সরাইল ইউএনও’র অনুমতিতে শুক্রবার অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী রুনার বিয়ে:: দাওয়াত পেয়েছেন মহাজোট সংসদ সদস্য

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) / ২৯ নভেম্বর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)———
শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বাল্য বিয়ের অভিশপ্ত পিঁড়িতে বসানো হবে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী রুনা আক্তারকে। আর এই বিয়ের অনুমতি দিয়েছেন সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান খাঁন। শুধু তা-ই নয়, আলোচিত এই বাল্য বিয়ে ভেঙ্গে দিতে পুলিশ উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু ইউএনও ফোন করে পুলিশকেও থামিয়ে দেন।
এলাকাবাসী জানান, উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের আখিঁতারা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল বাছিরের মেয়ে রুনা আক্তার। সে আলহাজ্ব নুরুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী। স্কুলছাত্রীর পরিবার একই গ্রামের হামদু মিয়ার ছেলে মালয়েশিয়া ফেরত মো. রোকেল মিয়া (৩৩) সাথে তার বিয়ের দিনক্ষণ ধার্য্য করেছেন। বহুল আলোচিত এই বাল্য বিয়ে নিয়ে বৃহস্পতিবার স্থানীয় ও জাতীয় একাধিক দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে টনক নড়ে প্রশাসনের। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খবর পাঠিয়ে স্কুলছাত্রী রুনার পিতা আবদুল বাছিরকে তার দফতরে আনেন। আবদুল বাছির দুইদিন আগে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ১৮ বছর বয়স লেখিয়ে আনা মেয়ের জন্ম নিবন্ধন সনদ ইউএনও’কে দেখান। এতেই ইউএনও সন্তুষ্ট হয়ে স্কুলছাত্রী রুনার বিয়ের অনুমতি দিয়ে দেন। এ সুযোগে আবদুল বাছির তার মেয়ের বিয়েতে যেতে ইউএনওকে দাওয়াত করে ফেলেন।
আলহাজ্ব নুরুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, রুনা আক্তার অষ্টম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী। তার রোল নং-১০। সদ্য সমাপ্ত এ বছরের জেএসসি পরীক্ষায় সে অংশ গ্রহন করেছে। তার নিবন্ধন নং- ১২১১৮১৫২২৭। বিদ্যালয়ের রেজিষ্টার অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ২২ জানুয়ারী ১৯৯৮ ইং। বর্তমান বয়স ১৪ বছর ১০ মাস ৮ দিন। প্রধান শিক্ষক আরো বলেন, তার বিয়ের বিষয়টি আমি জেনেছি। এটা বাল্য বিয়ে, আইন সিদ্ধ নয়। আমরা এটাকে সমর্থন করি না।
রুনার পিতা আব্দুল বাছির বলেন, ‘রাজনীতি করি তাই শত্রু বেশি। মেয়ের বিয়েতে স্থানীয় সংসদ সদস্য জাপার কেন্দ্রিয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধাকে দাওয়াত করা হয়েছে। তিনি এ বিয়েতে আসবেন বলে কথা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার উপর মহল থেকে ফোন আসার পর ইউএনও সাহেব অনুমতি দিয়ে আমাকে বলেন সুন্দর করে বিয়ের আয়োজন করতে। এসময় ইউএনও সাহেবকেও দাওয়াত করেছি। আব্দুল বাছির দাবি করেন, তার মেয়ের বিয়ের বয়স হয়েছে।
নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু মুছা উসমানী মাসুদ বলেন, ‘মেয়েটি অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে তা আমার জানা ছিল না। মেয়ের বাবার আবেদনের প্রেক্ষিতে বিশ্বাস করে গত মঙ্গলবার তাকে জন্ম নিবন্ধন সনদ দেওয়া হয়েছে। তবে আমি তাকে বলেছি এই বাল্য বিয়ে বন্ধ করতে।’
সরাইল থানার ওসি উত্তম কুমার চক্রবর্তী বলেন,‘মেয়ের ১৮ বছর পূর্ন হয়েছে বলে ইউএনও স্যার আমাকে জানিয়েছেন। তাই এ ব্যাপারে আমার কিছুই করার নেই।’
উপজেলা পরিষদ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা পারভীন বলেন, বিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রেশন কার্ডের বয়স সরকারি স্বীকৃতি। এলাকার অনেক লোক ১২ বছর বয়সের ছেলে মেয়ের বয়স ১৯/২০ লিখিয়ে সনদ নিয়ে যান। ইউএনও একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে আরো যাচাই বাচাই করা দরকার ছিল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ই্ওএনও) মো. আনিসুজ্জামান খান বলেন, বিদ্যালয়ের জন্ম তারিখ আমাদের কাছে গ্রহন যোগ্য নয়। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেওয়া জন্মনিবন্ধন সনদ অনুযায়ী মেয়ের বয়স ১৮ বছর তিন মাস উনিশ দিন। তাই এ বিয়ে হতে কোন বাঁধা নেই। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যও অবগত আছেন বলে জানান তিনি।
স্থানীয় সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা বলেন, আখিঁতারা গ্রাম এমনিতেই পশ্চাতপদ। তারা দেরিতে স্কুলে ভর্তী করে। এলাকাবাসী আমাকে জানিয়েছে ওই মেয়ের বিয়ের বয়স হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দাওয়াত পেলেও ওই বিয়েতে তিনি যাচ্ছেন না।

আরিফুল ইসলাম সুমন

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply