এক পুলিশ সদস্য তিনশ’ মামলার বাদী !

সরাইল / ১৬ নভেম্বর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)———-
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর সাতমোরা এলাকার বাসিন্দা এম.এ.রব ওরফে মিন্টু মিয়া নামে এক পুলিশ সদস্য অন্তত তিনশত মামলার বাদী হয়ে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তিনি এলাকার লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ রয়েছে, পরে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তিনি মামলা আপোষ নিষ্পত্তিও করেন। তার নাম শুনলেই আতংকিত হয়ে উঠে ভুক্তভোগীরা।
জানা গেছে, আলোচিত এ পুলিশ সদস্য এম.এ.রব ওরফে মিন্টু মিয়া বর্তমানে ঢাকায় এসবি অফিসে কর্মরত। পুলিশ বেইজ নং ৮৭০।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিশ বাহিনীর সদস্য হওয়ায় ক্ষমতার দাপটে এম.এ. রব ওরফে মিন্টু মিয়া গ্রামের নিরীহ লোকদের মামলায় জড়িয়ে নানাভাবে হয়রানি করেন। গ্রামের লোকজন জানান, এ পর্যন্ত অন্তত তিন শত মামলার বাদী হয়েছেন তিনি। জায়গা সম্পত্তি নিয়েই বেশীর ভাগ মামলা। তার দায়ের করা মামলার আসামী হয়ে এলাকার অনেকেই সর্বশান্ত হয়েছেন।
সাতমোরা ইউনিয়নের কাজেল্লা গ্রামের ভুক্তভোগী মোঃ ইদ্রিস মিয়া বলেন, পুলিশ সদস্য মিন্টু মিয়া আমার বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত ৬৩টি মামলা করেছে। তার ওইসব মিথ্যা মামলাগুলো মোকাবেলা করতে গিয়ে আমি সর্বশান্ত হয়ে গেছি। গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোঃ স্বপন মিয়া বলেন, কোন ঝগড়া বিবাদ ছাড়াই শুধু মাত্র হয়রানী করার জন্যই তিনি আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করছেন। ঢাকা থেকে নিজেই মন্ত্রী সেজে ভুয়া নাম্বার দিয়ে বিভিন্ন জায়গাতে ফোন করে মানুষকে হুমকী-ধমকী দেন।
সাবেক ইউপি সদস্য ওই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল অলেক বলেন, মিন্টু মিয়া আমার বিরুদ্ধে কয়টি মামলা করেছে তার কোন হিসাব নেই। তার দায়ের করা মিথ্যা মামলাগুলো শেষ করতে গিয়ে আমার সহায় সম্পত্তি শেষ। আমি আজ ভিখারী হওয়ার পথে। গ্রামের রশিদ মিয়ার স্ত্রী মিনু বেগম বলেন, মিন্টু পুলিশ বাদী হয়ে আমার স্বামী সহ পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে থানা ও আদালতে ৩০ থেকে ৪০ টি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে।
এ ব্যাপারে ইউনিয়নের শিকানিকা গ্রামের সুবা মিয়া বলেন, মিন্টু মিয়া একজন চিহ্নিত মামলাবাজ। তার বিরুদ্ধে কথা বললেই মামলা। সব মিলিয়ে গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে প্রায় তিনশত মামলা করেছেন।
সাতমোড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বলেন, মামলা করা তার পেশায় পরিণত হয়েছে। সাধারন মানুষকে হয়রানী করতেই সে মামলা গুলো করে থাকে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য এম.এ. রব ওরফে মিন্টু মিয়া তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার পিতার জমি-জমা রক্ষা করতে আমাকে আইনের আশ্রয় নিতে হচ্ছে।
নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু জাফর বলেন, এম.এ. রব ওরফে মিন্টু মিয়ার তদ্বিরে আমরা অতিষ্ট। তিনি গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে থানায় ও আদালতে দেওয়ানী-ফৌজদারী অসংখ্য মামলা করেছেন। তবে মামলার সঠিক সংখ্যা এ মূর্হুতে বলতে পারবোনা।

আরিফুল ইসলাম সুমন, স্টাফ রিপোর্টারঃ

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply