কুমিল্লার দাউদকান্দিতে এসিডসন্ত্রাসের শিকার ফারজানা ২২দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্ছা লড়ে বিদায় নিলেন

দাউদকান্দি/ ৩ ডিসেম্বর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)———
দাউদকান্দি উপজেলার সোনাকান্দা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার নবম শ্রেণীর ছাত্রী এবং সোনাকান্দা গ্রামের জালাল উদ্দিনের মেয়ে ফারজানা আক্তার (১৫) এসিডসন্ত্রাসের শিকার হয়ে ২২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্ছা লড়ে অবশেষে বিদায় নিলেন। সোমবার দুপুর ১২টায় ঢাকার ধানমন্ডি সেন্টাল প্রাইভেট হাসপতালে তিন দিন লাইফ সার্পোটে রাখার পর তা খুলে ফেললে ফারজানা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে মাদরাসার ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকমন্ডলী এবং এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
স্থানীয় বখাটে সাদ্দাম হোসেন ও তার মাদরাসার সাবেক শিক্ষক মোঃ দেলোয়ার হোসেনের প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় গত ১২ নভেম্বর ভোররাতে দাউদকান্দি উপজেলার পদুয়ার ইউনিয়নের সোনাকান্দা গ্রামে মাদরাসার ছাত্রী ফারজানা আক্তার (১৫), তার বোনের ছেলে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র ফয়সাল মাহমুদ (১০) এবং কাজের মেয়ে খাদিজা আক্তার (১৭) ঘুমন্ত অবস্থায় ভয়াবহ এসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়।
ফারজানার বাবা ও থানা পুলিশ জানায়, দাউদকান্দি উপজেলার গোয়ালমারী ইউনিয়নের জামালকান্দি গ্রামের কালু মিয়ার পুত্র বখাটে সাদ্দাম হোসেন (২২) এবং ফারাজানার মাদরাসার সাবেক শিক্ষক মোঃ দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন যাবত তাকে প্্েরমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। মেয়েটি প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ঘরের জানালা দিয়ে বখাটেরা এসিড নিক্ষেপ করলে ফারজানা আক্তার ও সঙ্গে থাকা অপর দুইজন ভয়াবহ এসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়। সঙ্গে সঙ্গে ৩ জনকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে পাঠানো হয়। ফারজানা আক্তারের অবস্থা আরো আংশকাজনক হলে বাংলাদেশ মানবাধিকার সংগঠন তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা ধানমন্ডি প্রাইভেট সেন্টাল হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসারত অবস্থায় আজ সোমবার ফারজানার মৃত্যু হয়।
নিহত ফারজানার বড় ভাই স্কুল শিক্ষক মোঃ জিসান উদ্দিন বলেন, ‘আমার বোনের এ করুণ মুত্যুর সাথে যারা জড়িত তাদের গ্রেফতার ও ফাঁসি চাই’। পঁদুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ সোলেয়মান মোল্লা বলেন, ‘বখাটেদের এসিডসন্ত্রাসের শিকার হয়ে ফারজানা আক্তার যে মরণযন্ত্রনায় ২২দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করেছে এ মরণযন্ত্রনা খুবই কঠিন। এ বখাটেদের ফাঁসি না হলে সমাজে এসিডসন্ত্রাস আরও বেড়ে যাবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আনোয়ারুল নাসের জানান, ‘ফারজানার মৃত্যুর খবর প্রশাসন পেয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না’। দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল ফয়সল জানান, এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন এবং মামলার ৩,৪,ও ৫ নং আসামী মোঃ আমিন, বাবু মিয়া ও মোঃ রাসেলকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি ১ নং আসামী সাদ্দাম হোসেন,২ নং আসামী দেলোয়ার হোসেন ও ৬ নং আসামী আসমা বেগমকে গ্রেফতার করতে পুলিশি অভিযান চলছে।

শামীমা সুলতানা
দাউদকান্দি, কুমিল্লা।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply