সরাইলের আওয়ামীলীগ নেতা আজাদ হত্যা: খুনিরা ধরা না পড়ায় বিস্ময় প্রকাশ করা এম.পির বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ, হরতালের হুমকি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া / ২০ নভেম্বর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)———-
সরাইল উপেজলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এ কে এম ইকবাল আজাদের মূল খুনিরা গত এক মাসেও ধরা না পড়ায় বিস্ময় প্রকাশ করে তাদেরকে দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা। গত সোমবার বিকেলে সরাইল শহীদ মিনার চত্বরে জাতীয় পার্টির এক সভায় পুলিশ এ নির্দেশ দিয়ে সরাইলের মানুষকে শান্তি ফিরিয়ে দেওয়ার আহবান জানান তিনি ।
এদিকে মঙ্গলবার সকালে বিচার তরান্বিত করতে গঠিত সরাইল উপজেলা সম্মিলিত ছাত্র ঐক্য পরিষদের এক সভায় বক্তারা এ ঘটনায় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ আনেন। খুনিদের গ্রেপ্তারে তদারকি না করা ও এখন পর্যন্ত ইকবাল আজাদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের লোকজনকে সান্তনা না দেওয়ায় তাকে নিয়ে সমালোচনা করা হয়।
সরাইল উপজেলা সম্মিলিত ছাত্র ঐক্য পরিষদের আহবায়ক আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে জাসদ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হোসাইন আহমেদ তফছির, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক এইচ এম আসাদুজ্জামান, আ’লীগ নেতা হাজী ইকবাল হোসেন, যুবলীগ নেতা অ্যাডভোকেট আশরাফ উদ্দিন মন্তু, অ্যাডভোকেট জয়নাল উদ্দিন, কাজী আমিনুল ইসলাম শেলভী, সাবেক ছাত্রদল নেতা নাজমুল আলম খন্দকার মুন্না, শের আলম, বেলায়েত হোসেন মিল্লাত, গিয়াস উদ্দিন সেলু, কাজী পাহলভী, ইসমাইল হোসেন উজ্জল, মো. মোর্শেদ, মো. ইসমাঈল, মো. সাদ্দাম হোসেন, আব্দুল হাকিম প্রমুখ। সমাবেশে বক্তারা বলেন, ’ইকবাল আজাদ হত্যাকান্ডের এক মাস পেরিয়ে গেল। এখনো মূল আসামীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে। তাদেরকে দ্রুত গ্রেপ্তার না করা হলে হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচী দেওয়া হবে’।
সমাবেশে নোংরা কোন স্থানে খুনিদের নামে একটি ঘৃনা স্তম্ভ নির্মান ও সরাইল-অরুয়াইল সড়কটি ইকবাল আজাদের নামে নামকরন করার প্রস্তাব করা হয়। সমাবেশে হত্যা মামলার আসামী আব্দুল হালিম, রফিক উদ্দিন ঠাকুর, আব্দুল জব্বার ও মাহফুজ আলীর কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
এদিকে সোমবার শহীদ মিনার চত্বরে উপজেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব মো. হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংসদ সদস্য ও আইন মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা, অ্যাডভোকেট আব্দুর রাশেদ, মনির উদ্দিন আহমেদ, মনোয়ার উদ্দিন, আবু আহমদ মৃধা, তৌহিদুল ইসলাম, এমদদাদুল হক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
শোকসভায় সংসদ সদস্য বলেন, ’বল্লম, রামদা যদি রাজনীতির ভাষা হয় তাহলে ভালো মানুষ রাজনীতিতে আসবে না। আমিও ভেবে দেখব রাজনীতি করব কিনা। সরাইল নয়, সারা বাংলাদেশের মানুষই ইকবাল আজাদ হত্যাকান্ডের বিচার চায়। বিষয়টি আমি আইন মন্ত্রনালয়ের সভায় তুলে ধরব।
প্রসঙ্গত, গত ২১ অক্টোবর সন্ধায় দলীয় কোন্দলের জের ধরে খুন হন ইকবাল আজাদ। এ ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করলেও মূল আসামী আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল হালিম, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. রফিক উদ্দিন ঠাকুর, মাহফুজ আলী ও আব্দুল জব্বার ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আসামীদের গ্রেপ্তারে প্রতিদিনই সরাইলে বিভিন্ন কর্মসূচী পালিত হচ্ছে।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply