নাসিরনগরে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শিক্ষিকাকে হয়রানীর অভিযোগ

নাসিরনগর / ১১ নভেম্বর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)———-
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ ইসহাক মিয়ার বিরুদ্ধে চাহিদা অনুযায়ী সেলামী না দেয়ার কারণে নীলিমা আক্তার নামে এক শিক্ষিকাকে বার বার বদলী করে হয়রানী করার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিকার চেয়ে শিক্ষিকার স্বামী মোঃ ওবায়দুল হক জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নাসিরনগর সদরের বাসিন্দা নীলিমা আক্তার ২০০৭ সালে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে ধরমন্ডল নতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ পায়। পরে ধরমন্ডল নতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তিলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাকে বদলী করা হয়। নাসিরনগর সদর থেকে দূরবর্তী হওয়ায় তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তার(বর্তমানে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ) সাথে ১০ হাজার টাকা উৎকোচের বিনিময়ে রফাদফার মাধ্যমে নীলিমা আক্তারকে নাসিরনগর সদরের কুলিকুন্ডা উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলী করা হয়। কিন্তু বিধি বাম। তখন উক্ত শিক্ষিকা ৪ হাজার টাকা দিলেও বাকি ঘুষের ৬ হাজার টাকা দেয়নি । বাকি টাকার জন্য সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ ইসহাক মিয়া শিক্ষিকা নীলিকা আক্তারকে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে ও হুমকি দেয় দূরবর্তী স্থানে বদলী অথবা ডেপুটেশনে শায়েস্তা করা হবে। যে কথা সেই কাজ কুলিকুন্ডা উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুরুষ শিক্ষক ও কনিষ্ঠ মহিলা শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের স্ব এলাকায় নিয়োগে অগ্রাধিকারের নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে নীলিমা আক্তারকে টেকানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রেষণে বদলী করে ১৮ অক্টোবর যোগদানের আদেশ দেয়া হয়। তিনি উক্ত তারিখে টেকানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান না করায় ০৭-১১-২০১২ (স্মারক নং-জেপ্রাশিঅ/ব্রাহ্মণবাড়িয়া/২০১২/৭২২(৩)তারিখে শিক্ষিকা নীলিমা আক্তারের এহেন কার্যকলাপের জন্য ভবিষ্যতের জন্য সর্তক করা হল মর্মে উপজেলা শিক্ষা কর্তকর্তা মোঃ শাহিনুর ইসলাম মজুমদারের স্বাক্ষরিত পত্র দেয়া হয়েছে। উক্ত শিক্ষিকা একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও পিত্তথলির অপারেশনের রোগী। একথা গত ২৯/১০/২০১২ তারিখে লিখিতভাবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানোর পরও তার সহযোগিতায় তাকে বদলী করা হয়েছে। এর প্রতিকার চেয়ে ৮ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের বরাবরে শিক্ষিকা স্বামী মোঃ ওবায়দুল হক লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। তিনি অভিযোগে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ ইসহাক মিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ ইসহাক মিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে তার বিরুদ্ধে আনীত উৎকোচের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান নিয়ম অনুযায়ী তাকে বদলী করা হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা কর্তকর্তা মোঃ শাহিনুর ইসলাম মজুমদার জনান,এবিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরিফুল ইসলাম সুমন

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply