সরকার পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করে আমিনীকে হত্যা করেছে

সরাইল / ২৮ ডিসেম্বর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)——
শুক্রবার বিকেলে সরাইলের কুট্টাপাড়া খেলার মাঠে ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের চেয়ারম্যান ১৮ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত মুফতি ফজলুল হক আমিনীর স্বরণ সভায় বক্তারা বলেন, মুফতি আমিনীর আকাশ চুম্বী জনপ্রিয়তায় ঈর্শ্বান্বিত হয়ে ২১ মাস গৃহবন্দী রেখে তাকে (আমিনী) হত্যা করা হয়েছে। ইসলাম বিদ্বেষী জালেম হাসিনা সরকার মুফতি আমিনীকে চিকিৎসা করানোর সুযোগ পর্যন্ত দেয়নি। আমিনী কোরআন সুন্নাহ তথা ইসলাম রক্ষার জন্য সংগ্রাম করেছেন। এটাই তার অপরাধ। গত ৪ এপ্রিল ইসলাম বিরোধী শিক্ষানীতির প্রতিবাদে হরতাল ডেকে বাংলাদেশের মৃত্যু ঘটিয়েছিল। আর তখনই জালেম সরকার তাকে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াতে বলেছিল। তিনি তাতে সম্মত হননি। পরে তার সন্তান হাসানাতকে গুম করেছিল। আমিনী বলেছিলেন আমার এক হাতে সংসার আরেক হাতে কোরআন। সন্তানের চেয়ে কোরআনের মূল্য অনেক বেশী। বাধ্য হয়ে হাসিনা হাসানাতকে ফেরত দিয়েছিলেন। ইসলাম ফতোয়া কোরআন ও সুন্নাহ রক্ষার জন্য লড়াকু এ সৈনিককে নাস্তিক সরকার গৃহবন্দী করে ফেলেন। ২১ মাস তার উপর চালানো হয়েছে নির্যাতন। তার দেমাক ও অঙ্গ প্রত্যঙ্গ নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। তিনি ছিলেন জাতীয় নেতা। আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়েও ভাবতেন তিনি। সরকার পরিকল্পিত ভাবে ষড়যন্ত্র করে তাকে হত্যা করেছে। ১৮ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে হাসিনাকে ২১ বছর গৃহবন্দী করে রাখা হবে। হাসিনাকে প্রধান আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করা হবে। আল্লাহর কোর্টে তাদের বিচার হবে। হাসিনাকে দেয়া হবে জাহান্নামে। আমিনীর জানাজায় লাখ লাখ লোকের উপস্থিতিতে তার জনপ্রিয়তার প্রমান মিলেছে। হাসিনার মৃত্যুতে কেউ ইন্না লিল্লাহও পড়বে না। আমিনীর মৃত্যুতে কেঁদেছে কোটি মানুষ। তাদের চোখের পানিতে ভেসে যাবে হাসিনা। আমিনীর সৈনিক এ দেশের ঘরে ঘরে তৈরী হয়ে আছে। আবুল হাসানাতের ডাকে ১৮ দলীয় জোটের নেতৃত্বে আন্দোলন সংগ্রাম করে দেশে ইসলাম বাস্তবায়ন করতে আমরা দূঢ় প্রতিজ্ঞ। আল্লাহর আইন বাস্তবায়নের জন্য আমরা রক্ত দিতে প্রস্তুত।
স্থানীয় মালিহাতা মাদ্রাসার মোহতামিম মাওলানা মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্বরণ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মুফতি আমিনীর ছেলে মাওঃ আবুল হাসানাত আমিনী। স্বরণ সভা একপর্যায়ে জনসভায় পরিণত হয়। অন্তত চার সহস্রাধিক লোকের এ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- বিএনপি নেতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী উকিল আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া, সিলেট অঞ্চলের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহিনুর পাশা, ইসলামী ঐক্যজোট নেতা মাওঃ জুনায়েদ আল- হাবিবী, মাওঃ সাজিদুর রহমান, মুফতি ফায়জুল্লাহ, মাওঃ সাফায়েত উল্লাহ, মাওঃ রহমত উল্লাহ, মাওঃ মোবারক উল্লাহ, হাফেজ মোঃ ইদ্রিস, মাওঃ আবু তাহের জেহাদী, মাওঃ বোরহান উদ্দিন কাসেমী, মাওঃ মেরাজুল হক কাসেমী, মুফতি সামছুল হক, মাওঃ হাবিবুর রহমান, মাওঃ জয়নাল আবেদীন, ক্বারী বোরহান উদ্দিন, আব্দুর রহিম কাসেমী, মনসুর আহমেদ, জামায়াত নেতা মাওঃ কুতুব উদ্দিন, ছাত্র নেতা মাওঃ আলতাফ হোসেন, মুসলীমলীগ নেতা আতিকুল ইসলাম, আজিজুর রহমান রিপন প্রমূখ। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন আবুল হাসানাত। তিনি বলেন, বাবা শুধু সরাইল নয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাকে প্রচন্ড ভালবাসতেন। গৃহবন্দী অবস্থায় থাকাকালে বলতেন যদি ছাড়া পায় তবে প্রথমে যাব সরাইল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। বাবার শেষ ইচ্ছে পূরন হয়নি। আমার বাবার ভাবনাকে আপনাদেরকে সাথে নিয়ে আমি বাস্তবায়ন করতে চাই। বাবার জন্য সবাই দোয়া করবেন। সভার শেষে মুফতি আমিনীর বিদেহী আত্মার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করা হয়।

আরিফুল ইসলাম সুমন

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply