কুমিল্লা-২ (তিতাস-হোমনা) নির্বাচনী এলাকার সীমানা বিন্যাস নিয়ে চলছে পোস্টারিং ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচী

তিতাস / ৪ নভেম্বর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)———-
কুমিল্লা-২ (তিতাস-হোমনা) নির্বাচনী এলাকার সীমানা বিন্যাস নিয়ে পোস্টারিং ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচী চলছে দু’টি উপজেলার সর্বত্র। সীমানা পুনঃনির্ধারনের জন্য নির্বাচন কমিশনে অর্ধশতাধিক আবেদন জমা ও সীমানা বহাল রাখার পক্ষে গণস্বাক্ষর বিষয়টি এখন টফ অব দ্যা তিতাস ও হোমনাতে পরিণত হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৮ সালের ২২ জুন কুমিল্লা সার্কিট হাউসে আপত্তি শুনানী শেষে ২০০১ সালের আদম শুমারী প্রতিবেদন, ২০০৮ সালের ভোটার তালিকা অনুযায়ী ভোটার সংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা, প্রশাসনিক সুবিধা ও জনমত বিবেচনা করে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত নির্বাচন কমিশন নবগঠিত তিতাস ও হোমনা উপজেলা সমন্বয়ে কুমিল্লা-২ এবং দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলা সমন্বয়ে কুমিল্লা-১ নির্বাচনী এলাকা পুনঃনির্ধারণ করে এবং সেই মোতাবেক নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২৪৯ কুমিল্লা-১ দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ ২৩টি, ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১১৬টি, জনসংখ্যা ৪,৬২,৩৬৩ জন, ভোটার সংখ্যা ২,৫৮,২৮৩ জন যার মধ্যে দাউদকান্দি উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ ১৬টি, ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৮৩টি, জনসংখ্যা ৩,৪৯,৯১০ জন, ভোটার সংখ্যা ১,৯৫,৪৯৬ জন। অপরদিকে তিতাস ও হোমনা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ ১৯টি, ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৮৮টি, জনসংখ্যা ৩,৯১,০০৩ জন, ভোটার সংখ্যা ২,১২,০২০ জন, যার মধ্যে তিতাস উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ ৯টি, ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২টি, জনসংখ্যা ১,৮৪,৬১৭ জন, ভোটার সংখ্যা ১,০০,২১৮ জন। দাউদকান্দির সাথে তিতাসকে সংযুক্ত করা হলে ইউনিয়ন পরিষদ ২৫টি, ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১২৫টি, জনসংখ্যা ৫,৩৪,৫২৭ ও ভোটার সংখ্যা ২,৯৫,৭১৪ জনে গিয়ে দাঁড়ায়। অর্থ্যাৎ কুমিল্লা-১ ও কুমিল্লা-২ নির্বাচনী এলাকা অপেক্ষা ৪টি ইউনিয়ন পরিষদ, ২৮টি ভোটকেন্দ্র, জনসংখ্যা ৭১,৩৬০ জন এবং ভোটার সংখ্যা ৪৬,২৬৩ জন বেশি। ভবিষ্যতে যদি দাউদকান্দি-তিতাস (কুমিল্লা-১) এবং হোমনা-মেঘনা (কুমিল্লা-২) উপজেলাকে অর্ন্তভূক্ত করা হয় কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-তিতাস) নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লা-২ (হোমনা-মেঘনা) অপেক্ষা ৮টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৬টি ভোটকেন্দ্র, জনসংখ্যা ২,১৫,৬৮৮ জন এবং ভোটার সংখ্যা ১,২১,১২৫ জন বেশী হবে।
তর্কের খাতিরে কেউ যদি প্রশ্ন করেন, দাউদকান্দি ও তিতাসতো পূর্বে একই উপজেলা ছিল। তাহলে দাউদকান্দি ও তিতাস উপজেলাকে একত্রিত করে একটি নির্বাচনী এলাকা করতে আপত্তি কোথায়? সেক্ষেত্রে এটুকু বলা যায়, একটি পৌরসভাসহ ২৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে বাংলাদেশের বৃহত্তর কয়েকটি উপজেলার মধ্যে দাউদকান্দি উপজেলা ছিল। জনগণের নিকট অধিকতর সেবা পৌছানোর লক্ষ্যে, প্রশাসনের স্বার্থে ও জনমতের ভিত্তিতে বৃহত্তকারের দাউদকান্দি উপজেলাকে দ্বিখন্ডিত করে দাউদকান্দি ও তিতাস নামে আলাদা উপজেলা সৃষ্টি হয়। যে সমস্ত কারণে বৃহৎ দাউদকান্দিকে দ্বিখন্ডিত করে দুটো উপজেলা সৃষ্টি করা হয়েছিল সে সমস্ত কারণেই দাউদকান্দি ও তিতাস উপজেলাকে একত্রিত করে পুনরায় বৃহতাকারের কুমিল্লা-১ নির্বাচনী এলাকা পুনঃগঠন করা যৌক্তিক হবে না বলে মনে করেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ।

(দ্বিতীয় পর্ব আগামীকাল প্রকাশিত হবে)

নাজমুল করিম ফারুক
তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply