সরাইলে ২০ দিনে চারজন খুন : আতঙ্ক

সরাইল / ৩১ অক্টোবর (কুমিল্লাওয়েব ডটকম)———-
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে গত ২০ দিনে চারজন খুন হয়েছেন। এরমধ্যে একটি খুনের সাথে পুলিশ জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। এ খুনের ঘটনায় এলাকায় অর্ধশতাধিক ঘর-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। অনেকে জ্বলছে ক্ষোভের আগুনে। গত ক’দিনে একেরপর এক খুনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলার অনেক এলাকায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না। রাত ১০টার মধ্যে উপজেলা সদরের প্রায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে পড়ে। রাস্তা-ঘাট হয়ে যায় ফাঁকা। ১১টার পর জনশূন্য উপজেলা সদরে এক ভূতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এদিকে উপজেলা প্রশাসন পাড়ায় চলছে সুনসান নীরবতা। সরকারী দফতরগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি থাকলেও লোকসমাগম খুবই কম।
গতকাল বুধবার একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, খুনের ঘটনার পর থেকে উপজেলা পরিষদে লোকজন তেমন আসছেন না। সব স্থানে নীরবতা। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝেও এক অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এদিকে খুনের ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী রাজনীতিতে সুনামি আঘাত হেনেছে। উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের সকল কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ আওয়ামীলীগের আরো কয়েকজন নেতা-কর্মী খুনের মামলায় আসামি হয়েছেন। তাদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয় আওয়ামীলীগের সকল নেতা-কর্মী, সমর্থক ও উপজেলার নানা শ্রেণী পেশার মানুষ উত্তেজিত হয়ে প্রতিদিনই সভা-সমাবেশ সহ নানান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ অক্টোবর সকালে উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বাড়িউড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি ধানী জমি থেকে অজ্ঞাত (৩৫) পরিচয়ের এক নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করেছে পুলিশ। ২৮ অক্টোবর সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের কাটানিসার এলাকায় প্রবাস ফেরত চাচাত ভাই মলাই মিয়ার (২৪) হাতে অপর চাচাত বড় ভাই হাবিবুর রহমান (৪০) খুন হন। পুলিশ জানিয়েছে, জায়গার বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। ২১ অক্টোবর সরাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের বিরোধের জের ধরে নিজ দলের লোকদের হাতে উপজেলা সহ সভাপতি এ কে এম ইকবাল আজাদ (৪৫) খুন হন। পুলিশ জানিয়েছে, দলীয় অন্তকোন্দলের জের ধরেই এ খুন। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ইকবাল আজাদকে খুন করা হয়েছে। এ খুনের পরিকল্পনা হয় সরাইল থানা কম্পাউন্ডে। এর সাথে ওসি গিয়াস উদ্দিন জড়িত। এদিকে এ খুনের ঘটনায় ওসি গিয়াস উদ্দিনকে সরাইল থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। গত ১০ অক্টোবর সরাইলের গলানিয়া শ্বশুড়বাড়ির এলাকায় সৌদি আরব প্রবাসী এক নারীর স্বামী খুন হন। নিহতের নাম মো. সাত্তার মিয়া (৩০)। পিতার নাম মৃত আরজু মিয়া। তার বাড়ি জেলার নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামে। এলাকাবাসী জানান, পুলিশ এ খুনের রহস্য এখনও বের করতে পারেনি।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার চক্রবর্তী জানান, এসব খুনের ঘটনায় পুলিশ তৎপর রয়েছে। খুনের মামলার তদন্ত চলছে। এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার জামিল আহমেদ জানান, হত্যা মামলাগুলো বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি নিজেও দিনভর এসব নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যেই সরাইলে একজন দক্ষ পুলিশ কর্মকর্তাকে ওসির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আসামী গ্রেপ্তারে পুলিশ মোবাইল ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে চেষ্টা করে যাচ্ছে।

আরিফুল ইসলাম সুমন

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply