উপজেলা পরিষদসহ সাধারণ মানুষের অভিযোগ:: সরাইলে বিজয় দিবসের নামে সরকার দলীয় নেতাদের ও ইউএনও’র ব্যাপক চাঁদাবাজি

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) /১৭ ডিসেম্বর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)——-
সরাইলে বিজয় দিবসের নামে সরকারদলীয় কয়েকজন নেতাসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ব্যাপক হারে চাঁদাবাজি করেছেন বলে অভিযোগ আনেন খোদ উপজেলা পরিষদ ও স্থানীয় লোকজন।
জানা গেছে, তাদের এই চাঁদাবাজি থেকে রেহাই পায়নি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাজার ও ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পর্যন্ত। সরকার দলীয় নামধারী ক’জন চেলা-চামন্ডাকে সাথে নিয়ে ইউএনও অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ সৃষ্টি করে কয়েক হাজার টাকা থেকে শুরু করে এমনকি পঞ্চাশ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করেছেন। এ বছর বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছেন। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষসহ ভূক্তভোগীরা বিরূপ মন্তব্য করছেন। অনেকে ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
সরাইল উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে অর্থ সংগ্রহ এবং পুরস্কার ক্রয় এ দু’টি উপ-কমিটির আহবায়ক হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজেই। এ ক্ষেত্রে তিনি কারোরই মতামত নেননি। শাহাজান মিয়া আরো বলেন, এ বছর যে হারে এবং যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা আদায় করা হয়ে তা বিগত বছরগুলো পেছনে ফেলে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ এসব নিয়ে নানা অভিযোগ এনেছেন।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা পারভীন বলেন, বিগত কোন বছরেই উপজেলায় এ ধরণের চাঁদাবাজি হয়নি। ইউএনও নিজের মনগড়াভাবে বিভিন্ন উপ-কমিটি করেন এবং নিজে গুরুত্বপূর্ণ দু’টি কমিটির আহবায়ক হন। তার পছন্দের লোকদের সাথে নিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা আদায় করেছেন। কি পরিমাণ টাকা চাঁদা তুলেছেন কিংবা কত টাকা খরচ করেছেন এ বিষয়ে আমরা জানতে চাইলেও তিনি (ইউএনও) এড়িয়ে যাচ্ছেন। মাহমুদা পারভীন আরো জানান, এ বছর পুরস্কার কেনা হয়েছে নি¤œমান ও কম মূল্যের। অথচ ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও চাঁদা এনেছেন বলে লোকজন আমাদের (উপজেলা পরিষদ) জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিছুজ্জামান খাঁন বলেন, বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে এ বছর আমার বাজেট ছিল ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। সরকারি বরাদ্দ পেয়েছি (ভ্যাটবাদে) ১৯ হাজার ২শ’ টাকা। স্থানীয় ৩৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা সংগ্রহ করা হয়েছে ৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। আরো কিছু চাঁদার টাকা আসার সম্ভাবনা আছে। এ টাকা না আসলে অন্যকোন উৎস (খাত) থেকে তা পূরণ করা হবে। সকলের মতামত পেয়েই আমি অর্থ সংগ্রহ ও পুরস্কার ক্রয় কমিটির প্রধান হয়েছি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই প্রোগাম (বিজয় দিবস উদযাপন) উপজেলা প্রশাসন তথা সরকারের। এখানে উপজেলা পরিষদের সাথে সমন্বয়ের কোন প্রয়োজন নেই। উপজেলা প্রশাসনের দাওয়াত কার্ডে নির্বাহী কর্মকর্তার পাশাপাশি উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১এর নাম দেওয়ার কারণে বিভাগীয় কমিশনার আমাকে ফোন করে ধমক দিয়েছেন। ইউএনও দাবি করেন অন্য যেকোন বছরের তুলনায় এবার সরাইলে ব্যতিক্রমভাবে বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
এদিকে অর্থ সংগ্রহ উপ-কমিটির সদস্য উপজেলা আওয়ামী সেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি হাজী ইকবাল হোসেন বলেন, অর্থ সংগ্রহের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। সব কিছু করেছেন ইউএনও নিজে ও তার পছন্দের লোকেরা। তিনি বলেন, বিজয় দিবসের নামে এ বছর ব্যাপক চাঁদাবাজি হয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও রেহাই পায়নি। অপর এক সদস্য সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অ্যাডভোকেট জয়নাল উদ্দিন বলেন, অর্থ কমিটিতে রাখা হয়েছে ঠিকই। তবে কোন বিষয়েই আমার মতামত নেয়নি তারা। চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি লোকমুখে শুনেছি। পুরস্কার ক্রয় কমিটির সদস্য উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক কাজী আমিনুল ইসলাম শেলভী বলেন, ইউএনও নিজেই পুরস্কার কিনেছেন। আমরা এর কিছুই জানি না।

আরিফুল ইসলাম সুমন

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply