নাগরিক সনদ দিচ্ছেন পলাতক চেয়ারম্যান !

ব্রাহ্মণবাড়িয়া / ১৯ নভেম্বর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)———-
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি এ.কে.এম ইকবাল আজাদ খুনের মামলার অন্যতম আসামি পলাতক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার সই করছেন নাগরিক সনদ ও জন্ম নিবন্ধন সনদে! তবে পুলিশ বলছে আসামিদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এদিকে ইকবাল আজাদ হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেফতারে দাবিতে সরাইলে প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ-সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছেন বিক্ষুব্ধ জনতা। সোমবার বিকেলে ইকবাল আজাদ স্মরণে শোক সমাবেশ করেছে উপজেলা জাতীয় পার্টি। এতে অন্যান্যদের মধ্যে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাপার কেন্দ্রিয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা। সভায় বক্তারা আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৫ নভেম্বর পলাতক ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বার স্বাক্ষরিত একটি নাগরিক সনদ নিয়ে এলাকায় হৈ চৈ পড়ে গেছে। জাতীয়তা সনদপত্রটি দেওয়া হয়েছে ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের সৈয়দটুলা গ্রামের বাসিন্দা রীনা আক্তারের নামে। রিনা আক্তারের দাবি, জরুরি প্রয়োজনে গাড়ি ভাড়ার (পলাতক চেয়ারম্যানের কাছে যাওয়া-আসার) তিনশত টাকার বিনিময়ে তিনি এ সনদ ইউপি সচিবের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছেন।
এদিকে ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. কাজল মিয়াসহ পরিষদের একাধিক ইউপি সদস্য পলাতক চেয়ারম্যানের সনদ বিতরণের কথা স্বীকার করেছেন। তারা বলেন, ইউপি সচিব এসব সনদ অর্থের বিনিময়ে লোকদের কাছে বিতরণ করছেন। চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর কোথা থেকে আনেন, তা তিনিই জানেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সচিব শংকর দাস বলেন, চেয়ারম্যানের অগ্রীম স্বাক্ষরিত কিছু সনদ আমার কাছে ছিল। লোকজনের জরুরি প্রয়োজনে আমি তা প্রদান করছি। তবে এ জন্য কারো কাছ থেকে টাকা-পয়সা নেওয়া হয়নি। সনদে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরের পাশে ১৫ নভেম্বর তারিখ উল্লেখ প্রসঙ্গে সচিব বলেন, আব্দুল জব্বার খুনের মামলার আসামি ঠিকই, কিন্তু তার চেয়ারম্যানের পদ বহাল আছে। এদিকে একটি সূত্র জানায়, আজ মঙ্গলবার বিকেলে পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচন হবে। দায়িত্ব গ্রহণ করবেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম চক্রবর্তী বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। সনদের বিষয়টি আমি সাংবাদিকদের কাছ থেকে জেনেছি। দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে ইকবাল আজাদের খুনীদের গ্রেপ্তার দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত আছে।
উল্লেখ্য, গত ২১ অক্টোবর উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র-সহ-সভাপতি এ.কে.এম ইকবাল আজাদ দলীয় লোকদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হন। এ ঘটনায় সরাইল সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বারকে হত্যা মামলার ৪নং আসামি করা হয়। এ ঘটনার (২১ অক্টোবর রাত) পর থেকে চেয়ারম্যান পলাতক রয়েছেন।

(আরিফুল ইসলাম সুমন)

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply