মেঘনায় সারোয়ার হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

মেঘনা (কুমিল্লা) / ২৮ ডিসেম্বর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)——
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার লুটেরচর গ্রামে মোঃ সারোয়ার (১৫) নামে এক কিশোররের হত্যাকারীদের ফাসির দাবিতে লুটেরচর দুধ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে গত বৃহসপতিবার মানববন্ধন ও জনসভায় বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী। এলাকার পুরুষ, মহিলা, শিশু, বৃদ্ধসহ সর্বস্তরের মানুষ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহন করে। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছির শেষে দুধমিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে মেঘনা উপজেলা আইনশৃংখলার নিয়ন্ত্রনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, মেঘনা থানা ওসি মোঃ নাসিমউদ্দিন, মেঘনা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ রতন শিকদার, লুটেরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ সানাউল্লাহ শিকদার, মেঘনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোঃ ইসমাইল হোসেন মানিক, সাংবাদিক মোঃ জাহিদ হাসান রানা, বড়কান্দা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলাম, মোঃ শফিকুল ইসলাম মৃধা সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মেঘনা থানা আওয়ামীলীগ, মোঃ জাকির, মোঃ মজিবুর রহমান স্বপন, যুবলীগ নেতা মোঃ মহসীন, এবং এলাকার সর্বস্তরের জনগণ। সারোয়ারকে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ গুম করার ঘটনায় ঢাকা কোতয়ালী থানা পুলিশ ৬জনকে গ্রেফতার করছে। নিহত সরোয়ার দড়িলুটেরচর গ্রামের মোঃ সানাউল্লাহর পুত্র। পরিবারসূত্রে জানা যায়, গত ১৬ নভেম্বর সারোয়ার তার কর্মস্থল তাতিবাজার এলাকা হইতে নিখোঁজ হয়। পরের দিন নিখোঁজ সারোয়ারের মোবাইল নাম্বার ০১৮২৫২৩৬৮১৩ হইতে জানায় ডিটল ও সোহাগ আমাকে ২০ লাখ টাকার জন্য আটকাইয়া রাখিয়াছে। এই ব্যাপারে সারোয়ারের ভগ্নিপতি মোঃ শাহজালাল কোতোয়ালী থানাতে একটি সাধারন ডায়েরী করে। ডায়েলী নং-১২৯২, তাং-২৯/১১/১২ইং। পরবর্তীতে কোতোয়ালী থানা মামারা রুজু করে। মামলা নং-০৩, তারিখ-০২/১২/১২ইং। ঘটনাটি লুটেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সানাউল্লাহ শিকদার জানার পর দ্রুত অপহরনকারী লুটেরচর গ্রামের মোঃ সোহাগকে(২০) আটক করে ঢাকা কোতোয়ালী থানাতে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। মামলার তদন্তকারী অফিসার এস আই মোঃ গোলামরসুল আসামী সোহাগকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে আপহরনকারীরা সারোয়ারকে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ গুম করে। পুলিশ লটেরটেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সানাউল্লাহ শিকদারের সহযোগিতায় লুটেরচর গ্রাম হইতে আসামী মোঃ মুসলেউদ্দিনের পুত্র মোঃ ডিটল(৩০), আবু তাহেরের পুত্র আবু সিদ্দিক(২০), মুডা মিয়ার পুত্র মোঃ রুবেল(২৫), গাইবান্ধার হাশেম(৩৮) ও মতীনকে(৩৭) গ্রেফতার করে। মামলার তদন্তকারী অফিসার এস আই মোঃ গোলামরসুল কোর্টেও অনুমতি নিয়ে সারোয়াওে লাশ উত্তোলনে গত বৃহসপতিবার রাতে গাইবান্ধার উদ্দ্যেশে ঘটনাস্থল রওয়ানা দিয়েছেন। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, ডিলট বহুদিন যাবত পেশাদার খুনি দড়িলুটেরচর গ্রামের নুর মোহাম্মদের পুত্র মোঃ আলীর দলে দীর্ঘদিন যাবত কাজ করছে। তাছাড়া সে নারী পাচারকারী দলের সক্রিয় সদস্য। রুপা নামে একটি নারী ডিটলের নানা অপকর্মের স্বাক্ষী। ডিটল মেঘনা জুয়েল হত্যার আসামী বলে সূত্র জানায়।

মোঃ ইসমাইল হোসেন মানিক
মেঘনা প্রতিনিধি

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply