বিজয়ের মাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দাফন হলো তিতাসের মুক্তিযোদ্ধা সংগঠকের মরদেহ::জানাজায় হাজার হাজার মানুষের ঢল

তিতাস / ১৯ ডিসেম্বর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)——
তিতাস উপজেলার গাজীপুর গ্রামের মরহুম আলী হায়দার খানের পুত্র ও মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক সায়েদ উল্লাহ খানের জানাজায় হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের গেজেটে নাম প্রকাশ না হওয়ায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়ায় বিজয়ের মাস ডিসেম্বরেই দাফন করা হয় তার মরদেহ।
গাজীপুর খাঁন হাইস্কুলের সাবেক অধ্যক্ষ, বৃহত্তর দাউদকান্দি বেসরকারী শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক, কুমিল্লা জেলা বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সহ সভাপতি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় জেলা ছুটি কমিটি, বাংলাদেশ স্কাউটস কুমিল্লা জেলা শাখা এবং জেলা বৃক্ষরোপন ও পরিবেশ উন্নয়ন কমিটির সদস্য। সাবেক উপজেলা স্কাউট কমিটির সম্পাদক, জাতীয স্কুল-মাদ্রাসা ক্রীড়া সমিতির সম্পাদক, ক্রীড়া সংস্থার সহ সভাপতি, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় সমিতির সহ সভাপতি এবং উপজেলা শিক্ষা কমিটি, আইন শৃংখলা কমিটি, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা কমিটি, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় টাইমস্কেল ও প্রমোশন কমিটি, উপজেলা খাস বন্দোবস্ত/বরাদ্দ কমিটি, কৃষি শুমারী কমিটি, পীর শাহবাজ (রঃ) মাজার কমিটি এবং উপজেলা শিক্ষা মানোন্নয়ন কমিটির সদস্য, গাজীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি, কেন্দ্রীয় কবরস্থান ও ঈদগাহ কমিটি, গাজীপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, গাজীপুর উত্তর পাড়া জামে মসজিদ ও গাজীপুর ভূঁইয়া বাড়ি জামে মসজিদের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক সায়েদ উল্লাহ খান গত ১৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতীয় হৃদরোগ ইনষ্টিটিউটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। বুধবার বাদ জোহার গাজীপুর খান হাইস্কুল এন্ড কলেজ মাঠে মরহুমের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। মরহুমের জানাজায় কুমিল্লা-২ (তিতাস-হোমনা) আসনের এমপি ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম.কে আনোয়ার, হোমনা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকার, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি আফসার উদ্দিন, যুগ্মা সাধারণ সম্পাদক আবদুল আউয়াল, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মুন্সি মজিবুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামলী নবী, কুমিল্লা (উত্তর) জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান সরকার, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আক্তার হোসেন নিজাম, ডেপুটি কমান্ডার মোশারফ হোসেন আনছারী, সাপ্তাহিক কালপুরুষ সম্পাদক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ভূঁইয়া, কুমিল্লা (উত্তর) জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সারওয়ার হোসেন বাবু, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ.এস.এম নুরুল আলম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুল হক তপন ভূঁইয়া, উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য সচিব মোঃ মহসিন ভূঁইয়াসহ তিতাস ও পার্শ্ববর্তী উপজেলা বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবক, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে এবছরের ১৬ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, ডেপুটি কমান্ডার, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ প্রায় তিন শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শহীদ বীরমুক্তিযোদ্ধা ও বীরমুক্তিযোদ্ধাদের সম্বর্ধনা ও আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে অধ্যক্ষ সায়েদ উল্লাহ খান আসনগ্রহণ ও বক্তব্য রাখলেও সে মুক্তিযোদ্ধা নয় এবং তাহার নাম মুক্তিযোদ্ধা গেজেটে প্রকাশ হয়নাই বলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেয়া হবে না উপজেলা কমান্ডার ও ডেপুটি কমান্ডারের যৌথ স্বাক্ষরিত প্রত্যায়ণপত্র এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে সায়েদ উল্লাহ খান উপজেলার বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী, জাতীয় ও স্থানীয় অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচিতি লাভ করলেও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দেয়ায় উপজেলার সর্বত্র সমালোচনার ঝড় উঠে।
এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকার বলেন, বিগত চারবছর যাবৎ বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানে বিশেষ করে ২ দিন পূর্বে ১৬ ডিসেম্বর যে ব্যক্তি বিশেষ অতিথি হিসেবে স্মৃতিচারণ করলো, যার গায়ে মুক্তিযোদ্ধার গেঞ্জি ছিল, তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে না এমন বাক্য আমাকে গভীরভাবে মমার্হত করেছে। যা তিতাসবাসীর জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামলী নবী বলেন, সায়েদ উল্লাহ খানের মৃত্যুর খবরটি পেয়ে আমি প্রশাসনিকভাবে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেয়ার জন্য সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করি। বুধবার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও ডেপুটি কামান্ডার জানান যেহেতু তাহার নাম গেজেট ভূক্ত হয়নি সেহেতু তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেয়া যাবে মর্মে লিখিত প্রত্যায়নপত্র দেয়ায় আমরা তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে পারেনি।
উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক বীরমুক্তিযোদ্ধা আবদুল মতিন মাষ্টার বলেন, সায়েদ উল্লাহ খান শুধু মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক নয়, তিনি ১৯৬৪ সাল থেকে পাকিস্তানী বিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের অধিনায়ক। রাজনীতি হউক আর ব্যাক্তিগত কারণ হউক তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিলে তিতাসের তেমন কোন ক্ষতি হতো না। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মুক্তিযোদ্ধা জানান, সায়েদ উল্লাহ খান মুক্তিযোদ্ধা করার জন্য আমাদের ডেকে ডেকে বাড়ি থেকে এনে ভারতে প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য পাঠিয়েছেন। দূরসময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার ও পোষাক সরবরাহ করেছে। সংগঠক হয়ে অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে তিনি ভারতেও গিয়েছিলেন। তার মুক্তিযোদ্ধা আবেদনপত্রটি জেলা পর্যায়ে গেলেও অদৃশ্য কারণে বার বার ফেরত এসেছে।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আক্তার হোসেন নিজাম বলেন, যেহেতু গেজেটে তাহার নাম নেই, সেহেতু তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেয়া ঠিক হবে না। কেন তাকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গন্য করা হতো এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন একজন প্রবীন ও তিতাসের শিক্ষানুরাগী হওয়া তাকে মর্যাদা করা হতো। এদিকে গেজেটে নাম প্রকাশ হলেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেয়া হবে; না থাকলে দেওয়া হবে না এমন অভিযোগের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিতাসবাসী।

নাজমুল করিম ফারুক
তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply