পেটে ভাত নেই পরনের কাপড় নেই কোলের শিশু দুধ পাচ্ছে না:: সরাইলে ২০ পরিবার খোলা আকাশের নীচে

সরাইল / ৭ ডিসেম্বর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)———

সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল তেলিকান্দি গ্রামে প্রতিপক্ষের দেওয়া আগুনে সর্বশ্বহারা অন্তত ২০টি পরিবারের নারীসহ শিশুরা এখন খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের নেই খাদ্য বস্ত্র নিরাপত্তা। এদের মধ্যে হামলায় আহতরাও নিতে পারছেন চিকিৎসাসেবা। আবারো হামলার আশঙ্কায় এসব পরিবারের পুরুষেরা বাড়িছাড়া। ভয়ে এলাকা ছেড়ে গেছে কয়েকটি পরিবার। আগুনে পুড়ে গেছে মালামালসহ বসত ঘর। প্রতিপক্ষ প্রভাবশালীদের ভয়ে অসহায় এসব মানুষদের সহযোগিতায় গ্রামের কেউই এগিয়ে আসার সাহস পাচ্ছেন না।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য কৃষক ইজ্জত আলীর স্ত্রী নূরজাহান বেগম (৫০) জানান, তারা পেট্টোল ঢেলে ঘর আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে। এতে কাপড়-ছোপড়, খাবার সামগ্রী ও মালামাল আগুনে পুড়ে গেছে। মূল্যবান মালামাল লুটে নিয়েছে তারা। একমাত্র গাভীটি আগুনে পুড়ে মারা গেছে। অনাহারে এক কাপড়ে সবাই দিনযাপন করছি। গৃহবধূ ঝর্ণা বেগম জানান, পরনের কাপড় নেই। পেটে ভাত নেই। কোলের শিশু দুধ পাচ্ছে না। আবার হামলার ভয়ে বাড়ির পুরুষেরা এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। নেই নিরাপত্তা। তাদের (প্রতিপক্ষের) ভয়ে গ্রামের কেউই আমাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসছেন না। এ অবস্থায় মধ্যে আমরা বেঁচে আছি। আহত রোকেয়া বেগম (৩৫) বলেন, হামলায় আহতরা চিকিৎসা নিতে পারছে না। ঘরের চাল ডাল আগুনে পুড়ে গেছে। পুরুষেরা বাড়ি ছাড়া। কারো হাতেই টাকা-পয়সা নেই। গ্রামের ইউপি সদস্য (মেম্বার) মো. কামাল মিয়া জানান, যারা খোলা আকাশের নীচে অসহায় অবস্থায় আছেন, তাদের ব্যাপারে আমরা চিন্তা ভাবনা করতেছি।
এলাকাবাসী জানান, গত ২ নভেম্বর সকালে তেলিকান্দি গ্রামের রফিকুল ইসলাম ও আবুল কালামের পক্ষের লোকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে রফিকুল ইসলামের পক্ষের স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ কমিটির সভাপতি নূর মিয়া ভূইঁয়া (৪০) টেটাবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। দীর্ঘ দিন চিকিৎসারত অবস্থায় গত বুধবার তিনি ঢাকায় একটি হাসপাতালে মারা যান। আওয়ামীলীগ নেতা নুর মিয়ার মৃত্যুর খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে তার অনুসারীরা বুধবার সন্ধ্যায় প্রতিপক্ষ আবুল কালামের পক্ষের লোকদের ঘর-বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় তারা অন্তত ২০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। বুধবার সন্ধ্যায় শুরু করে বৃহস্পতিবার ভোরসকাল পর্যন্ত দফায় দফায় চলে এ তান্ডব। হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়। পাকশিমুল ইউপির চেয়ারম্যান কাজী মোজাম্মেল হক জানান, ভয়ে পুরুষেরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গেছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেছি। গ্রামের পরিস্থিতি এখন শান্ত আছে। সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার চক্রবর্তী জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত আছে।

আরিফুল ইসলাম সুমন, স্টাফ রিপোর্টার

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply