ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারদলীয় ক্যাডাররা বেপরোয়া:: ওরা শুধু পেটান, খবরদারি করেন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া / ২৩ নভেম্বর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)———
ওরা শুধু পেটান। খবরদারি করেন। বেশি বাড়াবাড়ি করলে পাঠিয়ে দেন পরপারে। ওরা আওয়ামীলীগ। সরকার দলীয় ক্যাডার। খুন, টেন্ডারবাজি, হাঙ্গামা, জবর দখল এসব কিছুতে ব্যস্ত ওরা। ওদের কাছে জিম্মি সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে প্রশাসনও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলীয় লোককে টেন্ডার কাজ না দেওয়ায় গত ১৩ নবেম্বর জেলার আখাউড়ায় প্রকৌশলীকে পেটাল আওয়ামীলীগ নেতারা। এ ঘটনায় উপজেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ তিন নেতা সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ শেখ বোরহান উদ্দিন, সাধারন সম্পাদক গাজী আব্দুল মতিন ও সাংগঠনিক সম্পাদক মানিক মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন মারধরের শিকার হওয়া এলজিইডি প্রকৌশলী সানজিদ আহমেদ।

গত বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নয় কোটি টাকার টেন্ডার কাজ বাগিয়ে নিতে আওয়ামীলীগের টেন্ডার সন্ত্রাসীরা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে হামলা চালায়। তাদের কথামতো কাজ না করায় স্থানীয় যুবলীগ নেতা ফারুক আহমেদসহ আরো কয়েকজন সরকার দলীয় ক্যাডার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুল আমিনকে তার কার্যালয়ে মারধোর করে। এসময় তারা টেন্ডারের কাগজপত্র ছিঁড়ে ফেলে। তাদের তান্ডবে পরে পুলিশ প্রহরায় টেন্ডার কাজ সম্পন্ন করা হয়।

গত মঙ্গলবার সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর ইউপি আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সায়েফ উল্লাহ ঠাকুরের ভাই দলীয় ক্যাডার একাধিক মামলার পলাতক আসামি আরমান ঠাকুরের নেতৃত্বে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে শাহজাদাপুর ইউপি যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আকিল উদ্দিন ভূঁইয়াকে গুরুতর আহত করে। আহত যুবলীগ নেতা বর্তমানে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আওয়ামীলীগ ক্যাডারদের সীমাহীন দুর্নীতির প্রতিবাদ করতে গিয়ে গত ২১ অক্টোবর সরাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এ কে এম ইকবাল আজাদ খুন হন। এ ঘটনায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হালিম, সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর, যুগ্ন সম্পাদক আব্দুল জব্বার ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজ আলী, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিজার সহ ২২ ক্যাডারের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন নিহতের ভাই জাহাঙ্গীর আজাদ। এলাকার বিক্ষুব্ধ জনতা এসব ক্যাডারদের বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে।

এদিকে সরাইল উপজেলায় সরকার দলীয় ক্যাডারদের নীরব অত্যাচারে বিগত দুই বছরে চার জন নির্বাহী অফিসার বদলি হয়েছেন। উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুরের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন দুই জন নির্বাহী অফিসার। এছাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হালিম ও তার সহচর সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজ আলীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছিল উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী। এখানকার টেন্ডার কাজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণ করতো সরকার দলের এ দুই নেতা। যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল জব্বার সরকারি এক কর্মচারীকে চড়-থাপ্পড় দিয়ে দেখিয়ে দেন তার ক্ষমতার দাপট। এছাড়াও উপজেলা আওয়ামী, যুব ও ছাত্রলীগের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে রয়েছে খুনের মামলা।

বিগত দিনে জেলা শহরে পৌরসভায় টেন্ডার নিয়ে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলিও করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনা অনেকেই জানেন।

কসবা উপজেলায় আওয়ামীলীগের ক্যাডাররা জনৈক মৎস্যজীবি সমিতির নামে সরকারি পুকুর ইজারা নিয়ে ড্রেজার লাগিয়ে সেই পুকুরের মাটি বিক্রি করে চলেছেন। এতে আশপাশের কৃষি জমিতে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এসব ক্যাডারদের কাছে জিম্মি, তাই রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্টরা নীরব আছেন। এ অভিযোগ এলাকার অনেকেরই।

আখাউড়া ছাত্রলীগ নেতা শরীফুল ইসলামের হুমকির কারণে উপজেলার রাজেন্দ্রপুর গ্রামের মো. জালু মোল্লার দুই মেয়ে আখাউড়া শহীদ স্মৃতি ডিগ্রী কলেজের ছাত্রী মাহমুদা ইসলাম ও হোসনা আক্তারের কলেজে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে।

আখাউড়ায় পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন খাদেম নিজে উকিল শ্বশুর হবার ঘোষণা দিয়ে রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর এক ছাত্রীর বাল্য বিয়ের আয়োজন করেন। পরে স্থানীয় সাংবাদিকরা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে আলোচিত এই বাল্য বিয়ে বন্ধ করান।

আখাউড়া-কসবা আসনের সংসদ সদস্য আওয়ামীলীগ নেতা আলহাজ অ্যাডভোকেট শাহ আলমের ভাই মো. সেলিম আখাউড়ার বনগজ ও তন্তর গ্রামের ৬২ একর জমি আমমোক্তানামার মাধ্যমে মালিক হয়েছেন। জমির দাতার তার কোনো আত্মীয়ও নয়। শুধুমাত্র দলীয় প্রভাব বিস্তার করে জায়গা দখলের জন্য এ ফন্দি আটা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের একাধিক ত্যাগী নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আওয়ামীলীগ নামধারী কিছু নেতার এসব অনৈতিক কর্মকান্ডে দলের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। এখানকার অনেক ঘটনার বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা অবগত থাকলেও, অজানা কারণে নেতৃবৃন্দ নীরব ভূমিকা পালন করছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছেন না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক নূর মোহাম্মদ মজুমদার সম্প্রতি এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের বলেন, দুর্নীতি সন্ত্রাস টেন্ডারবাজি কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

আরিফুল ইসলাম সুমন

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply