আসামিরা শাসকদলের প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে:: সরাইলে আ’লীগ নেতা খুনের ২৯ দিনেও গ্রেফতার নেই

ব্রাহ্মণবাড়িয়া / ১৮ নভেম্বর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)———-
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এ.কে.এম ইকবাল আজাদ খুনের ২৯ দিনেও আসামি গ্রেফতার নেই। অভিযোগ উঠেছে, আসামিরা শাসকদলের প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে রয়েছে। মামলার প্রধান দুই আসামি সদ্য বিলুপ্ত সরাইল আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হালিম এবং সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর সরকার দলের প্রভাবশালী এক মন্ত্রীর আশ্রয়ে আছে বলে এলাকায় চাউর আছে। রফিক উদ্দিন ঠাকুর পরিষদের চেয়ারম্যান পদ ঠিকিয়ে রাখতে উচ্চ আদালত থেকে জামিনের চেষ্টা করছেন।
এদিকে ইকবাল আজাদ খুনের মামলার আসামিদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে মিছিল-সমাবেশে সরাইল উত্তাল হয়ে উঠছে। উপজেলার ছাত্রনেতারা লাগাতার আন্দোলনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা সম্মেলিত ছাত্র ঐক্য পরিষদ কমিটিও গঠন করেছেন।
রোববার সরাইলের সর্বস্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্যোগে ইকবাল আজাদ স্মরণে শোক সমাবেশ হয়েছে। উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে আয়োজিত শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আব্দুর রাশেদ। এতে অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযোদ্ধা উসমান উদ্দিন খালেদ, এ.আই মনোয়ার উদ্দিন মদন, দ্বিলীপ নাগ, উপজেলা পেনেল চেয়ারম্যান মাহমুদা পারভীন (প্যানেল-২), যুবলীগ নেতা কাজী আমিনুল ইসলাম শেলভী, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শের আলম, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি বেলায়েত হোসেন মিল্লাত। সভায় বক্তারা বলেন, ইকবাল আজাদ খুনীদের গ্রেফতারে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকায় তারা সন্দেহ সহ ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন। আসামি গ্রেফতারে প্রশাসনের আশ্বাস তারা আর বিশ্বাস করেন না। আগামী ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বক্তারা বলেন, এই সময়ের মধ্যে মূল আসামীরা গ্রেফতার না হলে কাপনের কাপড় পড়ে আন্দোলন করার ঘোষনা দেওয়া হবে।
এদিকে পুলিশের দাবি, ইকবাল আজাদ হত্যার মামলাটি তারা বিশেষ গুরুত্বের সাথে দেখছেন। মোবাইল ফোনের ট্র্যাকিংসহ বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, ২১ অক্টোবর রবিবার সন্ধ্যায় দলীয় কোন্দলের জের ধরে সরাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এ কে এম ইকবাল আজাদ খুন হন। পরদিন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, সাধারন সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ ২২ জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের ছোটভাই এ কে এম জাহাঙ্গীর আজাদ। পুলিশ এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মোকারম হোসেন সোহেল এবং এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে শরীফ, নাসির, আলিফ ও এনায়েতকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলেও মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply