনপির রাজনীতিতে মফিজ এক নিবেদিত কর্মীর নাম। ক্ষমতার দাপট আর লোভ লালসার উর্ধে তিনি। ১৯৮৯ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে ছাত্রদলের মাধ্যমেই ছাত্র রাজনীতিতে আসেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের সন্তান মোঃ মফিজ উদ্দিন মোল্লা। ১৯৯০ সালের পর থেকে সক্রিয় ভাবে ছাত্র রাজনীতির সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। ১৯৯২সালের ছাত্রদল জেলা শাখার সদস্য হিসেবে আরো সক্রিয়ভাবে ছাত্র রাজনীতির পথ চলা। ১৯৯৩ সালে ধর্মপুর জিয়া স্মৃতি সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক ১৯৯৬ সালে ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে একজন প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। ১৯৯৯ সালে জেলা ছাত্রদলের সহ-সাহিত্য প্রকাশনা পরবর্তীতে সহ-ক্রীড়া সর্বশেষ ২০০০সালে ক্রীড়া সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১সালে ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক বর্তমানে মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে আগামী দিনে মহানগর ছাত্রদলের সাথে সম্পৃক্ত হতে চান তিনি। কুমিল্লার ধর্মপুর রেলওয়ে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় লেখা পড়া শুরু । পরবর্তীতে কুমিল্লা মডার্ণ স্কুল থেকে প্রাথমিক শেষ করে কুমিল্লা হাই স্কুল থেকে ১৯৯৪-৯৫ সালে অংকে লেটার সহ এস.এস.সিতে দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হন। অল্পের জন্য প্রথম বিভাগ পান নাই তিনি। ১৯৯৭সালে কুমিল্লা অজিত গুহ কলেজ থেকে বানিজ্য বিভাগে দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হন। ১৯৯৯ সালে মানবিক থেকে বি.এ.দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে অনার্স রাষ্ট্র বিজ্ঞানে ভিক্টোরিয়া কলেজে ভর্তি হন। এবং সাথে সাথে ইসলামের ইতিহাস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা এম.এ অংশ নেন। ১৯৯১ সাল থেকে মরহুম কর্ণেল আকবর হোসেনের প্রত্যেকটি সংসদ নির্বাচনের সাথে সাথে থেকে মরহুম কর্ণেল আকবর হোসেনের চোখের দৃষ্টির মধ্যেই থাকতেন মফিজ। আকবর হোসেন মফিজকে পুত্রের মত স্নেহ করতেন। ঐ পথ ধরে মফিজ নীতিগত দিক থেকে এখনও মেয়র মনিরুল হক সাক্কুকে নেতা মেনে রাজনীতি করেন। ওয়ান ইলিভেনের সময় মনিরুল হক সাক্কু কুমিল্লার রাজনীতিতে না থাকলেও মফিজ তার পক্ষে বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় কাজ করে গেছেন। সিটি কর্পোরেশন মেয়র নির্বাচনে সাক্কুর দুঃসময়েও মফিজ সবসময় সাক্কুর জন্য নিবেদিত ছিলেন। মেয়র নির্বাচনে সাক্কুর পক্ষে মফিজ নগরীতে মাইকিং করে প্রচারণা চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি হ্যান্ড মাইক দিয়ে অথবা মুখে যুক্তি তর্ক করে মানুষকে হাঁস মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য বুঝিয়েছেন। কুমিল্লার মহানগরীর সাধারণ মানুষ তার বক্তব্য দাঁড়িয়ে শুনেছেন। মফিজের প্রচারনায় মনিরুল হক সাক্কুকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন বলে এটা সাধারণ জনগনের মত। বর্তমান সময়ে মফিজ এর মতো আরেকজন ত্যাগী কর্মী পাওয়া কঠিন। মফিজ ঢাকায় গিয়ে জাতীয় বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের সামনে মনিরুল হক সাক্কুর পক্ষে কথা বলেছেন। ২০০৫সালের শেষের দিকে মফিজ বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সামনে গিয়ে কথা বলেন এবং তার সাথে ছবি তুলেন। সাংবাদিকদের সামনে তারেক রহমান মফিজকে ত্যাগী কর্মী হিসেবে স্নেহ করেছিলেন। যদিও গ্রুপিং বিভিন্ন কারনে দলের জনসভা চলাকালে অনেকে মফিজকে বক্তব্য দেয়ার জন্য মাইক দিতে চায়না, সে কারনে মফিজ একা খালি মাঠেই বক্তব্য রাখেন। দলের নেতাকর্মীরা না শুনলেও সাধারণ মানুষ মফিজের বক্তব্য শুনে থাকেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply