ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আখাউড়া কসবায় নির্বাচনী হাওয়া

আখাউড়া / ১১ নভেম্বর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)———-
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ সংসদীয় আসনে সংসদ নির্বাচন নিয়ে এখন নানামুখী আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিগত দুটি ঈদ মৌসুমে শুভেচ্চা বিনিময়ের সুযোগে এ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রচারণায় নড়ে চড়ে উঠায় এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। নানা রঙ্গের পোষ্টার ছাপিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে নামার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অধিকাংশ সম্ভাব্য প্রার্থী থাকেন রাজধানী ঢাকায় । সম্প্রতি তাদের ঘন ঘন এলাকায় আসায় নির্বাচনী প্রচারণার একটা আবহ সৃস্টি হয়েছে। সমর্থক সৃস্টিতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ঘুরছেন বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন গ্রামে এলাকায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ সংসদীয় আসনে মোট ভোটার প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার ৭১৮ জন। এর মধ্যে আখাউড়ায় ৮৮ হাজার ৪০০ জন ভোটার, এবং কসবার ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৯২ হাজার ৩শ ১৮ জন । তাছাড়া দুই উপজেলাতেই নারী ভোটার সংখ্যা বেশি। কসবায় নারী ভোটার ৯৯ হাজার ৫৪৬ জন। আর আখাউড়ায় ৪৫ হাজার ৪০০ জন। এদিকে নির্বাচন নিয়ে এ আসনে নানা কথা রযেছে । ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের পূর্ব ইমেজ নেই এলাকায়। দুই উপজেলার প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন না করায় জনগনের কাছে ইমেজ এখন সংকটে আওয়ামীলীগ। এদিকে সাবেক সংসদ সদস্য ও খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মুশফিকুর রহমান এবং জেলা সহ-সভাপতি নাছির উদ্দিন হাজারিতে বিভক্ত বিএনপি। অপর দিকে দূর্বল সাংগঠনিক অবস্থা আর গ্রুপিং নিয়ে জোট মহাজোটের সমীকরণ মিলাতে ব্যস্ত জাতীয় পার্টি। এখানে জামায়াত এবং জাকের পার্টিরও বেশ দলীয় ভোট রয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত কোন ব্যাক্তি টানা দুইবার এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হননি। তবে এ আসন থেকে যিনি নির্বাচিত হয়েছেন তার দলই সরকার গঠন করেছে। তার উপর আগামী নির্বাচনে মহাজোট থাকলে সমীকরণ পাল্টে যেতে পারে। কারণ জেলায় জাতীয় পার্টি যে দুটি আসনের জন্য জোর আবদার করবে তার মধ্যে এ আসন অন্যতম। গত নির্বাচনে অনেক চেষ্টার পরও এ আসনটি হাত ছাড়া হয় তাদের। আর তারা একক নির্বাচনে গেলে লাভবান হতে পারে বিএনপির। তাছাড়া নির্বাচনী এলাকায় অনেক ছোট প্রতিশ্রুতিরও বাস্তবায়ন না করায় জনগণের কাছে পূর্বের মতো বর্তমান সংসদ সদস্য শাহ আলমের জনপ্রিয়তা নেই। পূর্বে নির্বাচিত হয়ে তিনি এলাকার উন্নয়নের জন্য যতটুকু আন্তরিকতা দেখিয়েছিলেন এবার এতে ভাটা পড়েছে এ অভিযোগ এলাকাবাসীর। খোদ দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝেও রয়েছে তার নানা সমালোচনা। তবে বিকল্প কোন প্রার্থী না থাকায় মনোনয়নের ক্ষেত্রে অনেকটা অপ্রতিদ্বন্ধী তিনি।
দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আখাউড়া ও কসবা উপজেলা আওয়ামীলীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছে ২০০৪ সালে। দীর্ঘসময় সম্মেলন না হওয়ায় দুই উপজেলাতেই অগোছালো আওয়ামীলীগ। অভিযোগ আছে, সংসদ সদস্যের আর্শিবাদপুষ্ঠ কয়েকজন নেতার বৃত্তে বন্দি দলীয় রাজনীতি। গত কয়েক বছরে নেই তেমন কোন সাংগঠনিক তৎপরতা। দলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন না সংসদ সদস্য। ফলে অনেক নেতাকর্মীরাই এখন শুরু করেছেন পাওয়া না পাওয়ার হিসেব। তিতাস নদী খনন, আখাউড়া-কসবায় গ্যাস সরবরাহ,আখাউড়ার শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজকে ইউনিভার্সিটি করা, নাছরীন নবী পাইলট বালিকা বিদ্যালয়কে কলেজে উন্নীতকরণ,কসবা সদরের টি.আলী ডিগ্রি কলেজকে জাতীয়করণ ও দিনে কসবায় এবং রাতে আখাউড়ায় একটি আন্তনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতীর প্রতিশ্রুুতি দিলেছিলেন সংসদ সদস্য। এর বাইরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি তো ছিলই। তবে প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কোনটিরই পুরণ হয়নি গত প্রায় চার বছরে। তাছাড়া রাতে ঢাকা থেকে আখাউড়া ফেরার জন্য একটি আন্তনগর ট্রেনের দাবি পুরনেই কোন উদ্যোগই নেননি তিনি। শেষে মুখ বাঁচাতে দলীয় নেতাকর্মীরা দ্বারস্তহন তৎকালীন রেলমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের। তার বদৌলতে রাতে আন্তনগর তূর্না নিশিথা ট্রেনের যাত্রা বিরতি পায় আখাউড়াবাসী।
আখাউড়া পৌরসভার মেয়র পদে উপনির্বাচনে সরাসরি না বল্লেও সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি তাকজিল খলিফা কাজলের বিরোধিতা করেন সংসদ সদস্যসহ উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রথম সারির নেতারা। কিন্তু কাজল তাদের চমকে দিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। তাছাড়া সম্প্রতি হয়ে যাওয়া মোগড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ,আখাউড়া পৌর আওয়ামীলীগ এবং সর্বশেষ গত ১৮ অক্টোবর উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক কমিটির নেতৃত্বে আসেন তাকজিল খলিফার অনুসারীরা। এর আগে ৩১ সদস্যের একটি আহবায়ক কমিটিতে সুপারিশ করে জেলা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠান সংসদ সদস্য আলহাজ শাহ আলম অ্যাডভোকেট, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ বোরহান উদ্দিন ও সাধারন সম্পাদক গাজী আব্দুল মতিন। ওই কমিটিতে অছাত্র, বিবাহিত ও শিবির কর্মী রয়েছে বলে অভিযোগ উঠে। পরে জেলা ছাত্রলীগের ঘোষিত কমিটিতে তাদের সমর্থিত কমিটির আহবায়ককে করা হয় সদস্য। ফলে সংসদ সদস্যের অনুসারি প্রথম সারির নেতারা অনেকটাই বিব্রত। কসবা উপজেলা আওয়ামীলীগ বিভক্ত এক সময়ের জাতীয় পার্টি নেতা বর্তমান আওয়ামীলীগার উপজেলা চেয়ারম্যন রুহুল আমিন ভূইয়া বকুল এবং সাধরণ সম্পাদক কাজী আযহারুল ইসলামে। অনেকের মতে কসবা মেয়র নির্বাচনে দলের সমন্বয়হিনতার কারণে এখানে এই পদটি চলে যায় বিএনপির দখলে। বিএনপি প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ ইলিয়াস ভাল ভোট পেয়ে কসবা পৌর সভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন এবং ভাল ভিত্তি নেই তিনি দলীয় কার্যক্রম চালাচ্ছেন। কসবায় আওয়ামীলীগের কার্যালয় থাকলেও দলীয় কর্মকান্ড চলে বেশ কয়েকজন নেতার ব্যাক্তিগত কার্যালয়কে কেন্দ্র করেই। আখাউড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন বাবুল বলেন, আখাউড়ায় গত ৪ বছরে দেখার মতো কোন উন্নয়ন হয়নি সত্য। তবে আমরা আশা করি মেয়াদ শেষের আগেই সকল নির্বাচনী ওয়াদা পুরণ করা হবে। তাছাড়া ইতিমধ্যে নাছরীন নবী পাইলট বালিকা বিদ্যালয়কে কলেজে উন্নীতকরণ এবং উপজেলাতে ১৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় করা হয়েছে। অনেক রাস্তা উন্নয়নের কাজে হাত দেওয়া হয়েছে। দল কারো বৃত্তে বন্ধি নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন,যারা এসব বলেন তারা দলীয় কর্মকান্ডে এগিয়ে আসেননা। কসবা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী আযহারুল ইসলাম বলেন, কসবায় গ্যাস সরবরাহের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। আশাকরি সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আমরা এখানে গ্যাস সরবরাহ করতে পারবো। তাছাড়া ঈদের পর রাস্তাঘাটের মোট ৩৮ টি টেন্ডার হচ্ছে এবং বাকি নির্বাচনী ওয়াদা পূরনের প্রচেষ্টা চলছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে নেতৃত্বের কোন বিরোধ নেই। এসব বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্য আলহাজ এ্যাডভোকেট শাহআলম এর মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও কখনো তিনি তা রিসিভ করেননি। আবার কখনো সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বিএনপিঃ সাবেক সংসদ সদস্য ও খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মুশফিকুর রহমান এবং জেলা সহ-সভাপতি নাছির উদ্দিন হাজারীতে বিভক্ত বিএনপির রাজনীতি। এদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শাকিল ওয়াহেদ সুমনও এলাকায় এবার রঙ্গিন পোষ্টার সাটিয়ে এলাকাবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে নির্বাচনে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে দলের বেশির ভাগ নেতাকর্মী মুশফিকুরের পক্ষে থাকলেও দল ভারী করছে নাছির হাজারীর সমর্থকরাও। নির্বাচন ঘনিয়ে আসলে বিএনপির গ্রুপিং আরও প্রকট আকার ধারণ করবে বলে মনে করছে দলীয় নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গেল রমজানে আলাদাভাবে ইফতার মাহফিল করে আলোচনায় আসেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি এবং আখাউড়া উপজেলা সিনিয়র সহ-সভাপতি নাছির উদ্দিন হাজারী। এ সময় এ নিয়ে দুই গ্রুুপে দেখা দেয় ব্যাপক উত্তেজন। তাছাড়া সম্পতি জেলা সদরে ১৮ দলের সমাবেশে আলাদাভাবে অংশ নেয় হাজারীর সমর্থকরা। ১৭ অক্টোবর পৃথক ভাবে পালন করা হয় আখাউড়া পৌরসভার প্রয়াত মেয়র উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত হাসান খানের স্বরণসভাও। তবে কসবা উপজেলায় এখনো সুবিধা করতে পারেনি তার সমর্থকরা। মুশফিকুরের একক আধিপত্যেই চলছে সেখানকার বিএনপির রাজনীতি। নাছির উদ্দিন হাজারীর অনুসারি আখাউড়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল ফারুক বকুল বলেন, সাবেক সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান এপিএস কেন্দ্রীক রাজনীতি করেন। তাছাড়া তিনি পকেট কমিটি গঠনে ওস্তাদ। অন্যদিকে নাসির উদ্দিন হাজারি স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ফলে আমরা বিশ্বাস করি সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হতে দল তাকে মুল্যায়ন করবে। এ বিষয়ে আখাউড়া উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল বলেন, আখাউড়ায় মুল দলসহ অঙ্গসংগঠনগুলো সাংগঠনিকভাবে খুব শক্তিশালী। আমরা আশাকরি আগামীতে মুশফিকুর রহমনাকেই দল মনোনয়ন দেবে এবং তিনি বিজয় ছিনিয়ে আনবেন। তাছাড়া পকেট কমিটি গঠনের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, কমিটি গঠনে ভোটাভোটি না হলেও নেতাকর্মীদের মতামত নিয়েই গঠন করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,আমাদের মধ্যে অন্তদ্বন্দ থাকতে পারে কিন্তু কোন গ্রুপিং নেই। কসবা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো.ইকলিল আজম বলেন, কসবায় আন্দোলনের মুখে গ্যাস সংযোগের প্রাথমিক কাজ শুরু করলেও তার সুষ্ঠ সমাধান হয়নি। তাছাড়া মুশফিকুর রহমানের নেতৃত্বে উপজেলা বিএনপি ঐক্যবদ্ধ আছে। তিনি নিয়মিত আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন। অন্য অনেকের এম.পি নির্বাচন করার বাসনে থাকতে পারে তবে এখানে তাদের কোন তৎপরতা চোখে পড়েনা। নাছির উদ্দিন হাজারী বলেন,কমিটি গঠনে মুশফিকুর রহমানের ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ আছে। দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে কথা না বলে তিনি পিয়ন-চাপরাসী নিয়ে রাজনীতি করেন। তবে নানান কারণে মুশফিকুর রহমান এখন আতঙ্কে রয়েছেন বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, দল তরুণ নেতৃত্বে বিশ্বাস করছে। ফলে আমাকেই মনোনয়ন দিবে বলে আশা করি। তাছাড়া ঈদের পর পর কসবাসহ বিভিন্ন স্থানে তিনি ব্যাপক কর্মসূচী দিবেন বলে জানান। এদিকে মুশফিকুর রহমান দেশের বাইরে থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
জাতীয় পার্টিঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিকভাবে মনোনিত হয়েছেন কেন্দ্রীয় সদস্য আলহাজ সেলিম মাস্টার। কসবা উপজেলা সহ-সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মো.জহিরুল হক খান ও উপদেষ্ঠা খুরশিদ মাস্টার কাজ করছেন তার হয়ে। তবে উপজেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট হারুণ অর রশিদ খান, সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক সহ একটি বড় অংশ প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জেলা সভাপতি জাহাঙ্গির মোহাম্মদ আদেলের অনুসারি হওয়ায় বেকায়দায় তিনি। তাছাড়া ইতিমধ্যে তাকে প্রতিহতের ঘোষনা দিয়েছেন তারা। তবে অভিযোগ আছে আদেল নির্বাচনী এলাকায় আসেন না। গত নির্বাচনে এই আসনে মহাজোটের প্রার্থী হতে জাহাঙ্গির মোহাম্মদ আদেল এবং সেলিম মাস্টার দুইজনই চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষে আওয়ামীলীগই পায় আসনটি। অন্যদিকে আখাউড়ার নেতাকর্মীরা সেলিম মাস্টারের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকলেও সেখানে সংগঠনের কার্যক্রম নেই বললেই চলে। গত পৌরসভা নির্বাচনে দল থেকে আক্তার হোসেনকে প্রার্থী করা হলেও বর্তমান আহবায়ক নজরুল হক ধনুসহ অনেকে সরাসরি কাজ করেন আওয়ামীলীগের বিদ্রুহী প্রার্থীর হয়ে। পরে এ নিয়ে জেলা কমিটি আহবায়ককে শোকজও করে। এ বিষয়ে কসবা উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক বলেন, সেলিম মাস্টার সাংগঠনিকভাবে নয় নিজের মত করে কাজ করে যাচ্ছেন। যা দলের জন্য ভালো হবে না। পক্ষান্তরে জাহাঙ্গির মোহাম্মদ আদেল অনেক পরীক্ষিত রাজনীতিবিদ। ফলে আমরা মনে করি তাকে মনোনয়ন দিলে আগামী নির্বাচনে ভালো ফল আসবে। কসবা উপজেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি মো.জহিরুল হক খান বলেন, আদেল সাহেবের অনেক বয়স হয়েছে। এলাকায় আসা একরকম ছেড়েই দিয়েছেন। ফলে সেলিম মাস্টারই এখানে যোগ্য প্রার্থী। এ ব্যাপারে জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গির মোহাম্মদ আদেল বলেন,একটি সভায় এরশাদ বলেছেন আপনারা মাঠে কাজ শুরু করেন। ৬ মাস পর কাজ দেখে দল মনোনয়নের বিষয়টি মূল্যায়ন করবে। এতে যদি কেউ নিজেকে প্রার্থী হিসেবে চুড়ান্ত মনে করে তাহলে কিছু করার নেই। তবে আমি মনে করি শেষ পর্যন্ত দল আমাকেই মনোনয়ন দেবে। সেলিম মাস্টার দেশের বাইরে থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে কসবায় রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর অনেক ভোটার। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর বর্তমানে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য নজরুল ইসলাম খাদেম পরিচিত। এদিকে এবার জাকের পার্টিও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। জাকের মঞ্জিলের নিজস্ব আশেকান রয়েছে কসবা আখাউড়া । কেন্দ্রীয় হুকুম পেলে এ আসনে প্রতিদ্বন্ধিতা করতে প্রস্তুতি নিয়েছেন জাকের পার্টির কেন্দ্রীয় বাস্তুহারা ফ্রন্টের প্রচার সম্পাদক ও জেলার সিনিয়র সহ সভাপতি খ.ম হারুনুর রশীদ ঢালী । তিনি জানান , জাকের পার্টির মেঝ ভাইজান যে নির্দেশ দেন সে নির্দেশই কাজ করবো। এছাড়া অন্য কোন দলের তেমন নড়াচড়া নেই কসবা আখাউড়ায়। নির্বাচন কবে হবে এটা নিশ্চিত না হলেও এলাকার ভোটারদের মাঝে প্রার্থী নিয়ে এ এলকায় কৌতুহল অনেক। বাজার , চায়ের দোকান সহ বিভিন্ন স্থানে মানুষ আলাপচারিতায় নির্বাচন প্রসঙ্গ নিয়ে আসছে আগে ভাগেই। তবে এলাকার মানুষ বিগত দিনে অনেক প্রতিশ্রুতি শুনেছে কিন্তু তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় হতাশ হয়েছেন। এলাকার জন্য যারা কাজ করবে , এলাকাবাসীর কাছাকাছি যারা থাকবে, খোজ খবর যারা নেবে এবং প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে সেই প্রার্থীকে ভোট দিতে আগ্রহী ।

আরিফুল ইসলাম সুমন, স্টাফ রিপোর্টার

Check Also

দেবিদ্বারে অগ্নিকান্ডে ১কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

দেবিদ্বার প্রতিনিধিঃ– কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামে রান্না ঘরের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরনে ১৫টি ...

Leave a Reply