ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুফতি আমিনীর শেষ কথা ইসলামী হুকুমত কায়েম হলে দেশের মানুষ সুখ শান্তিতে থাকবে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া /১৩ ডিসেম্বর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)——-
কড়া বিধি নিষেধ আর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুফতি ফজলুল হক আমিনী গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর শেষ বারের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আমিনপুরে এসেছিলেন তার মামা হাজী ইদ্রিস মিয়ার স্ত্রী লুৎফুরনেসা লিলি(৭৫) এর নামাজে জানাজায়। এসময় তিনি এখানে প্রাণ খুলে কথা বলতে পারেননি। দুপুর সোয়া ১ টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া এসে তিনি বিকেল পৌনে ৩ টায় ঢাকায় চলে যান। সেই সময়ে তিনি জানিয়েছিলেন, মামীর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসার কথা লালবাগ থানার ওসিকে জানান পরে তাকে আসার অনুমতি দেয়া হয়। এসবির লোকজন তার সঙ্গে ছিল। ৩০/৩৫ টি গাড়ীর বহরে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসেন। মামীর নামাজে জানাজায় তিনি ইমামতি করে যাবার মূহুর্তে স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “আমি সরকারকে ওয়াদা দিয়ে এসেছি কোন কথা বলবনা। তবে এতটুকু বলে যাই, ভারতের গাড়ী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপর দিয়ে যেন না চলে সে ব্যাপারে আপনারা সোচ্চার হউন, সাংবাদিকদের প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত জাবাবে তিনি আরও বলেছিলেন “এদেশে ইসলামী হুকুমত কায়েম হউক এটা আমি চাই। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সহ দেশের মানুষ সুখ শান্তিতে থাকুক এমন পরিবেশ আমি চাই। ”
এদিকে ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ঐতিহ্যবাহী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আমিনপুরের সন্তান মুফতি ফজলুল হক আমিনীর মৃত্যুর সংবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সহ তার নির্বাচনী এলাকা সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বুধবার দিবাগত গভীর রাতে এ খবর পেয়ে বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসায় রাত জেগে কোরআন তেলাওয়াৎ করে তার ভক্তরা। ফজরের নামাজ সহ প্রতি ওয়াক্ত নামাজে এখানকার মসজিদে মসজিদে ইসলামী আন্দোলনের এই নেতার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া হয়েছে। মুফতি আমিনীর গ্রামের বাড়ি জেলার পৌর এলাকার গোকর্ণঘাট আমিনপুরে হাজারো মানুষের ঢল নামে। তাকে হারিয়ে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে এই কথা বলছেন সবাই।
জানা গেছে, দীর্ঘ ২১ মাস যাবত মুফতি আমিনী গৃহবন্ধী ছিলেন। কারো সাথে কথা বলা তার বক্তব্য বিবৃতিতে বিধি নিষেধ ছিল। গৃহবন্দী থাকাবস্থায় টেনশনে তার মৃত্যু হয়েছে এমন মন্তব্য করেছেন অনেকে। এ নিয়ে এখানকার মানুষের মাঝে ক্ষোভ সৃস্টি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে দোয়া মাহফিলের সময় তাকে গৃহবন্দী রাখায় সরকারের প্রতি ধিক্কার জানান হয়।
মুফতি আমিনীর চাচা মো. রমজান মিয়া জানান, বড় টেনশন আর শোক বুকে নিয়ে মুফতি আমিনীকে গৃহবন্দী অবস্থায় শেষ বিদায় নিতে হয়েছে। এইসব বলে স্বজনসহ প্রতিবেশী সকলেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এলাকাবাসী জানান, ইসলামী হুকুমত কায়েমে মুফতি আমিনী ছিলেন সোচ্চার কণ্ঠস্বর। তিনি কিছু ভয় পেতেন না। তার বক্তব্যে মানুষ উদ্দীপ্ত হতো অণুপ্রেরণা পেত। এ জন্যই বর্তমান সরকার তাকে গৃহবন্ধী করে রাখে। সবাই আজ ব্যথিত শোকভিভ’ত। ইসলামী আন্দোলনের এ নেতার মৃত্যুতে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। বিক্ষুব্ধ অনেকে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার ইসলাম বিরোধী সরকার, এদেশের মানুষ এ সরকারকে আর ক্ষমতায় বসাবে না, এই কথা মুফতি আমিনী স্পস্ট করে বলে গেছেন গৃহবন্ধী থাকা অবস্থায়ও।

আরিফুল ইসলাম সুমন

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply