বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আসামী করায় জনমনে ক্ষোভ ও নিন্দা:: তিতাসে অপু হত্যা মামলা নিয়ে রহস্যের জট

তিতাস / ৭ ডিসেম্বর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)———
তিতাস উপজেলা সদরের কলাকান্দি গ্রামের মরহুম কালু মিয়া বেপারীর পুত্র আব্দুল আলিম অপু (৩০) হত্যাকান্ডকে ঘিরে এলাকায় পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। অপু হত্যা মামলায় এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আসামী করায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আবু ইউসুফ ও লিয়াকত হোসেন এবং উপজেলা বিএনপি’র নেতা হোসেন মেম্বার, মিজান ভূইয়া, সাঈদসহ নেতাকর্মীদের আসামি করায় রাজনৈতিক মহল, সুশীল সমাজ, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ীসহ নানা পেশার মানুষের মধ্যে দেখা দেয় চরম ক্ষোভ। নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠে সর্ব মহলে। এজাহারে নাম অন্তর্ভুক্ত ও গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে একটি চিহ্নিত গ্র“প চাঁদাবাজি করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এদিকে এলাকাবাসী বলছে, অপু ছিল একজন সহজ, সরল প্রকৃতি ও বোকা ধরনের। এছাড়াও তার চলনে-বলনে মেয়েলি স্বভাব ছিল। তার কোন শক্রও ছিল না। ফলে এ হত্যাকান্ড নিয়ে তিতাসের সর্বত্র মানুষের মধ্যে নানা কানাঘুষা ও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে এ হত্যা নিয়ে এলাকায় এক রহস্যের জট বেঁধেছে।
সরজমিনে উপজেলা সদরের আশপাশের কয়েকটি গ্রামে গেলে এসব তথ্যচিত্র ফুটে উঠে। জানা যায়, গত ২ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ৮টার দিকে নিহত অপু একই গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ লিয়াকতের বাড়িতে অনুষ্ঠিত ওয়াজ মাহফিলে যায়। তারপর আর সে বাড়ি ফেরেনি। পরদিন ভোরে কলাকান্দি গ্রামের পশ্চিম-উত্তরের বিলে কৃষক কাজ করতে গেলে নারী-ভুড়ি বের হওয়া অবস্থায় অপুর লাশ দেখতে পায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুমেক হাসাপাতালে পাঠায়। দুর্বৃত্তরা অপুকে হাত পায়ের রগ কেটে জবাই করে নির্মমভাবে খুন করে। এই নির্মম হত্যাকান্ডের প্রকৃত খুনিদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি উঠে তিতাসের সর্বমহল থেকে। এদিকে লাশ উদ্ধারের পর পর মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে যে, সরল সহজ অপুকে তৃতীয় কোন পক্ষ খুন করে এলাকার বিশিষ্ট গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ঘায়েল করার জন্যই এই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। পরে গত ৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যার দিকে নিহতের ভাই মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরসহ ১৭ জনকে আসামী করে অভিযোগ দিলে তিতাস থানা মামলা (মামলা নং-০২) রুজু করা হয়। মামলা রুজু হওয়ার পর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নাম এজাহারে থাকার খবর ছড়িয়ে পরলে সর্বমহল থেকে সুষ্ঠু তদন্তের জোর দাবী উঠে এবং মামলাটিকে বিতর্কিত বলে কথা উঠে।
এদিকে এই রহস্যাবৃত মামলাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও এলাকায় নানাহ প্রশ্ন উঠে। কুমিল্লা-২ (তিতাস-হোমনা) আসন থেকে গত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ রহস্যজনক এই মামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে এই মিথ্যা মামলা রুজু করে পুলিশ তাদের ভূমিকাকে জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। আমি এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। তিনি আরও বলেন, তিতাস থানার ওসি কোন একটি দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে বলেও অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী বলেন, অপু হত্যা মামলার সকল আসামীরাই দীর্ঘদিন যাবত এলাকায় বিচার-সালিশী করে আসছে। তারা এ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি। তাদেরকে আসামি দিয়ে পুলিশ প্রমাণ করেছে, টাকা দিলেই মিথ্যা মামলা রুজু করা যায়। উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এবং যুবলীগের আহ্বায়ক মুন্সী মজিবুর রহমান অপু হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত খুনিদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানিয়ে বলেন, মামলায় যাদের আসামী করা হয়েছে তারা কোন স্বার্থে একজন বোকা এবং সরল সহজ ব্যক্তিকে হত্যা করতে যাবে তা আমার বোধগম্য নয়।

নাজমুল করিম ফারুক
তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply