শালীনতার মলিনতা ———–কাজী কোহিনূর বেগম তিথি


আমাদের দেশ দরিদ্রপীড়িত এবং মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। মুসলিম দেশে বসবাস করে আমরা ইসলামের মর্যাদা কতটুকু দিয়ে চলি ? ইসলাম মানে শান্তি। আজ আমরা শান্তির পথ ছেড়ে অশান্তির পথ ধরে চলেছি। শুধু কাগজ-কলমে ইসলামিক দেশ কথাটা লিপিবদ্ধ আছে। ঘরের বাইরে বের হলে দেখা যায় অশালিন পোষাক আর অশালিন আচার-আচরনের ছড়াছড়ি। আমাদের রুচি আর মূল্যবোধ আজ কোথায় গিয়ে দাড়িয়েছে।
এজন্য আমাদের অভিভাবক মহল দায়ী। যারা নামে মুসলমান। ইসলামিক অনুশাসন মেনে চলেন না, নিজেরাও ধর্মীয় অনুশাসন না মেনে নিজেরাও অশালীন পোশাক পরছেন, উগ্র মেজাজে উচ্চস্বরে কথা বলছেন।
শুধু সরকারকে দোষ দিলে হবে না। অনুশাসন পরিবার থেকেই আসতে হবে। অর্থ্যাৎ কথাটা পরিবার-সমাজ তারপর রাষ্ট্র । পারিবারিক অনুশাসনটা প্রথমে সমাজে তারপর রাষ্ট্রে প্রভাব বিস্তার করে। সে ক্ষেত্রে অভিভাবক মন্ডলীর দায়িত্ব কর্তব্য অনেক। পারিবারিক পরিবেশে সুশৃংখল মার্জিত ভাবে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে প্রতিটি মানুষ সোচ্চার হলে বিশেষ করে অভিভাবক মন্ডলী-তাহলে সমাজের কিশোর-কিশোরীরা তরুন-তরুনীরা ভদ্র-নম্র ,শালীন ভাবে চলাফেরায় অভ্যস্ত হয়ে যাবে। সেজন্য পরিবারে অভিভাবক যারা নিজেদের দায়িত্বের প্রতি যতœশীল হয়ে বিভিন্ন ধরনের উন্নতমানের ভাল লেখকের বই, ধর্মীয় বই পড়ায় অভ্যস্ত হলে – পরিবার সুন্দর ভাবে পরিচালনা করার ক্ষেত্রে সহায়ক হিসাবে কাজ করতে পারে।
ঘরের বাইরে বের হলে দেখা যায়- মহিলা-পুরুষ, ছেলে-মেয়ে কারো প্রতি কারো সম্মান বোধ নেই। মেয়েদের ছোট জামা –গলায় ওড়না দেখে ছেলেরা অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে কখনো শীষ দেয়। অথবা সূযোগ পেলে মেয়েটিকে ধাক্কা দেয়-আর মেয়েটি তখন চিৎকার করে মানুষ জড়ো করে -ছেলেটিকে গনপিটুনি দেওয়ার চেষ্টা করে। এক্ষেত্রে ছেলেটির কি শুধুই দোষ ? না কি মেয়েটির উগ্র পোষাক দায়ী ? এভাবে আমরা ভেবে দেখি না।আর এসব পরিস্থিতির জন্য আমাদের অভিভাবক মন্ডলী দায়ী। শুধু পোশাক নয় আজ বিভিন্ন বয়সের ছেলে মেয়েরা নেশাগ্রস্থ হয়ে পড়ছে। সমাজ এবং রাষ্ট্র কলুষিত হচ্ছে। আধুনিকতার নামে ছেলে মেয়েরা কাজের মানুষের কাছে মানুষ হচ্ছে। সেই কাজের মানুষের আচার আচরন নিজের সন্তানা রপ্ত করছে, সে ব্যাপারে অভিভাবকরা উদাসীন এবং এইসব সন্তানরা বড় হলে অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রনে থাকে না। তখন তারা আফসোস করে।
এজন্য অভিভাবক মন্ডলী সচেতন না হলে সমাজ এবং রাষ্ট্রের পরিবেশ ঘুঁনে ধরে।আজ আমরা কেন উচ্ছন্নে যাচ্ছি ? অমার্জিত-রুচিহীন ছবি দেখি ? এজন্য পরিবারের অভিভাবক মন্ডলীকে শক্তিশালি হতে হবে জ্ঞানে গরিমায় শিক্ষা-দীক্ষায়। এক্ষেত্রে স্ব-উদ্যেগের শিক্ষটাই
বেশী জরুরী। অভিভাবকত্বের উপরে আমাদের দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতে হবে। তা না হলে দায়িত্বহীনতা নিজের উপরে অভিশাপ হয়ে ছোবল দিবে।
আবার অনেক দায়িত্ব সম্পন্ন অভিভাবকরা নিজের সন্তানকে নিয়ন্ত্রনে অনেক সময় আনতে পারেন না, উশৃংখল সহপাঠিদের সংস্পর্শের কারনে।
তাছাড়া সমাজের কিশোর-কিশোরিরা নেশাগ্রস্থ হয়ে পড়ছে। অভিভাবকদের অসচেনতার কারনে। ছিনতাইকারী, জুয়াখোর, মদখোর ইত্যাদি প্রকৃতির মানুষরা সমাজটাকে নষ্ট করছে। এক্ষেত্রে সাময়িকভাবে আইন শৃংখলা রক্ষাকারীরা ভুমিকা পালন করতে পারে। কিন্তু স্থায়ীভাবে শৃংখলিত জীবন একমাত্র উপহার দিতে পারেন পরিবার এবং সমাজের অভিভাবক মন্ডলী।
আবার আমাদের দেশের যাতায়াত ব্যবস্থার কথা যদি বলতে চাই বিশেষ করে ঢাকাতে।সেটা হলো রাস্তাঘাটে মহিলাদের বি আর টি সি ছাড়া আর কোন নির্ধারিত বাস নেই।যার জন্য মহিলারা, পুরুষ শাসিত সমাজে অনেক আপত্তিকর পরিস্থির সম্মূখীন হন।প্রতিটি বাসে স্বল্পসংখ্যক মহিলা সীট থাকলেও অনেক সময় ওখানে পুরুষ যাত্রীরা বসে থাকে । কখনো দেখা যায় অনেক ভীড়ের মাঝে কিছু কিছু পুরুষেরা মহিলাদের সাথে অসংযত আচরন করে।বাসে একজন দাড়িয়ে থাকা মহিলাকে একজন পুরুষ যখন সীট ছেড়ে না দিয়ে বসে থাকে, অনেক সময় দাড়িয়ে থাকা মহিলাকে ঊত্তক্ত করে – তখন বোঝা যায় আমাদের মানবিকতা কতদূর নীচে নেমে গেছে।আর যেহেতু তাই আমার দৃষ্টিভঙ্গি বলে, বিভিন্ন রুটে মহিলাদের আলাদা বাসের ব্যবস্থা হওয়া দরকার।আমার বিশ্বাস মহিলাদের যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতি হলে আমাদের দেশের আরো অনেক মহিলারা কর্মসংস্থানে যোগ দিবে এবং উন্নয়ন মূলক কাজে অংশ নিতে উৎসাহিত বোধ করবে।আর মহিলাদের আলাদা বাস ব্যবস্থা হলে, মহিলা সীট সংখ্যা আরো পর্যাপ্ত হলে অথবা সীট অনুপাতে যাত্রী নিলেÑপুরুষদের সাথে আর ধাক্কা ধাক্কি করে বাসে উঠে –অশালীন পরিস্থির সম্মূখীন হতে হবে না।
আমাদের সমাজের যারা অভিভাবক মন্ডলী যাদেরকে আমরা এলিট বলে থাকি-তাদের দায়িত্ব অনেক। এই ঘুঁনে ধরা সমাজটাকে ঘুঁনমুক্ত করার দায়িত্ব তাদের। সেজন্য সমাজের এই অসুস্থ পরিবেশ নিরসনের লক্ষ্যে সমাজের এলিটদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
সমাজের এলিট যারা তারা দায়িত্ব নিয়ে , শান্তির পরিবেশ এই সমাজকে উপহার দেওয়ার জন্য এলাকা ভিত্তিক , বিষয় বস্তু নির্ধারন করে কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে একটা সৃজনশীল সমাজ উপহার দিতে পারেন। এটা আমার দৃড় বিশ্বাস। আল্লাহ্ আমাদের সার্বিক মঙ্গল দিন। এ বিশ্ব একদিন শান্তিতে ভরে উঠুক। দূর হোক শালীনতার মলিনতা।

কাজী কোহিনূর বেগম তিথি
লেখিকা এবং সমাজকর্মী
kazitithi@gmail.com
বাসা #২৭৪,দ্বিতীয় তলা, সানফ্লাওয়ার স্কুলের পেছনে,কসাই বাজার, আসকোনা, মোল্লার টেক, দক্ষিন খান০১৭১২৩৫১২৪৩,০১৯২৯৭৩৮৩০৭

Check Also

মিনি ওয়াক-ইন-সেন্টারের মাধ্যমে রবি’র গ্রাহক সেবা সম্প্রসারণ

ঢাকা :– গ্রাহক সেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড সম্প্রতি মিনি ওয়াক ...

Leave a Reply