সরাইলে ইকবাল আজাদের খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে সড়ক অবরোধ:: সমাবেশ অনুষ্ঠিত

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) / ২৬ নভেম্বর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)———
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এ.কে.এম ইকবাল আজাদের খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে সমাবেশ করেছে নেতাকর্মীরা।
সোমবার দুপুরে এক প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে ইকবাল হত্যাকান্ডের খুনিদের গ্রেফতারের দাবী জানানো হয়। এর আগে ইকবাল হত্যাকান্ডের ৩৭ দিন পেরিয়ে গেলেও খুনিরা গ্রেফতার না হওয়ায় বিক্ষোভ-মিছিল করেছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এসময় বিক্ষুব্ধরা সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই সড়ক দুই ঘন্টা অবরোধ করে রাখে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চাঞ্চল্যকর ইকবাল আজাদ হত্যা মামলার মূল আসামীরা গ্রেফতার না হওয়ার প্রতিবাদে সোমবার সকাল ১০ টার দিকে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল বের করে। উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ১১ টার দিকে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই সড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। সড়কে পুড়ানো হয় টায়ার। এসময় এই সড়কে সকল যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসার পথে ওই সড়কে প্রায় এক ঘন্টা আটকা পড়ে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান খাঁনের গাড়ি। পরে অবরোধ তুলে নিলে দুপুর ১ টার দিকে ওই সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়। বিক্ষোভ চলাকালে সরাইল হাসপাতাল মোড়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শের আলমের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সদ্য বিলুপ্ত উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক কাজী আমিনুল ইসলাম শেলভী, শ্রমিক নেতা মো. ইনু মিয়া, যুবলীগ নেতা সাইদুর রহমান, মো. আলিম মিয়া প্রমুখ। সমাবেশ থেকে মঙ্গলবার সরাইলে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ঘোষনা দেওয়া হয়। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শের আলম জানান, আমরা শান্তিপূর্ন ভাবে মঙ্গলবার সকাল সন্ধ্যা হরতাল পালন করবো।
হরতালের সত্যতা নিশ্চিত করে সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার চক্রবর্তী জানান, আমরা আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। হরতালের বিষয়েও পুলিশ চিন্তা ভাবনা করছে। পুলিশের চেষ্টায় সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক হয় বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, গত ২১ অক্টোবর সন্ধ্যায় দলীয় কোন্দলের জের ধরে নিজ দলের লোকদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হন আওয়ামীলীগ নেতা এ.কে.এম ইকবাল আজাদ। এ ঘটনার পর দিন নিহতের ভাই এ.কে.এম জাহাঙ্গির আজাদ বাদী হয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. আব্দুল হালিম, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজ আলী, যুগ্ম সম্পাদক ও সরাইল সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বারসহ ২২ আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। পরে জেলা কমিটি একটি বিবৃতিতে উপজেলা আওয়ামীলীগ সহ অঙ্গসংগঠনের কমিটি বিলুপ্ত করে এবং অভিযুক্ত নেতাদের দল থেকে বহিস্কার করেন। পুলিশ এখনো অভিযুক্ত আওয়ামীলীগ নেতাদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় এখানে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে এলাকাবাসী।

আব্দুল আউয়াল খান

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply