জীবন দিয়ে বাবা-মাকে যৌতুক থেকে ’মুক্তি’ দিল সবিতা

সরাইল / ৩ ডিসেম্বর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)———
মনের মানুষের হাত ধরে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে ছিল সবিতা। স্বপ্ন ছিল সুখের সংসার বাধবে। স্বপ্ন পূরণের আশ্বাসে ফিরে আসে মনের মানুষের বাড়ি। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় যৌতুক। মনের মানুষের পরিবারের পক্ষ থেকে চাওয়া হয় দুই লাখ টাকা আর দুই ভরি স্বর্ণালংকার। যা সবিতার দরিদ্র পরিবারের পক্ষে সম্ভব ছিল না।
যে কারনে যৌতুক দিতে অপারগতা প্রকাশ করে সবিতার পরিবার। তাই আর হয়তো সুখের সংসার হচ্ছে না, এমন ভেবেই ফাঁসিতে ঝুলেই আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে সবিতা। জীবন দিয়ে বাবা-মাকে যৌতুক থেকে ’মুক্তি’ দিয়েছে সে।
সোমবার সকালে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। সবিতা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের নরসিংহপুর গ্রামের আব্দুল বারিকের মেয়ে। পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, যৌতুকের চাপেই সবিতা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। পুলিশও আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে প্রায় একই রকম কথা বলেছেন।
লাশ উদ্ধার করা সরাইল থানার এস.আই মো. ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, ’মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে এটা প্রায় নিশ্চিত। মনে হয় সালিশে বিয়ের বিষয়ে মীমাংসা না হওয়ায় সে আত্মহত্যা করে। রওশন মিয়া নামে এক ব্যক্তির ঘর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। রওশন মিয়ার পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন সামবার সকাল আটটার দিকে সবিতার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান তারা’।
তবে সোমবার সন্ধ্যা নাগাদ এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়ের হয়নি। পুলিশ জানায়, ময়না তদন্তের জন্য লাশ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের লোকজনের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নরসিংহপুর গ্রামের সহিদ মিয়ার ছেলে নজরুল মিয়ার সঙ্গে একই এলাকার আব্দুল বারিকের মেয়ে সবিতা আক্তারের প্রেম ছিল প্রায় এক বছর ধরে। গত শুক্রবার তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। গত রবিবার দু’জনকে উপজেলার পানিশ্বর এলাকা থেকে নিয়ে আসা হয়।
তাদের বিষয়টি নিয়ে রাতেই জনৈক গোলাপ মিয়ার বাড়িতে সালিশ হয়। সালিশে তাদের মধ্যে বিয়ে পড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। যৌতুক হিসেবে ছেলে পক্ষ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা ও দুই ভরি স্বর্ণালংকার চাওয়া হয়। এই যৌতুকগুলো দিতে পারলে সোমবার তাদের বিয়ের দিন ধার্য করা হয় সালিশে। সবিতাকে রাতে রাখা হয় পার্শ্ববর্তী রওশন মিয়ার ঘরে।
সবিতার চাচা খোরশেদ আলম ও বোন জামাই এরশাদ মিয়া সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, সালিসে রায় করা এত যৌতুক দিতে সবিতার দরিদ্র পিতা অপারগতা প্রকাশ করেন। এত বেশি যৌতুকের কথা শুনেই সে আত্মহত্যা করে। আমরা এর বিচার চাই।
সালিস বৈঠকে উপস্থিত গ্রামের গফুর মিয়া নামে এক ব্যক্তি জানান, তিনি সেখানে উপস্থিত থাকলেও এ বিষয়ে কোনো রায় দেন নি। যা বলার সরদাররাই বলেছেন। ওয়াদুদ মিয়া ও কালা মিয়া বলেন, ’সালিসে যৌতুকের কোনো কথা বলা হয়নি। তবে মেয়ের বাবাই নিজেই কিছু দিবেন বলেছিলেন’।
এ ব্যাপারে সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার চক্রবর্তী জানান, মেয়েটি পাশের বাড়ির এক ছেলের হাত ধরে পালিয়ে যায়। পরে তাদের মধ্যে বিয়ে পড়ানো বিষয়ে সালিশ হয়। কিন্তু বিয়ে নিয়ে ঝামেলা বেধে গেলে মেয়েটি আত্মহত্যা করে বলে জেনেছি।

আরিফুল ইসলাম সুমন

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply