এইবার মাফ কইরা দেন:: গরীবের গম আর ওজনে কম দিমু না !

ব্রাহ্মণবাড়িয়া / ২ ডিসেম্বর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)———
“এইবার আমারে মাফ কইরা দেন। আমার অপরাধ হয়েছে। আর এমন ভুল হবে না। সামনে থেকে গরীবের গম-চাল আর ওজনে কম দিমু না।” রোববার বিকেলে প্রকাশ্যে জনসম্মূখে দুই হাত জোড় করে এ কথাগুলো বলছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আ’লীগ নেতা মো. নূরুল হক। গরীবদের জন্য বরাদ্দকৃত গম প্রকাশ্যে কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সাংবাদিকদের সামনে তিনি এ কথা বলেন।
জানা গেছে, পানিশ্বর ইউনিয়নের দুস্থ অসহায় ভিজিডি কার্ডধারী ১২৯ জন প্রতি মাসে জনপ্রতি ৩০ কেজি গম/চাল পান। বিতরণের সুবিধার্থে ইউনিয়নের বেড়তলা গ্রামের আবুল হাসানের বাড়িতে বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্য রাখা হয় এবং সেখান থেকেই বিতরণ করা হয়।
রবিবার সকালে উপজেলা সমবায় অফিসার শাহআলমের উপস্থিতিতে বেড়তলা গ্রামের আবুল হাসানের বাড়ি থেকে দুঃস্থ লোকদের মাঝে গম বিতরন শুরু হয়। কয়েক বস্তা গম বিতরনের পরই তদারকি অফিসার শাহআলম চলে যান। পরে দুস্থ কার্ডধারীদের ওজনে কম দেওয়ায়, থেকে যাওয়া ২৩ বস্তা (প্রতিটি প্রায় ৫০ কেজি) গম স্থানীয় ব্যবসায়ী ইদন মিয়া-(৩৫) ও রাহিছ মিয়া-(৫৫) এর কাছে বিক্রি করে দেন পরিষদের চেয়ারম্যান, সচিব সহ দু’জন ইউপি সদস্য।
ব্যবসায়ীরা গম মাপঝোঁক করার সময় সাংবাদিকরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তারা পালিয়ে যান। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
বেড়তলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মো. আবু সায়েদ সাংবাদিকদের জানান, চাল বা গম ওজনে কম দেওয়া হচ্ছিল বলে দীর্ঘদিন ধরেই কার্ডধারিরা অভিযোগ করে আসছিলেন। রবিবার গম বিতরণের পর কালোবাজারে বিক্রয়ের সময় হাতেনাতে দুইজনকে আটক করে স্থানীয় জনতা। পরে ইউএনও ও থানা পুলিশ সেখানে এসে হাজির হয়। তাঁদের উপিস্থিতি টের পেয়ে ওই দুই ক্রেতা সটকে পড়ে।
এ ব্যাপারে বাড়ির মালিক আবুল হাসান বলেন, পানিশ্বর দূর্গম এলাকা হওয়ায় আমার বাড়িতে রেখেই ইউনিয়নের গম-চাল গরীবদের মাঝে বিতরণ করা হয়। তিনি বলেন, প্রতিমাসে গম/চাল বিতরণের সময়ে চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা চাল ব্যবসায়ী ইদন ও রাহিছ মিয়ার কাছে গম/চাল বিক্রি করে আসছেন। রোববার তারা ২৩ বস্তা গম দুই ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন।
এ ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা মো. নূরুল হক বলেন, এটা আমাদের ভুল হয়েছে। প্রথমবারের মতো ইউএনও সাহেব সহ সকলের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। ভবিষ্যতে এ ধরনের আর হবে না।
সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার চক্রবর্তী জানান, সন্ধ্যায় চালগুলো জব্দ করা হয়েছে। তবে আইনগত প্রক্রিয়ার বিষয়টি তিনি তাৎক্ষনিকভাবে জানাতে পারেন নি।
সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আনিসুজ্জামান খান বলেন, ’কালোবাজারে গম বিক্রির খবর পেয়ে আমি সেখানে যাই। তবে মাস্টার রোলে দেখেছি সবাই ঠিক মতোই গম নিয়েছে। চেয়ারম্যান জানিয়েছে যারা উপকারভোগী তারাই নাকি গমগুলো একজন বিক্রেতার কাছে বিক্রি করে দিয়ে যান। তবে আমি কোনো উপকারভোগীকে সেখানে পাইনি’। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ’এখানে যেটা নিয়মের ব্যতয় হয়েছে সেটা হলো বিতরণের পর এভাবে সাথে সাথেই সামনা-সামনি গম ক্রয়-বিক্রয়ের কোনো নিয়ম নেই। কাগজপত্রে সবকিছু ঠিকঠাক ছিল বলে আমি সেখান থেকে চলে এসেছি’।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক নূর মোহাম্মদ মজুমদারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি ঘটনাশুনে গম জব্ধ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছি।

আরিফুল ইসলাম সুমন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকেঃ

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply