শব্দ দূষন বিড়ম্বনায় ভূগছে ব্রাহ্মণপাড়া বাসী

ব্রাহ্মণপাড়া / ১০ ডিসেম্বর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)——–

শব্দের মাধ্যমে মানুষের কথোপকথন, ভাব বিনিময়, মনোরঞ্জন সহ আরও অনেক কিছু হয়। সব কিছুর যেমন মাত্রা আছে শব্দেরও তেমন সহনীয মাত্রা রয়েছে। সম্প্রতি ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় যানবাহনের শব্দের পাশাপাশি বিভিন্ন অজুহাতে মাইক ও বড় স্পিকার দিয়ে শব্দ দুষন করে মানুষের বিড়ম্বনা বাড়িয়ে তুলেছে অতি মাত্রায়। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে যানবাহনের হর্ণ, রাজনৈতিক শো-ডাউনের হর্ণ সহ যুগের হাওয়ায় বিয়ে বাড়ীতে এখন সাউন্ড সিষ্টেম ব্যবহার হচ্ছে। দ্রব্য সামগ্রী, প্রতিষ্ঠান ও অনুষ্ঠানের প্রচারের জন্য সিএনজি বা অটো গাড়ীতে করে একাধিক মাইক উপজেলা সদরের বিভিন্ন রাস্তায় বারংবার ঘুরাফেরা করে বিরক্তিকর শব্দ দুষন করে। রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানেও অপ্রয়োজনীয় মাইক ব্যবহার হয়। বিশেষ করে ওরস মাহফিলে অপ্রয়োজনীয় মাইক ব্যবহারের ফলেও বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। অতীতের মাহফিলের সাথে বর্তমান যুগের মাহফিলের তারতম্য বেড়ে যাওয়ায় মাসায়ালা ও তরিকা ভিত্তিক প্রতিযোগীতা মূলক ভাবে মাহফিলের আয়োজন হয়ে থাকে অনেক বেশী। এসব মাহফিলে দলীয় যোগ্যতা প্রমানের জন্য প্রত্যেকেই বড় গেইট, বড় প্যান্ডেল ও অপ্রয়োজনীয় সংখ্যক মাইক ব্যবহার করে। এর মধ্যে অতিরিক্ত মাইক ব্যবহারের ফলে শব্দ দুষনের কারনে এলাকার শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ্য ও ছাত্র ছাত্রীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয় সব চাইতে বেশী। মাহফিলের প্যান্ডেলের চার পাশে মাইকের পাশাপাশি ১-২ কিলোমিটার দুর পর্যন্ত একত্রে ৪-৫টি করে মাইক বিভিন্ন বিল্ডিংয়ের উপর, মোবাইল টাওয়ারের উপর কিংবা গাছের উপর লাগানো হয়। ফলে ব্রাহ্মণপাড়া এলাকায় শব্দ দুষনের কারনে কেউ শান্তিতে ঘুমাতেও পারেনা। তরিকা বিভক্তি অনুযায়ী মাহফিলে ধর্মীয় শিক্ষনীয় বিষয়বস্তুুর চেয়ে মাজারের প্রচার প্রচারনা থাকে বেশী, ফলে আলোচ্য বিষয় নিয়েও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এসব অনুষ্ঠানে বড় বড় রাজনৈতিক নেতারা প্রধান অতিথি থাকায় শব্দের কারনে সমস্যা হলেও কেউ বাধা দিতে সাহস পায় না। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় ছাত্র ছাত্রীদের একটার পর একটা পরীক্ষা চলতেই থাকে। অনেক বেশী মাইক ব্যবহারের ফলে ছাত্র ছাত্রীরা পড়তে পারে না। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা শেষ হতে না হতেই জে.এস.সি পরীক্ষা, তার কিছুদিন পর আসছে এস.এস.সি পরীক্ষা। শীতের প্রকোপ বৃদ্ধির সাথে সাথে মাইক ব্যবহারের প্রবনতা বৃদ্ধির ফলে ছাত্র ছাত্রীদের লেখাপড়ায় অপুরনীয় ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়াও উপজেলার রাস্তার পাশাপাশি বিল্ডিং তৈরীর সময় রাস্তার উপর মেশিন বসিয়ে ইট ভাঙ্গা হয়। এসময় বিকট আওয়াজের পাশাপাশি ধুলা বালিতে পথচারিদের কষ্ট হয়। এই ব্যাপারে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা: আবু জাহের এ’প্রতিনিধিকে বলেন, মানুষের স্বাভাবিক সহনীয় শব্দের মাত্রা হচ্ছে ৮০ ডিসিমাল, এর বেশী শব্দের কারনে মানুষের বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। হার্টের সমস্যা, মাথা ব্যথা, উচ্চ রক্তচাঁপ, অনিদ্রা সহ নানা সমস্যা হতে পারে। এছাড়া শিশু ও বয়স্কদের জন্য উচ্চ মাত্রার শব্দ অত্যন্ত ঝুকিপূর্ন। এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিজুর রহমান জানান, শব্দ বর্ধক যন্ত্র ব্যবহারের নিয়ম হচ্ছে অনুষ্ঠানের মঞ্চে প্রয়োজনীয় মাইক ব্যবহার করা। মঞ্চের বাইরের মানুষের ব্যাঘাত হয় এমন ভাবে মাইক ব্যবহার আইনত দন্দনীয় অপরাধ। মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রার কথা ভেবে ভবিষ্যতে অপ্রয়োজনীয় অপরিকল্পিত মাইক ব্যবহারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মিজানুর রহমান সরকার, ব্রাহ্মণপাড়া ॥

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply