ডাকাত আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে ব্রাহ্মণপাড়া দুলালপুর এলাকাবাসী

ব্রাহ্মণপাড়া /১৪ ডিসেম্বর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)——-
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার দুলালপুর গ্রামে গত কিছুদিনে পর পর কয়েকটি ডাকাতির ঘটনায় ডাকাত আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে ওই এলাকাবাসী। জানা যায় বেশ কিছুদিন যাবত ওই এলাকার লোকজনের ঘরের বাহিরের বৈদ্যুতিক নিরাত্তা বাতি গুলো কে বা কাহারা চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি গত ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে প্রতি রাতেই বিভিন্ন বাড়ীতে ডাকাতের হামলা হয়। ইতমধ্যে গত ৪ ডিসেম্বর রাতে দুলালপুর ফকির বাড়ীতে স্থানীয় সাংবাদিক আনোয়ারুলের বাড়ীতে হামলা দিয়ে তার উপর ডাকাতের দায়ের কুপে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া দুলালপুর দক্ষিণ পাড়া খবিরের বাড়ী, ছোবহান মেম্বারের বাড়ী থেকে ছেড়ে আসা নতুন বাড়ী (নাল্লা), গোপালনগর আক্তারের বাড়ী, দুলালপুদক্ষিণ পাড়া ইলিয়াছ সরকারের বাড়ী, দুলালপুর মীরকিল্লা পাড়া সামছু ধনুর বাড়ী, তাদের বাড়ীর পাশের নতুন ছোট বাড়ী সহ প্রতি রাতেই ডাকাতের হামলা হয়। এলাকার লোকজনের ধারণা এলাকার চোর প্রকৃতির লোকজন একত্রিত হয়ে দল বেধে বিভিন্ন বাড়ীতে ভয় ভিতি প্রদর্শন করে সুযোগ বুঝে লোকজনকে মারধর করে ডাকাতি করে। বর্তমানে ওই এলাকায় সন্ধ্যার পর লোকজনের চলাচল সীমিত হয়ে যায়। রাত্র বাড়ার সাথে সাথে মানুষের নিস্তব্ধতায় এলাকায় ভ’তুরে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ডাকাতির ঘটনায় মেয়েদের নিরাপত্তার জন্য লোকজনের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ডাকাতের ভয়ে ওই এলাকার লোকজন থানায় কোন এজাহার দাখিল করতে সাহস পাচ্ছে না। ব্রাহ্মণপাড়া থানায় পুলিশের স্বল্পতায় ওই এলাকার লোকজন, স্কুল কলেজের ছাত্ররা একত্রিত হয়ে সারা রাত জেগে পাহারা দেয়ার ব্যবস্থা করলেও কাটছেনা ডাকাত আতঙ্ক। রাত জেগে পাহারা দেয়ার ফলে ছাত্র ছাত্রীদের লেখাপড়ার ক্ষতি হচ্ছে। শুকনু মৌসুমে গত বছর একই ঘটনার বর্তমান মৌসুমে পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। গত বৎসর এলাকার এমপি এড. আবদুল মতিন খসরু, ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার কসবা উপজেলার এমপি, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার পুলিশ সুপার সহ উভয় থানার নেতৃবৃন্দ ডাকাতি আতঙ্কের ঘটনায় বিশাল মিটিং করে তাৎক্ষনিক কিছু পদক্ষেপ নেয়ায় বেশ অনেক দিন ডাকাতি বন্ধ ছিল। কিছুদিন যাবৎ এই ঘটনা শুরু হয়েছে। এই ব্যাপারে ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ উত্তম কুমার বড়–য়া জানান, এসব ঘটনাগুলো রহস্যজনক। আমরা প্রতিনিয়ত চক্রটিকে ধরার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশাকরি সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে এসব বন্ধ হয়ে যাবে। বর্তমানে মোবাইলের যুগ, পাশাপাশি বাড়ীর লোকজনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ রেখে রাতে চোর ডাকাত দেখা মাত্র শোর চিৎকারের মাধ্যমে লোকজনের উপস্থিতি হলে এই পরিস্থিতির উন্নতি হবে আশাকরি। এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে যথাযত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জোর দাবী জানিয়েছেন ওই এলাকার জনসাধারণ।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply