বিজয়ের মাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দাফন ॥ বিভিন্ন মহলের নিন্দা::ফুলে ফুলে আচ্ছাদিত সায়েদ উল্লাহ খানের মরদেহ

তিতাস / ২০ ডিসেম্বর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)——
ফুলে ফুলে আচ্ছাদিত হলো তিতাস উপজেলার গাজীপুর গ্রামের মরহুম আলী হায়দার খানের পুত্র ও মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক সায়েদ উল্লাহ খানের মরদেহ। বিজয়ের মাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়া দাফন হওয়ায় বিভিন্ন মহল নিন্দা জ্ঞাপন করেছে।
গাজীপুর খাঁন হাইস্কুল এন্ড কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ, জেলা-উপজেলা ও স্থানীয়ভাবে প্রায় অর্ধশতাধিক সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া উন্নয়নমূলক সংগঠন এবং সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন সংস্থা ও কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ ও সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করে মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক সায়েদ উল্লাহ খান গত ১৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতীয় হৃদরোগ ইনষ্টিটিউটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। বুধবার বাদ জোহার গাজীপুর খান হাইস্কুল এন্ড কলেজ মাঠে মরহুমের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। মরহুমের জানাজা পূর্বে তাঁর মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন, কুমিল্লা-২ (তিতাস-হোমনা) আসনের এমপি ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম.কে আনোয়ার, হোমনা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামলী নবী, কুমিল্লা (উত্তর) জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান সরকার, সাপ্তাহিক কালপুরুষ সম্পাদক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ভূঁইয়া, কুমিল্লা (উত্তর) জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সারওয়ার হোসেন বাবু, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুল হক তপন ভূঁইয়া, উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য সচিব মোঃ মহসিন ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন শ্রেণীর ব্যক্তিবর্গ।
স্বাধীনতা যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে সায়েদ উল্লাহ খান উপজেলার বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী, জাতীয় ও স্থানীয় অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচিতি লাভ করলেও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দেয়ায় উপজেলার সর্বত্র সমালোচনার ও নিন্দার ঝড় উঠে।
এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকার বলেন, বিগত চারবছর যাবৎ বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানে বিশেষ করে ২ দিন পূর্বে ১৬ ডিসেম্বর যে ব্যক্তি বিশেষ অতিথি হিসেবে স্মৃতিচারণ করলো, যার গায়ে মুক্তিযোদ্ধার গেঞ্জি ছিল, তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে না এমন বাক্য আমাকে গভীরভাবে মমার্হত করেছে। যা তিতাসবাসীর জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামলী নবী বলেন, সায়েদ উল্লাহ খানের মৃত্যুর খবরটি পেয়ে আমি প্রশাসনিকভাবে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেয়ার জন্য সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করি। বুধবার সকালে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও ডেপুটি কামান্ডার জানান যেহেতু তাহার নাম গেজেট ভূক্ত হয়নি সেহেতু তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেয়া যাবে না মর্মে লিখিত প্রত্যায়নপত্র দেয়ায় আমরা তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে পারেনি।
উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক বীরমুক্তিযোদ্ধা আবদুল মতিন মাষ্টার বলেন, সায়েদ উল্লাহ খান শুধু মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক নয়, তিনি ১৯৬৪ সাল থেকে পাকিস্তানী বিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের অধিনায়ক। রাজনীতি হউক আর ব্যাক্তিগত কারণ হউক তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিলে তিতাসের তেমন কোন ক্ষতি হতো না। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মুক্তিযোদ্ধা দৈনিক রূপসী বাংলা-কে জানান, সায়েদ উল্লাহ খান মুক্তিযোদ্ধা করার জন্য আমাদের ডেকে ডেকে বাড়ি থেকে এনে ভারতে প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য পাঠিয়েছেন। দূরসময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার ও পোষাক সরবরাহ করেছে। সংগঠক হয়ে অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে তিনি ভারতেও গিয়েছিলেন। তার মুক্তিযোদ্ধা আবেদনপত্রটি জেলা পর্যায়ে গেলেও অদৃশ্য কারণে বার বার ফেরত এসেছে।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আক্তার হোসেন নিজাম বলেন, যেহেতু গেজেটে তাহার নাম নেই, সেহেতু তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেয়া ঠিক হবে না। কেন তাকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গন্য করা হতো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন একজন প্রবীন ও তিতাসের শিক্ষানুরাগী হওয়া তাকে মর্যাদা করা হতো। এদিকে গেজেটে নাম প্রকাশ হলেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেয়া হবে; না থাকলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেয়া হবে না এমন অভিযোগের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান জানাজায় উপস্থিত হাজার হাজার মানুষ।

নাজমুল করিম ফারুক
তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply