আশুগঞ্জ অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার নৌবন্দর স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যবৃন্দের নৌবন্দর পরিদর্শন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া /১৫ ডিসেম্বর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)——-
আশুগঞ্জ নদীবন্দরে অভ্যন্তরীণ কন্টেইনারসহ নৌবন্দরের অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত স্থানসমুহ শনিবার দুপুরে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রনালয়ের গঠিত “আশুগঞ্জ অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার নৌবন্দর স্থাপন” শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যবৃন্দের একটি প্রতিনিধিদল। নৌমন্ত্রনালয়ে যুগ্ম সচিব মোঃ আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় আশুগঞ্জ পৌছে প্রথমে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এক সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় অংশ গ্রহণ করে। পরে প্রতিনিধিদল নৌবন্দরের জন্য প্রস্তাবিত বিভিন্ন স্থানসমুহ পরিদর্শন করেন । পরিদর্শন শেষে ঢাকা ফেরার পথে দুপুর ১টায় পরিদর্শন ও প্রস্তাবিত স্থানের বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
জানা যায়, সরকারের অত্যাবশ্যকীয় প্রকল্পের আওতায় আশুগঞ্জ নদীবন্দরের উন্নয়ন ও ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা প্রদান করতে একটি প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। এ প্রকল্পে ভারত সরকার ২৪৫ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দেয়ার কথা রয়েছে। প্রস্তাবিত বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে আশুগঞ্জ বন্দরে তিনটি আন্তর্জাতিক মানের কন্টেইনার টার্মিনাল জেটি, কাস্টমস অফিস, বিআইডবি¬উটিএ অফিস, স্থল বন্দরের অফিস, ক্রেন ইয়ার্ড, ওয়্যার হাউজ, ইলেক্ট্রিক সাবস্টেশন, ট্রাক ইয়ার্ড, রেস্ট হাউজসহ অন্যান্য আবশ্যিক স্থাপনা নির্মাণ।
জানা যায়, জমি নিয়ে জঠিলতা দেখা দিলে আলোচনার প্রেক্ষিতে ভুমির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে গত ৬ ডিসেম্বর নৌ-মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব আলাউদ্দিনকে আহবায়ক ও মোঃ শহিদুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে “আশুগঞ্জ অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার নৌবন্দর স্থাপন” নামে ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে নৌপরিবহন মন্ত্রনালয়। কমিটিতে শিল্প মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়/খাদ্য অধিদফতর, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন, আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার কোম্পানি, বাংলাদেশ রেলওয়ে, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়েছে। কমিটি আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রস্তাবিত স্থানসমুহ সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে কোন সংস্থা থেকে কি পরিমাণ জমি গ্রহণ করা যায় তার পরিমাণ ও প্রাপ্যতা নির্ধারণ এবং জমির সীমানা চিহ্নিত করে নৌ-মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করার কথা রয়েছে। এ প্রেক্ষিতেই নৌমন্ত্রনালয়ের গঠিত কমিটির মনোনীত ১১ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধিদল গতকাল শনিবার নৌবন্দরের প্রস্তাবিত দুইটি স্থান পরিদর্শন করেন। প্রতিনিধিদলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি আহবায়ক ও সদস্য সচিব ছাড়া অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রনালয়ের উপসচিব জিয়াউর রহমান, রেল মন্ত্রনালয়ের বিভাগীয় এ্্যটেস্ট অফিসার আহমাদুল হক. আশুগঞ্জ সারকারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ সালাহ উদ্দিন, খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক মোঃ জাকির হোসন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব মোঃ খলিরুর রহমান প্রমুখ।

প্রতিনিধিদল প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন শেষে ঢাকায় ফেরা পথে স্থানীয় সাংবাদিকরা নৌবন্দরের বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, প্রকল্প এলাকার স্থান পছন্দনীয়।এব্যাপারে আমরা আলোচনা করে প্রতিবেদন প্রদান করবো। প্রকল্পের কাজ কবে নাগাদ শুরু হবে.জমি নিয়ে কোন জঠিলতা আছে কিনা বা প্রকল্পে অর্থায়ন কে করবে জানতে চাইলে তিনি আরও জানান, জমি সরকারের সুতরাং সরকারের প্রয়োজনে জমি সরকার নিতে পারে তবে আমরা কেবল কোন সংস্থা বা ব্যক্তির যাতে কোন অসুবিধা না হয় বা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখব। প্রকল্পের অর্থায়ন আপাতত সরকার করবে তবে এক্ষেত্রে বৈদেশিক সহায়তার আশা রয়েছে। কবে নাগাদ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে তা তিনি জানাতে পারেন নি।

আরিফুল ইসলাম সুমন

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply