সরাইলে সরকারি জায়গায় দেওয়া যুবলীগ কর্মীর কাঁটাতারের বেড়া অপসারন

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) / ২৬ নভেম্বর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)———
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে উপজেলা প্রশাসনের জায়গায় দেওয়া যুবলীগ কর্মীর কাঁটাতারের বেড়া সোমবার সরিয়ে ফেলা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আনিসুজ্জমান খান লোকজন নিয়ে বেড়াটি সরিয়ে ফেলেন। এর আগে জায়গাটি দাদার সূত্রে ওয়ারিশান হিসেবে মালিক দাবি করে গত রবিবার সরাইলের যুবলীগ কর্মী মো. সারোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে এ বেড়া দেওয়া হয়।
জানা গেছে, সারোয়ার হোসেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. বেলায়েত হোসেন মিল্লাতের বড় ভাই। অবশ্য বেলায়েত হোসেন এ ঘটনায় তাঁর সম্পৃক্ততা নেই বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। ইউএনও জানান, বেড়া খোলা হয়ে যাওয়ায় আর কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সরাইলের সৈয়দটুলা গ্রামের বাসিন্দা ও যুবলীগ কর্মী মো. সারোয়ার হোসেন গত রবিবার সকালে উপজেলা পরিষদের দক্ষিণ দিকে উপজেলা পরিষদে যাওয়ার বিকল্প রাস্তায় কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে দেন। বেড়া দেওয়ার জায়গাটিতে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের পাঁচতলা আইটি ভবনের জন্য নির্ধারিত। এর আগে সরকারের কয়েক লাখ টাকা খরচ করে নীচু ওই জায়গাটি ভরাট করা হয়।
গতকাল সোমবার সকালে ইউএনও আনিসুজ্জামান লোকজন নিয়ে বেড়া খুলে ফেলেন। এ সময় ছাত্রলীগ নেতা বেলায়েত হোসেন ইউএনও’র মোবাইল ফোনে কল করলে উচ্চ বাক্য বিনিময় হয়। ক্ষমতা দেখিয়ে জায়গাটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে ইউএনওকে বলতে শুনা যায়।
উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. বেলায়েত হোসেন মিল্লাত বলেন, ’৬১৬১ ও ৬১৬৩ দাগের ৬২ শতক জায়গার মালিক ছিলেন আমার দাদা আবুল হোসেন। তিনি ৩০ শতক জায়গা অনেক আগেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য দান করলেও আমরা জানতাম পুরোটা দিয়েছেন। এখন কাগজপত্র হাতে পেয়ে আমার চাচাসহ অন্যান্যরা বিষয়টি দেখছেন। বেড়া দেওয়ার বিষয়েও আমি কিছুই জানতাম না।
ইউএনও মো. আনিসুজ্জামান খান বলেন, ’জায়গাটি সরকারি খাস খতিয়ানের। রবিবার সরকারি ছুটি থাকার সুযোগে ওই জায়গায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়। আজ (সোমবার) বেড়া সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এখানে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের আইটি ভবন নির্মাণের কথা রয়েছে’।

আরিফুল ইসলাম সুমন

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply