ব্রাহ্মণপাড়ায় ডাক্তারের অবহেলায় রুগী মৃত্যুর অভিযোগ

ব্রাহ্মণপাড়া / ২৬ নভেম্বর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)———

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দলা বাজারের রুমা মেডিক্যাল হলের পল্লী চিকিৎসকের অবহেলার কারনে চারিপাড়া গ্রামের এক রুগীর মৃত্যুর অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ করেছে মৃত আ: মজিদের ছেলে ছিদ্দিকুর রহমান।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে দক্ষিণ চান্দলা চারিপাড়া গ্রামের আ: মজিদ ২২ নভেম্বর দুপুরে চান্দলা কৃষি ব্যাংক হইতে বয়স্ক ভাতা উত্তোলন করে বাড়ী ফেরার পথে চান্দলা সিএনজি ষ্ট্যান্ডে মোটর সাইকেল দূর্ঘটনায় পতিত হয়। এসময় তার মাথায় আঘাত লেগে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দক্ষিণ চান্দলা রুমা মেডিক্যালের পল্লী চিকিৎসক ইকবাল হোসেনের নিকট নিয়ে যাওয়া হয়। পল্লী চিকিৎসক ইকবাল হোসেন আহত মজিদ মিয়ার মাথায় সেলাই করে রোগীর অভিভাবকদেরকে বলে, ভাল হয়ে যাবে। চামড়া কেটে গেছে আমি সেলাই করে দিয়েছি। এই কথা বলে রোগীর অভিভাবকদের শান্তনা দিয়ে দূর্ঘটনার জন্য দায়ী মোটর সাইকেল আরোহীদের সাথে সলা পরামর্শ করে তাদের কাছ থেকে চিকিৎসার খরচ রেখে ছেড়ে দেয়। ডাক্তারের শান্তনায় আহত মজিদকে নিয়ে তার লোকজন বাড়ী ফিরে যায়। বাড়ী নেয়ার পর আহত মজিদ কাশি দিলে তার মাথার সেলাই ছিড়ে যায় এবং রক্ত ক্ষরন হতে থাকে। এসময় মোবাইল ফোনে ডাক্তার ইকবালের সাথে যোগাযোগ করলে সে তার লোক দিয়ে রোগী আ: মজিদের বাড়ীতে পাঠিয়ে পুন: শান্তনা দেয়। পরবর্তীতে রোগীর অবস্থা অবনতি হতে থাকলে রোগীর লোকজন আহত মজিদ মিয়াকে প্রথমে ব্রাহ্মণপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে তার অবস্থা আশংকাজন দেখে কর্তব্যরত ডাক্তারের পরামর্শে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানের কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এই ব্যাপারে নিহত মজিদের ছেলে ছিদ্দিকুর রহমান বাদী হয়ে তার পিতার মৃত্যুর জন্য ডা: ইকবাল হোসেনের অবহেলাকে দায়ী করে বিচার প্রার্থী হয়ে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট একটি লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিজুর রহমান অভিযোগের তদন্তের জন্য অভিযুক্ত ডাক্তারের চিকিৎসক হিসেবে বৈধতার প্রমান সহ কারণ দর্শিয়ে ২৭ নভেম্বর নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে উপস্থিত হওয়ার জন্য লিখিত নোটিশ করেন। এই ব্যাপারে অভিযুক্ত পল্লী চিকিৎসক ইকবাল হোসেন নিজেকে নির্দোশ দাবী করে জানান, দূর্ঘটনার পর আমার কাছে নিয়ে আসার পর রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছি। আমি তাদেরকে কোন শান্তনা দিয়ে বাড়ী পাঠাইনি।

মিজানুর রহমান সরকার, ব্রাহ্মণপাড়া ॥

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply