ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৫ দিনে ১৭ খুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া / ৪ নভেম্বর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)———-
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তুচ্ছ বিষয় নিয়ে গত ২৫ দিনে পৃথক ঘটনায় এক আওয়ামী লীগ নেতা সহ ১৭ ব্যক্তি খুন হয়েছেন। এসব খুনের ঘটনায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বাড়ি-ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা খুনের ঘটনায় এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ অব্যাহত রয়েছে। এ খুনের পরিকল্পনার সাথে এক পুলিশ অফিসার জড়িত বলে নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ১ নভেম্বর প্রেম সংক্রান্ত ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে অটোরিকশা চালক রুবেল মিয়া (২৩) কে পিটিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। একই দিনে ডেসটিনির আমানতের টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে কসবা উপজেলার আকছিনা কোল্লাবাড়ির আবু তাহের (৬০) নামে এক ব্যক্তি প্রতিপক্ষের হামলায় খুন হয়েছেন। অপরদিকে একই দিন সকালে কসবা উপজেলার নেয়ামতপুর গ্রামের মৃত মদন আলীর ছেলে ইমাম হোসেন (৫৫) জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষে নিহত হন। গত ৩০ অক্টোবর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে বিরোধের জের ধরে নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল ইউনিয়নের সাইয়াউক গ্রামের দু’দলের সংঘর্ষে বাচ্চু মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন। একই দিনে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বাড়িউড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি ধানী জমি থেকে অজ্ঞাত (৩৫) পরিচয়ের এক নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করেছে পুলিশ। গত ২৯ অক্টোবর কসবা উপজেলার তালতলা নামক স্থানে জমি বিরোধ নিয়ে এক শালিস সভায় প্রতিপক্ষের হামলায় জসীমউদ্দিন (৫২) নামক এক ব্যক্তি নিহত হন। ২৮ অক্টোবর সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের কাটানিসার এলাকায় প্রবাস ফেরত চাচাত ভাইয়ের হাতে অপর চাচাত বড় ভাই হাবিবুর রহমান (৪০) খুন হন। পুলিশ জানিয়েছে, জায়গার বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। সদর উপজেলার সাদেকপুর গ্রামে দুই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরোধের জের ধরে নাছির মিয়া নামে ব্যক্তি নিহত হন। ২৫ অক্টোবর নাসিরনগর উপজেলার গুনিয়াউক গ্রামে হুরন আলী (৫৫) নামক এক ব্যক্তি খুন হয়েছেন। ২১ অক্টোবর নিজ দলের লোকদের হামলায় সরাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি এ কে এম ইকবাল আজাদ (৪৫) নৃশংসভাবে খুন হন। পুলিশ জানিয়েছে, দলীয় অন্তকোন্দলের জের ধরেই এ খুন। নিহতের পরিবার অভিযোগ করেন, এ খুনের পরিকল্পনা হয় সরাইল থানা কম্পাউন্ডে। এর সাথে ওসি গিয়াস উদ্দিন জড়িত। এ খুনের ঘটনায় ওসি গিয়াস উদ্দিনকে সরাইল থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ১৯ অক্টোবর কসবা উপজেলার বাদৈর ইউপির হাতুরাবাড়ি গ্রমের রিকশা চালক মোঃ মনির হোসেন(২৭)কে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাতে খুন করে প্রতিপক্ষরা। ১৮ অক্টোবর বিদেশ যাবার একদিন পূর্বে সুমন কর্মকার(৩৫) নামক একব্যক্তির ক্ষতবিক্ষত লাশ পুলিশ উদ্ধার করে শহরের সরকারি কলেজ সংলগ্ন রেলগেইট এলাকায় রেললাইনের পাশ থেকে। নিহত সুমন শহরের কান্দিপাড়া মহল্লার সুনীল কর্মকারের ছেলে। ১৭ অক্টোবর বিজয়নগর উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামে সম্পত্তির বিরোধের জের ধরে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন হন। নিহতের নাম অনু মিয়া (৪২)। ১৪ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের প্রাণকেন্দ্র কোর্ট রোডে ফুটপাতে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে হামলায় খুন হন ফল ব্যবসায়ী সুমন মিয়া। তিনি শহরতলীর বিরাসার গ্রামের জজ মিয়ার পুত্র। ১০ অক্টোবর সরাইলের গলানিয়া শ্বশুড়বাড়ির এলাকায় সৌদি আরব প্রবাসী এক নারীর স্বামী খুন হন। নিহতের নাম মো. সাত্তার মিয়া (৩০)। পিতার নাম মৃত আরজু মিয়া। তার বাড়ি জেলার নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামে। এলাকাবাসী জানান, পুলিশ এ খুনের রহস্য এখনও বের করতে পারেনি। একই দিনে আখাউড়া পৌরশহরের রাধানগর বনিক পাড়ায় নজরুল ইসলাম (৩০) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি কসবা উপজেলার লতামোড়া গ্রামের মৃত সিরাজ মিয়ার পুত্র। ৮ অক্টোবর বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তী এলাকায় একটি পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় গাজীপুর জেলার রঞ্জিত রবি দাস নামক একজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রঞ্জিত দাস ঘটনার দু’দিন আগ থেকেই নিখোঁজ ছিল ।

(আরিফুল ইসলাম সুমন, স্টাফ রিপোর্টার)

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply