পালিয়ে বিয়ে করার খেসারত নাকি প্রতিশোধ? দাউদকান্দির ফারজানার পর এবার এসিড সন্ত্রাসের শিকার তিতাসে রফিয়া

তিতাস /১৫ ডিসেম্বর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)——-
দাউদকান্দির ফারজানা আক্তারের পর এবার এসিড সন্ত্রাসের শিকার হলো তিতাসের উলুকান্দি গ্রামের মৃত আশাদ মিয়ার মেয়ে রফিয়া আক্তার (২০)। একই গ্রামের কালা মীমের পুত্র আলাউদ্দিন (২৬) এসিড নিক্ষেপ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৭ টায় উলুকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পালিয়ে বিয়ে করার খেসারত নাকি প্রতিশোধ এই প্রশ্ন এখন উপজেলার আনাচা-কানাচে।
এসিড নিক্ষেপের শিকার রফিয়া আক্তারের মা ছুফিয়া আক্তার ওরফে ছমিরন মোবাইলে উক্ত প্রতিনিধিকে জানান, এ বছরে নভেম্বরের ১ তারিখে একই গ্রামের আলাউদ্দিন ফুসলিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে আমার মেয়েকে ঢাকা নিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন দিয়ে ছেলের পরিবারকে চাপ দিলে ৫ দিন পর রফিয়াকে বাড়ীতে পাঠায়। তখন রফিয়া আমাকে জানায়, তাদের বিয়ে হয়েছে কিন্তু কাবিন হয়নি। মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পুনরায় স্থানীয় লোকজন দিয়ে কাবিনের জন্য চাপ দিলে আলাউদ্দিন পরিবার বিভিন্ন ভাবে হুমকি-ধুমকি দিতে থাকে। এক পর্যায়ে সে মানবাধিকার সংস্থার কাছে আবেদনও করে। কিন্তু রফিয়া আমার বাড়ীতে থাকা অবস্থায় আলাউদ্দিন প্রায় তাকে মোবাইলের মাধ্যমে হুমকি-ধুমকি দিত এবং যৌতুক দিলে কাবিন করে ঘরে তুলবে বলে বলতো। এরই মধ্যে গত শুক্রবার রাতে আলাউদ্দিন রফিয়ার মুখে এসিড ছুড়ে। তিনি আরো জানান, ঘটনার পর থেকে আমার মেয়ে অচেতন অবস্থায় ছিল এখন (গতকাল বিকাল ৫টা) জ্ঞান ফিরে এসেছে তবে কোন কিছু বলা যাচ্ছে না। না প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, মৃত আশাদ মিয়ার পরিবারের সাথে একই গ্রামের কালা মীমের পূর্ব থেকে দণ্ড চলে আসছে। কেউ তাদের সমস্যাগুলো মিমাংসা করতে গেলেও কালা মীমের উত্তেজিত মনোভাবের কারণে পিছনে হটতে হয়েছে। তাই অনেকের ধারনা পালিয়ে বিয়ে করা নয় উভয় পরিবারের দ্বন্ধের কারণেও তা হতে পারে। তবে এসিডে আক্রান্ত রফিয়ার মা দ্বন্ধের কথা অস্বীকার করেন।
এদিকে তিতাস থানার এস.আই শহীদুল ইসলাম জানান, রফিয়াকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির পর রাতেই ঢাকা কলেজ মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়েছে। এখন (গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়) পর্যন্ত কোন অভিযোগ জমা পরেনি। তবে এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আলাউদ্দিনকে ধরার জন্য অভিযান অব্যাহত আছে এবং ঘটনাস্থল থেকে এসিড নিক্ষেপের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে আলাউদ্দিন পলাতক রয়েছে। তার নিজস্ব মোবাইলে গতকাল সারাদিন চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, পিতৃহীন তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে রফিয়া ঢাকা ধামনন্ডি মেহেরুন নেছা কলেজ থেকে গত বছর এইচএসসি পাস করে বর্তমানে অনার্সে ভর্তি হওয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। উল্লেখ্য, এ বছর দাউদকান্দি উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের সোনাকান্দা গ্রামের জালাল উদ্দিনের মেয়ে সোনাকান্দা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসা’র নবম শ্রেণীর ছাত্রী ফারজানা আক্তার (১৫) ঘুমন্ত অবস্থায় এসিড নিক্ষেপের শিকার হয়। ২১ দিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত ৪ ডিসেম্বর ধানমন্ডি সেন্টাল হাসপাতালে মারা যায়।

নাজমুল করিম ফারুক
তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply